Alokito Sakal
টেক‌নোল‌জিষ্ট আ‌ছে মে‌শিন নেই, মে‌শিন আ‌ছে টেক‌নোল‌জিষ্ট নেই
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৪৫ AM
Alokito Sakal Alokito Sakal :

মোঃ জ‌হির হো‌সেন, স্টাফ রি‌পোর্টারঃ

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পু‌রে নতুন এক্স‌রে মে‌শিনটি টেক‌নে‌শিয়ানটেক‌নোল‌জিষ্ট না থাকার কার‌নে চালু হ‌চ্ছে না। নতুন এক্স‌রে মে‌শিন‌টি সাত মাস যাবৎ প‌ড়ে আ‌ছে। জানা যায় টেক‌নে‌শিয়ান না থাকায় মে‌শিন থাক‌লে ও কোন কা‌জে আস‌ছে না রায়পুর স্বাস্থ্য কম‌প্লে‌ক্সে আগত রুগী‌দের। যার ফ‌লে হাসপাতা‌লের বা‌হি‌রে থে‌কে এক্স‌রে কর‌তে দ্বিগুন টাকা গুন‌তে হয় আসহায় রুগী‌দের। বিগত ১২ বছ‌র এক্সরে মে‌শি‌নের টেক‌নে‌শিয়ানটেক‌নোল‌জিষ্ট নেই রায়পুর স্বাস্থ কম‌প্লে‌ক্সে। র‌য়ে‌ছে ডাক্তার, নার্স ও জনব‌লের সংকট।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন একটি ডিজিটাল মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু নয় মাস অ‌তিবা‌হিত হ‌লে ও মে‌শিন‌টি চালনার জন্য কোন টেক‌নে‌শিয়ান এর ব্যবস্থা হয়‌নি। প‌ড়ে আ‌ছে এক্স‌রে মে‌শিন‌টি দীর্ঘ‌দিন। মেশিনটির  টেক‌নোল‌জিষ্ট, ডাক্তার, নার্স সহ জনবল সংকট পুরনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিলেও কোন লাভ হচ্ছে না বলে জানান হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন।

জানা গেছে, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছিলো। ২০০৭ সালের জুন মাসে হাসপাতালে নতুন একটি আধুনিক এক্সরে মেশিন দেওয়া হয়। কিন্তু টেকনিশিয়ানটেক‌নোল‌জিষ্ট না থাকায় মেশিনটি আর ব্যবহৃত হয়নি। ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত বছরের ডিসেম্বরে ফের আরকটি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন দেওয়া হয়। কিন্তু ৯ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো মেশিনে হাত লাগাননি সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে- ইসিজি না থাকলেও তার টেকনেশিয়ানটেক‌নোল‌জিষ্ট রয়েছে। এতে কারো কাজে লাগছে না বলেও জানাযায়।

সোমবার সকালে (২০ সেপ্টেম্বর) সাইকেল চালাতে গিয়ে সড়কে মারাত্নক আহত হয়েছে চরবংশি ইউপির সালেহা বেগমের ছেলে (১৩) এবং একই সময়ে খেলা করতে গিয়ে মারাত্নক আহত হয়েছে কেরোয়া ইউপির আবদুল খালেকের নাতি (১০)। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার তাদেরকে বাহিরে থেকে এক্সরে করে আনতে বলেন। নিরুপায় হয়ে দ্বীগুন টাকায় এক্সরে করে আনেন তারা। “সরকারি হাসপাতালের মেশিন নস্ট, লোক নাই”-প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে ৫’শ টাকা দিয়ে আসছি” আহারে-হাসপাতালে এযন্ত্রটি থাকলে, এতো টাকা তো লাগতো না” একথা বলে দীর্ঘনিঃশাস ফেলে হাসপাতালকে অভিসাফ দেন।

রায়পুর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জাকির হোসেন বলেন, এক্সরে যন্ত্রটির টেক‌নোল‌জিষ্ট না থাকায় রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।-মেশিনটির টেকনেশিয়ানসহ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সসহ জনবল সংকট পুরনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিলেও লাভ হচ্ছে না।