Alokito Sakal
ফরিদগঞ্জে (চাঁদপুর) দুর্বৃত্তদের হামলায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তসলিমসহ ৫ জন গুরুতর আহত
রবিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৯ ০৭:২৪ AM
Alokito Sakal Alokito Sakal :

ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার জমি জোরপূর্বক দখলকারীদের বাধা দিলে দুর্বৃত্তদের হামলায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তসলিমসহ ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার উপজেলার ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া বাজারে ভূমিদস্যু বাচ্চু খানের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে।হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন- চরমান্দারী গ্রামের নুরুল হকের ছেলে ছলেমান (২৮), উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তছলিম, তাঁর মেঝো ভাই আব্দুল কাদের খোকন মেম্বার (৫২), তাদের ভাগ্নে মেহেদী হাসান তুষার (২০) ও মুক্তিযোদ্ধা অলি উল্লাহর স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৪৫)।

আহতদের মধ্যে ৪ জনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে মর্জিনা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।আহতরা জানান, মুক্তিযোদ্ধা অলিউল্লাহ দীর্ঘদিন পূর্বে একই এলাকার মৃত সিরাজ খানের ছেলে বেলায়েত খানের কাছ থেকে দেড় শতাংশ জমি ক্রয় সূত্রে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু বেলায়েত হোসেন সেই জমি বিক্রি করার পরও নিজেই জোরপূর্বক দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিস হয়।গত দুই সপ্তাহ আগে এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু মাসুদ হোসেন বাচ্চু ও বেলায়েত পুনরায় সেই জমি দখল করতে গেলে স্থানীয়রা গত বুধবার সালিসের মাধ্যমে তা মিমাংসা করবেন বলে নির্ধারণ করেন। কিন্তু বাচ্চু খান ও বেলায়েত হোসেন অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে সালিস আগামীকাল শনিবার করার কথা জানায়।

এরই ফাঁকে শুক্রবার দুপুরে যখন সবাই জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যায়, সেই সুযোগে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তারা মুক্তিযোদ্ধা অলি উল্লাহর জমি দখল করতে যায়।এ সময় অলি উল্লার স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাধা দিলে এবং ডাক চিৎকার শুরু করলে নামাজ শেষে উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান তসলিম আহম্মেদসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শনিবার এ বিষয়ে সালিস আছে বলে তাদের জমি দখলে বাধা প্রদান করেন। আর তখনই বশির উল্লার ছেলে মাসুদ হোসেন খান বাচ্চু, সিরাজ খানের ছেলে বেলায়েত হোসেন খান, রাজিব খান ও মোহন খানের ছেলে তুহিন খানসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সবাই মিলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে মেহেদী হাসান তুষারের মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়, ছলেমানের হাতের দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আবদুল কাদের খোকনের পা ভেঙ্গে যায় এবং ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তছলিমের হাতে ও শরীরে প্রচন্ড আঘাত পান। হামলাকারীরা ঘটনার সময় দেশীয় ধারাল অস্ত্র ব্যবহার করে। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মিজানুর রহমান জানান, আহতদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়েছে।এদিকে হামলার ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. ইলিয়াস ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারী তৌফিক আহমেদ, মহিউদ্দিন ও নবীর হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমেদ বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬ জনের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রেক্ষিতে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানা যায়।

আস/এসআইসু