Alokito Sakal
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ : আসলে দোষী কে
মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:৩৯ PM
Alokito Sakal Alokito Sakal :

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ স্থগিত হওয়া নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করছে দেশ দুটি। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করছে আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড় এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, জিওভান্নি লো সেলসো ও এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্রাজিলে প্রবেশ করেছেন। ব্রাজিলে প্রবেশের সময়ে ইমিগ্রেশন ফরমে তারা উল্লেখ করেনি যে তারা দুই সপ্তাহের মধ্যে ইংল্যান্ডে ছিলেন। আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির কথা হলো তারা তিনদিন ধরে ব্রাজিলে অবস্থান করছেন। তাহলে কেন ম্যাচ শুরু হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হলো দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল আগে থেকেই। ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলো তাদের কোন খেলোয়াড়কে লাতিন আমেরিকা গিয়ে ফুটবল খেলতে দিতে রাজি ছিল না। কারণ সেখান থেকে ফিরে তাদের বাধ্যতামূলক দশদিন হোটেল কোয়ারেন্টাইনে কাটাতে হবে। এসব কারণে ফিফা ক্লাবের উপরই দায়িত্ব দিয়েছে তারা খেলোয়াড়কে ছাড়বে কি না। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফ্যান্টিনো এর আগে খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক না করার আহবান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। অ্যাস্টন ভিলা তাদের দুই খেলোয়াড়কে দেশের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলার অনুমতি দিয়েছে। তবে টটেনহ্যাম তাদের দুই খেলোয়াড়কে দেশের হয়ে খেলার অনুমতি দেয়নি। তারা ক্লাবের অনুমতি ছাড়াই দেশের হয়ে খেলতে গেছেন। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা শুক্রবার সকালে কারাকাস থেকে সাও পাওলোতে গেছেন। সেখানে জমা দেয়া ফরমে খেলোয়াড়রা উল্লেখ করেনি যে তারা দুই সপ্তাহ সময়ের মধ্যে ইংল্যান্ডে ছিলেন। বৃটেনকে ব্রাজিল কোভিড-১৯ এর জন্য বিপজ্জনক দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। খেলোয়াড়রা বিমানবন্দর ত্যাগ করার ১৫ ঘণ্টা পর বিষয়টি ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নজরে আসে।

শনিবার সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে। স্বাস্থ্য বিভাগের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা ঐ চার খেলোয়াড়কে দেশ থেকে বের করে না দিয়ে কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু আর্জেন্টিনা কর্তৃপক্ষ তাদের কোয়ারেন্টাইনে না পাঠিয়ে ব্রাজিল সরকারের কাছে তাদের কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু ব্রাজিল তা প্রত্যাখ্যান করে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সেটি খেলা শুরু হওয়ার ৫১ মিনিট আগে জানতে পারে। বিষয়টি দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল) এর সভাপতিকে জানানো হয়।

কোয়ারেন্টাইন অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয় ব্রাজিলের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগে। কিন্তু আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা তা করেননি। তাই ব্রাজিল স্বাস্থ্য বিভাগ আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়কে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়। সংবাদ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে- এতো কিছুর পরও ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিভাগ কেন খেলা শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলো। কনমেবল খেলাটি বাতিল ঘোষণা না করে স্থগিত ঘোষণা করেছে। এখন সিদ্ধান্ত নিবে ফিফা। তারা ম্যাচ রেফারি এবং ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিভাগকে অবশ্যই ফিফার কাছে তাদের বক্তব্যের পক্ষে তথ্যাদি জমা দিতে হবে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, তারা যেসব তথ্য পেয়েছে তাতে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি সঠিক বলেই প্রতীয়মান হয়। যদি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা দোষী প্রমাণ হয় তাহলে ম্যাচে ব্রাজিলকে জয়ী ঘোষণা করা হবে।

ব্রাজিলিয়ান পুলিশ জানিয়েছে, তারা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মিথ্যা তথ্য দেয়ার বিষয়টি তদন্ত করছে। অভিযুক্ত চার খেলোয়াড় লিখিত আবেদন করায় তাদেরকে ব্রাজিল ছাড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।