Alokito Sakal
কাপাসিয়ায় কৃষকের ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব
বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৮:০৮ AM
Alokito Sakal Alokito Sakal :

কাপাসিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নেই নতুন ধান কাটা শুরু হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় পড়েছে ধান কাটার ধুম। পাকা ধান ঘরে তুলতে কৃষক পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত সময় পার করছে। পাড়ায় পাড়ায় চলছে নবান্ন উৎসব। নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি পিঠা, পায়েস, ক্ষীরসহ নানা রকম খাবারে মুখরিত হয়ে উঠছে প্রতিটি ঘর। অগ্রহায়ণের শিশির ভেজা ভোরে দু’একটি ঘর থেকে ভেসে আসছে কৃষাণীর ঢেঁকিতে ধান ভানার টিপ টিপ শব্দ। সুস্বাধু খাবারের গন্ধে ভরে ওঠছে চারপাশ। মেয়ে-জামাই ও আতœীয়-স্বজনদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের পরিবেশন করা হচ্ছে বাহারি পিঠাসহ নানান ধরনের সুস্বাদু খাবার।

গোলায় ধান তুলতে পেরে শত কষ্টের মাঝেও যেন কৃষকের মুখে হাসি ফোটে উঠেছে। প্রতিটি কৃষকের ঘরে চলছে নবান্ন উৎসবের আমেজ। যাদের ধান পাকতে দেরি তারা পরে নবান্ন করবেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলার পলাশ গ্রামের কৃষক ইউনুস আলী বলেন, নতুন ধান ঘরে তুলেছি। পিঠা বানানো জন্য চালের গুঁড়া তৈরি করা হচ্ছে। মেয়ে জামাই ও আত্নীয়-স্বজনদের বেড়াতে আসতে বলেছি। খেজুরের রস সংগ্রহ করা হবে। রান্না হবে নতুন খাবার।

ভ্রাম্যমাণ ধান ভাঙানো কলের মালিক বকুল সরকার ও মনোর উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন কৃষকের বাড়িতে ধান ভাঙানোর জন্য যেতে হয়। খুব প্রয়োজন হলে কৃষক তাদের বাড়িতে এসেও ধান ভঙিয়ে নিয়ে যায়। পুরো মাস জুড়ে তাদের এমন ব্যস্ততা থাকবে বলে তারা অশঙ্কা করছেন।

শিক্ষক আসাদুল্লাহ মাসুম বলেন, অগ্রহায়ণ কৃষকের নতুন বার্তা নিয়ে আগমন করে। নবান্ন হচ্ছে হেমন্তের প্রাণ। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য নবান্ন উৎসব। তা লালন করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।