Alokito Sakal
ফুটপাতে ভিড় বাড়ছে, শীত আসছে
বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৯ ০২:০৫ AM
Alokito Sakal Alokito Sakal :

সুশোভিত শিউলি ঝরা সকাল দিয়ে একমাস আগেই বিদায় নিয়েছে শরৎ। মাঠে পাকা ধানের সোঁদাগন্ধ আর সাতসকালে উত্তর থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে হামাগুড়ি দিয়ে আসছে শীত। বাতাসে মৃদু হিমের গুঞ্জন যেন শীতেরই আগমনী গান।

আর এরই মধ্যে শীতের পরিপূর্ণ উষ্ণতা পেতে শুরু হয়েছে শীতের পোশাক কেনাকাটার ধুম। গত কয়েকদিন ধরেই জমে উঠেছে রাজধানীর ফুটপাতগুলো। ক্রেতাও প্রচুর। গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন, মালিবাগ, মৌচাক, ফার্মগেট, নিউমার্কেটসহ প্রায় সব এলাকায় শীতবস্ত্রের বিক্রি বেড়েছে।

বেশি বিক্রি হচ্ছে শিশুদের কাপড়। মাথার টুপি, পায়ের মোজা, হাতমোজা, মাফলার, সোয়েটার, জাম্পার, ফুলহাতা গেঞ্জি, কম্বলের দোকানের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

বিক্রেতারা বলছেন, শীতের কাপড়ের বেচাকেনা পুরোদমে শুরু না হলেও প্রতিদিন কিছু কিছু বিক্রি হচ্ছে। চলার পথে একটু থেমে নেড়েচেড়ে দেখছেন অনেকেই। আগামী ১০-১৫ দিন পর থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

কথা হয় ফুটপাতের এক ব্যবসায়ীর সাথে। অনার্সের শেষ বর্ষে পড়ুয়া এই বিক্রেতার নাম আহ্সান। তিনি জানালেন, আর্থিক অবস্থা বেশি ভালো না হওয়া পড়াশোনার খরচ জোগাতে তিনি পোশাক বেচছেন।

আহ্সানের কথায়, বছরের এই সময়টাতে তিনি যা বিক্রি করেন তাতে তার পুরো বছরের পড়াশোনার খরচ উঠে যায়। প্রতি পিস পণ্যে কেমন লাভ হয় জানতে চাইলে তিনি টাকার অঙ্কটা না জানালেও জানান, মোটের ওপর খারাপ না।

রমজান নামে এক ব্যবসায়ী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমরা যে মাল বিক্রি করি তা শো-রুম বা দোকানের চেয়ে তুলনামূলকভাবে খুব একটা খারাপ না। বেছে নিতে পারলে ভালো মাল পাওয়া যায়।

ফার্মগেইটে ফুটপাতের দোকানি নাজমুল জানান, দুই থেকে সাড়ে তিন শ টাকার মধ্যে ফুলহাতা গেঞ্জি বিক্রি করছেন তারা। হালকা শীতে কিশোর-তরুণদের কাছে দারুণ চাহিদা থাকে এ ধরনের গেঞ্জির।

এদিকে শীতের তীব্রতা খুব বেশি না হওয়ার পরেও কেনো আগে ভাগেই শীত বস্ত্র কিনছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সজীব নামের এক ক্রেতা জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতবস্ত্রের দাম বেড়ে যায়। তাই এ বছর শীত মৌসুম শুরু হওয়া মাত্রই গরম কাপড় সংগ্রহ করা শুরু করেছেন তারা। তার মতে, এ মুহূর্তে কাপড়ের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। কেনাকাটা করতে সমস্যা হয়নি।