Alokito Sakal
আজ ৬ ডিসেম্বর নবীগঞ্জ মুক্ত দিবস
শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ১১:২৪ AM
Alokito Sakal Alokito Sakal :

আজ ৬ ডিসেম্বর নবীগঞ্জ মুক্ত দিবস। এই দিনে পূর্বাকাশের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধারা পাক বাহিনীদের হটিয়ে দিয়ে মুক্ত করেছিল নবীগঞ্জ শহরকে।
৩দিনের সম্মুখ যুদ্ধের পর সেদিন সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ আগে নবীগঞ্জ থানা সদর হতে পাক হানাদার বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে বিতাড়িত করে মুহুমুর্হু গুলি ও জয় বাংলা শ্লোগানের মধ্যে বীরদর্পে এগিয়ে আসে কয়েক হাজার মুক্তিকামী জনতা।
এ সময় মাহবুবুর রব সাদীর নেতৃত্বে থানা ভবনে উত্তোলন করা হয় বাংলাদেশের পতাকা। পরে স্থানীয় ডাকবাংলো সম্মুখে হাজার হাজার জনতার আনন্দে উদ্বেলিত ভালবাসায় সিক্ত মাহবুবুর রব সাদী আবেগ জড়িত কণ্ঠে স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন এবং ওই দিন বিকালে বাহিনীসহ সিলেট রওয়ানা দেন।

৬ ডিসেম্বর নবীগঞ্জ মুক্ত হওয়ার পূর্ব থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। বিভিন্ন সময় পাক বাহিনীর উপর গেরিলা হামলা চালিয়ে তাদের ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখে মুক্তি সেনারা। কৌশলগত কারণে নবীগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা নবীগঞ্জ থানা দখলের সিদ্ধান্ত নেয়। নবীগঞ্জে পাক বাহিনীর অন্যতম ক্যাম্প নবীগঞ্জ থানাকে লক্ষ্য করে তিনদিকে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নেয়। ৩ ডিসেম্বর রাত থেকে ক্ষণে ক্ষণে গুলি বিনিময় চলে উভয়ের মধ্যে। মুক্তিযোদ্ধারা কৌশলগত কারণে ও আত্মরক্ষার্থে কখনোও পিছু হটা, আবার কখনোও আক্রমণ চালিয়ে পাক বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করতে থাকে। সারাদেশে পাক বাহিনীর অবস্থান খারাপ হওয়ায় নবীগঞ্জেও তাদের খাদ্য এবং রসদ সরবরাহ কমে যায়। অন্যদিকে মুক্তিবাহিনী একেক সময়ে একেক দিক দিয়ে আক্রমণ চালিয়ে যায়।

৪ ডিসেম্বর রাতে থানা ভবনের উত্তর দিকে রাজনগর গ্রামের নিকট থেকে মুক্তিযোদ্ধা রশিদ বাহিনী পাক বাহিনীর উপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়। এ যুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী কনিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ধ্রুব ৪ ডিসেম্বর শহীদ হন। পরদিন ৫ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা চরগাঁও ও রাজাবাদ গ্রামের মধ্যবর্তী শাখা বরাক নদীর দক্ষিণ পাড়ে অবস্থান নেয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা ব্যাপী প্রচণ্ড যুদ্ধের পর শক্র বাহিনী পালিয়ে যায়। পরদিন ৬ ডিসেম্বর কাক ডাকা ভোরে পাক বাহিনীকে হটিয়ে মুক্তিবাহিনী বীরদর্পে জয়বাংলা শ্লোগানের মধ্য দিয়ে থানা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে নবীগঞ্জ উপজেলাকে মুক্ত ঘোষণা করেন। এদিকে, গত ৪ ডিসেম্বর বুধবার ছিল মুক্তিযোদ্ধের অকুতোভয় বীর সেনানী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ধ্রুব’র ৪৮ তম শাহাদাত বরন দিবস।
১৯৭১ সালের এই দিনে নবীগঞ্জ শহর মুক্ত করতে পাক হানাদারদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন এই বীর সেনানী। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এই বীর শহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কিংবা তার শাহাদাত বার্ষিকী পালন করতে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।

অযত্ন আর অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে এই বীর সেনানীর শেষ স্মৃতি সমাধিটুকু। নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক আলহাজ্ব ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম জানান, শহীদ ধ্রুব সমাধিস্থল সনাক্ত করা যায়নি বলে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের ভিতরে ধ্রুব’র সমাধিস্থল সনাক্ত করে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন। নবীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব রত্ন দীপ দাশ রাজু জানান, শহীদ ধ্রুব ছিলেন কুলাউড়া উপজেলার মনিপুরী সম্প্রদায়ের একজন চা শ্রমিক। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান থাকলেও আজও একজন শহীদের কবর সনাক্ত না করতে পারাটা দুঃখজনক। হবিগঞ্জ-১ নবীগঞ্জ বাহুবল আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আহবান জানাই শহীদ ধ্রুবর কবর সনাক্ত করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও মুক্তিযোদ্ধা চত্বর নির্মান করে দেয়ার দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

আলোকিত সকাল /আবির