Alokito Sakal
এবার অনুমতি পেলেন সাকিব
বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৫:৪৬ AM
Alokito Sakal Alokito Sakal :

সময় বদলায়, বদলায় দৃষ্টিভঙ্গিও। বদলেছে সাকিব আল হাসানের ক্ষেত্রেও। তা এমনই যে পাঁচ বছর আগে যা ‘অপরাধ’ বলে গণ্য হয়েছে ক্রিকেট প্রশাসকদের কাছে, সেটিই এখন খুব সাধারণ ব্যাপার বলে মনে হতে শুরু করেছে। অথচ এই অলরাউন্ডারের গন্তব্য কিন্তু সেই একই!

২০১৪ সালেও গিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে। যদিও পুরোটা পথ যেতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পথে লন্ডন পর্যন্ত যাওয়ার পর তাঁকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য করা হয়েছিল। জাতীয় দলের অনুশীলন শিবির বর্জন করে অনাপত্তিপত্র ছাড়াই সিপিএল খেলতে যাওয়ার শাস্তি হিসেবে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞাও জুটেছিল ওই বছরের জুলাইয়ে। পাঁচ বছর পর সেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডই (বিসিবি) পারলে সাকিবকে সিপিএল খেলার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফ্লাইটে তুলে দেয়!

এমন সময়ে তাঁকে সিপিএলে খেলতে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, যখন ভারত সফর দিয়ে নভেম্বরে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ঢুকে পড়ার আগে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে অবস্থা সুবিধার নয় বাংলাদেশের। দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের কাছে চট্টগ্রাম টেস্টে হারার পর বিসিবিও নড়েচড়ে বসেছে। ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রতিযোগিতা জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল)। তাতে জাতীয় ক্রিকেটারদের খেলাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মোটামুটি এটিই ঠিক হয়ে আছে যে সবাই অন্তত দুটো করে রাউন্ড খেলবেন। এরপর ২১ অক্টোবর থেকে ভারত সফরের প্রস্তুতি শিবির শুরু হওয়ারও কথা আছে।

সিপিএলে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের হয়ে খেলতে সাকিব আজই চলে গেলে তাঁর নিশ্চিতভাবেই এনসিএলের শুরু থেকে খেলা হবে না। আর তাঁর দল যদি ১২ অক্টোবরের ফাইনালে খেলে, তাহলে তো দেশে ফিরে প্রস্তুতি শিবিরের আগে এনসিএল খেলার ফুরসতও মিলবে না তেমন। অথচ টেস্ট প্রস্তুতির প্রয়োজন কম নেই অধিনায়কেরও। চট্টগ্রামে আফগানদের বিপক্ষে টেস্টের শেষ দিনে যখন ১৮ ওভারের কিছু বেশি পার করে দিলেই ম্যাচ ড্র হয়, সেখানে হারের পেছনে তাঁর দায়িত্বহীন শটেরও দায় কম নয়। এ অবস্থায় আর সবার জন্য এনসিএল খেলা বাধ্যতামূলক হলেও সাকিবের ক্ষেত্রে তা নয়।

না হওয়ার কারণ সর্বশেষ বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্সই সম্ভবত। ৬০৬ রান করার পাশাপাশি ১১ উইকেট নেওয়া সাকিবের ব্যাটে-বলে সময় ভালো যাচ্ছে বলেই হয়তো ‘আলাদা’ বন্দোবস্ত তাঁর জন্য। নেপালি লেগস্পিনার সন্দীপ লামিছানের জায়গায় সাকিবকে উড়িয়ে নিচ্ছে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস। জাতীয় লিগ না খেলে তাঁকে সিপিএলে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যাখ্যায় বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান আকরাম খান বলতে চাইলেন, ‘কারণটি আপনি বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে জানতে পারতেন। এনওসি (অনাপত্তিপত্র) কিন্তু উনিই দেন। তার পরও ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান হিসেবে ব্যাখ্যাটি আমিই দিচ্ছি। দেশের কমিটমেন্ট না থাকলে ভালো মানের খেলায় আমরা সাধারণত ছাড়পত্র দিয়ে থাকি। এর মধ্যে সিপিএলও আছে। যদি দেশের খেলা থাকে, তাহলে আমরা দিই না। যেমন এর আগে আফিফকে দেওয়া হয়নি।’

ভালো মানের খেলা, তবে সিপিএল দিয়ে নিশ্চয়ই টেস্টের প্রস্তুতি সারা যাবে না? সেটি মেনেও আকরাম সিপিএল খেলাকেই সাকিবের জন্য শ্রেয়তর বলতে চাইলেন, ‘এনসিএলে অনেকেই খেলবে। তামিম ছুটি কাটিয়ে ফিরেছে। ওকে খেলতে হবে। খেলতে হবে অন্যদেরও। তবে সাকিবের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আলাদা। যেটি বলছিলাম, ভালো মানের টুর্নামেন্ট হলে আমরা খেলতে দিই। তা ছাড়া টি-টোয়েন্টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয় আমাদের জন্য। সামনে তো টি-টোয়েন্টিরও বিশ্বকাপ আছে। সাকিব খেললে তো প্রস্তুতি হবে সেটিরও।’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২০ সালের অক্টোবরে। আর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ এ বছরেরই নভেম্বরে। কোনটির প্রস্তুতি আগে নেওয়া দরকার বলে মনে করছেন ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যান!

অবশ্য সিপিএল ভালো টুর্নামেন্ট বলে সাকিবকে ছাড়পত্র দিয়ে পরোক্ষে আকরাম যেন স্বীকারই করে নিলেন যে জাতীয় লিগের গুণগত মানে ঘাটতি রয়েছে! আফগানিস্তান টেস্টের সময় সাকিব নিজেও বলেছিলেন যে চার-পাঁচ বছর এনসিএল না খেলে তাঁর তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আকরামের বক্তব্যে স্পষ্ট যে এর সঙ্গে দ্বিমত নেই তাঁদেরও, ‘সিপিএলের প্রস্তাব তো খুবই ভালো ব্যাপার। না করা যায় না। এমন যদি হতো যে সাকিব না খেলে বসে আছে, সেটি আমরা কোনো দিনই অনুমোদন করতাম না। সাকিব তো বসে থাকতে যাচ্ছে না, খেলতেই যাচ্ছে।’