Alokito Sakal
১৬ বছরের কিশোরীর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ ০৪:০৬ PM
Alokito Sakal Alokito Sakal :

হয়ত গল্পটা রূপকথার না, আবার বলতে গেলে রূপকথারই গল্প। ১৬ বছরের কিশোরী রাইদা ইসলাম। পড়াশোনায় সবে মাধ্যমিকের চৌকাঠ পার হয়েছে। ইতোমধ্যেই স্বপ্নের হাতছানিকে ছুঁয়ে দেখতে নিজের নাম লিখিয়েছে উদ্যোক্তার তালিকায়। রাইদার গল্প জানাচ্ছে তানজিদ শুভ্র…


বগুরা জেলার শেরপুরে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে স্কুল শিক্ষক বাবা আর গৃহিনী মায়ের ঘরে জন্মগ্রহণ করে রাইদা ইসলাম। বাবা-মায়ের আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের সাথে ছোটবেলা থেকেই যুক্ত হয় পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য রাইদা। সাড়ে ৩ বছর বয়সে একটি রং পেন্সিল কোম্পানির সৌজন্যে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে স্থান করে নেয় বিজয়ীদের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে। শখের বশে নাচ শিখে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে কিশোরী রাইদার।
রং পেন্সিলের আঁচড় ভুলতে না পেরে পূর্ণ মনযোগ দিয়েছে আঁকাআঁকিতে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজের নাম লিখিয়েছে উদ্যোক্তার তালিকায়। সোশ্যাল নেটওয়ার্কের যুগে “Rupkothas World” নামে ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে ফেসবুক মার্কেটিং এ নিজের উদ্যোক্তা পরিচয় তুলে ধরেছে রাইদা। উদ্যোক্তা হওয়ার ভাবনার সূচনা জানতে চাইলে রাইদা জানায়, “৯ম শ্রেনীতে পড়ার সময় অনলাইন থেকে একটি কাঠের গহনা কিনি এবং আমার মা আমাকে বলেন- তুমিও তো বানাতে পারবে। তারপর থেকেই ভাবনা শুরু। নিজের স্বপ্নকে পথ দেখাতে Rupkothas World নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করি।” Rupkothas World এ পাওয়া যায়- কাঠের গহনার পাশাপাশি হাতে পেইন্ট করা কামিজ, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবী এবং কুশন কভার।


রাইদা তার কার্যক্রম সম্পর্কে জানায়, “এই ধরনের কাজ আমার মতো বয়সের খুব একটা কেউ করে না। এজন্য শুরুতে ভয়ে ছিলাম যে আমার থেকে কেউ নিবে কি না। কিন্তু সাহস করে কাঠের গহনা তৈরির কাঁচামাল এনে সব কিছু নিজ হাতে করি। এরপর কাঠের গহনার পাশাপাশি হাতে পেইন্ট করা কামিজ, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবী এবং কুশন কভার বানানো শুরু করি।”
গত ঈদুল আযহায় সাড়া ফেলে রাইদার Rupkothas World-এর কার্যক্রম। গ্রাহকের সাড়া নিয়ে হাসিমুখে রাইদা বলে, “আশা করি নি গ্রাহকের থেকে এত সাড়া পাবো। গতবছর কোরবানি ঈদে সফল ভাবে সবকিছু করতে পারেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ভালো সাড়া প্রাপ্তি আশা করছি।”
শখ থেকে শুরু করা কাজের মূল অনুপ্রেরণা দিয়েছে মা রায়হানা পারভীন আর সহায়তা পেয়েছেন বাবা রফিকুল ইসলাম রঞ্জুর ড্রয়িং প্রতিষ্ঠান থেকে। নিজের প্রাপ্তি নিয়ে বলতে গিয়ে রাইদা বলে, “এক বছরেই গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে সফল নারী উদ্যোক্তার খাতায় নাম লেখাতে পেরেছি এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তাছাড়া পরিবারের সবাই আমার কাজে খুব খুশি। সকল শিক্ষকও আমার এই কাজের প্রশংসা করেছেন।”
রাইদা ইসলাম চলতি বছর শেরপুর সামিট স্কুল এন্ড কলেজ এর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ভবিষ্যতে চারুকলায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ আর Rupkothas World এর প্রসারের স্বপ্ন দেখে ১৬ বছরের কিশোরী উদ্যোক্তা রাইদা ইসলাম।