Alokito Sakal
পানকৌড়ির কোলাহলে মুখরিত শ্রীনগর
শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:৫২ PM
Alokito Sakal Alokito Sakal :

আরিফুল ইসলাম শ্যামল: এখানকার খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়গুলোতে বর্ষার পানিতে টইটুম্বুর। জোয়ারের পানি আসার সাথে সাথেই পানকৌড়িদের ব্যাপক আগমন ঘটে এই অঞ্চলে। ঝাঁকে ঝাঁকে পানকৌড়ির দল বিভিন্ন উঁচু গাছ পালায় এসে আবাসন গড়ে তুলে। এসব পানকৌড়ির কিচিরমিচির শব্দে পুরো এলাকা কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠছে। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার আড়িয়াল বিল এলাকাসহ লোকালয়ের বিভিন্ন জলাশয়ের কাছাকাছি উঁচু গাছের মগডালে অতিথি পানকৌড়িরা বাসা বেঁধেছে।

এছাড়াও শ্রীনগর সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণের বিভিন্ন গাছে হাজারো পানকৌড়ির দল স্থায়ী আবাসন গড়ে তুলেছে। কলেজ ক্যাম্পাস জুড়ে বিভিন্ন গাছে পানকৌড়ির পাশাপাশি প্রায় গাছেই অসংখ্য বাদুরকেও ঝুলে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কলেজ চত্বরটি পানকৌড়ি ও বাদুরের স্থায়ী নিরাপদ আশ্রয়ণ হয়ে উঠেছে।

শ্রীনগর সরকারি কলেজের প্রভাষক মাজাহারুল ইসলাম সুমন জানান, নিজ উদ্যোগ থেকেই এসব পানকৌড়ির সুরক্ষায় কাজ করছি। এছাড়া এখানে ভবন নির্মাণের জন্য বিভিন্ন গাছপালা কাটা পড়ছে। এসব পানকৌড়ি সুরক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। তা’না হলে একদিন এসব পানকৌড়ি বিলুপ্তীর পথে চলে যাবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বছরের এই সময়ে বর্ষার অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলাশয়ে পানকৌড়িরা সাঁতার কেটে ডুবিয়ে ডুবিয়ে ছোট ছোট বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছে। সন্ধ্যার সাঁজ পড়তেই শিকারি পানকৌড়ির দল নিজ নিজ নীড়ে ফিরছে। লক্ষ্য করা গেছে, আড়িয়াল বিল এলাকার গাদিঘাট, শ্রীনগর সরকারি কলেজ, কুকুটিয়ার এলাকার বিবন্দী বাজারসহ বেশ কয়েকস্থানে উঁচু কড়ই গাছসহ অন্যান্য গাছের মগডালের চূড়ায় পানকৌড়িরা শত শত বাসা বেঁধেছে। এসব বাসায় ছানা পানকৌড়িদের আহারের যোগান দিচ্ছে মা পানকৌড়িরা। পানকৌড়ির ডাক-চিৎকার ও কলরব শব্দ অনেক দূর থেকেই শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। জানা যায়, স্থানীয়রা পানকৌড়িকে কাউপানি নামেও চিনেন। গাছে এসব পানকৌড়ির হাকডাক ও ডানা মেলে রোদে গা শুকানোর দৃশ্য দেখা যায়। পানকৌড়ির মিলন মেলার এমন অপরুপ নজরকারা দৃশ্য উপভোগ করতে পথচারী খানিকটা দাড়িয়ে পড়ছেন।

এলাকাবাসী জানায়, এই মৌসুমে পানকৌড়িরা দল বেঁধে এখানে আসে। জলাশয়ের কাছা কাছি গাছের চূড়ায় তারা বাসা বাঁধছে। এসব বাসায় পানকৌড়ি বংশ বিস্তারের মধ্যে দিয়ে তাদের দল ভাড়ি করে। এই অঞ্চলের পানি নামার সাথে সাথে পানকৌড়ির দল আস্তে আস্তে অনত্র কোথাও যেতে শুরু করে। তবে শ্রীনগর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গাছে হাজার হাজার পানকৌড়ি সারা বছরই এখানেই নিরাপদ স্থায়ী আবাসন গড়ে তুলেছে।