Alokito Sakal
লকডাউনের প্রভাবে মুরগিতে স্বস্তি, মরিচে ঝাল
রবিবার, ৮ অগাস্ট ২০২১ ০১:২৯ PM
Alokito Sakal Alokito Sakal :

ঈদুল আযহা আর চলমান লকডাউনের কারণে হোটেল রেস্টুরেন্ট ও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় কমে গেছে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা। ফলে বাজারে কমতে শুরু করেছে দাম। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে লেয়ার ও সোনালী মুরগি।

অন্যদিকে নিত্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে ওঠেছে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বাজারের প্রায় সব জিনিসের দাম বাড়তি। তবে কাঁচা মরিচের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সম্প্রতি টানা বৃষ্টির কারণে সেই কাঁচা মরিচের দাম ঠেকেছে কেজি প্রতি ২০০ টাকায়। তা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রোববার চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। একইভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে মাছের দাম। তবে কিছুটা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কমেছে লেবুর দামও।

বাজারে প্রতিকেজি পটল ও ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৪০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৪০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, কচুর গাট ৪০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, শসা ৬০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচের দাম এক লাফে বেড়ে হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। ব্যবসায়ীরা এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন, যা গত সপ্তাহে এক পোয়া কাঁচা মরিচ ছিল মাত্র ১৫ টাকা। হালি প্রতি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকায়।

নগরীর কাজির দেউড়ি বাজারের আসা মো. লিটন বলেন, লকডাউনে আমাদের আয় কমে গেলেও ব্যয় কমেনি। বরং বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে না থাকায় খরচ অনেক বেড়েছে। গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচ কিনেছি ৬০ টাকায়। আজকে কিনতে এসে দেখি ২০০ টাকা। এভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়লে আমরা খাবো কি!

কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার বিষয়ে চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বলেন, বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের মরিচ গাছ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পঁচে গেছে। মরিচের দাম বাড়ার এটাই একমাত্র কারণ। বৃষ্টি হতে থাকলে কাঁচা মরিচের দাম আরও বাড়তে পারে বলে।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের সবজি বিক্রেতা মেহেদী হাসান বলেন, কোরবানির ঈদের পর গত ক’দিন ধরে সবজির চাহিদা বেড়েছে। তবে সে হিসেবে সবজির দাম নতুন করে বাড়েনি। সব সবজি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম অরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। বাজারে প্রতিকেজি তেলাপিয়া ১৬০ টাকা, রুই ২৮০ টাকা, মৃগেল ২২০ টাকা, পাবদা ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৬শ’ ৫০ টাকা, পাঙাশ ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, শিং মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, মলা মাছ ৩০০ টাকা, রূপচাঁদা আকারভেদে ৪৫০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গত সপ্তাহের দামে বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কেজি প্রতি বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। প্রতিকেজি লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। আর সোনালী মুরগি ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়

মুরগি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, মানুষের বাসায় ফ্রিজে এখন কোরবানির মাংস রয়ে গেছে। পাশাপাশি লকডাউনের কারণে বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট, সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ। তাই ব্রয়লার মুরগির দাম কমে গেছে।

এছাড়া খুচরায় ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৪ টাকা, পাইজাম চাল ৫০ টাকা, মোটা চাল ৫০ টাকা, সরু চাল মানভেদে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, মাঝারি আকারের চাল ৫৫ টাকা, নাজিরশাইল ৬৭ টাকা, আটাশ জাতের চাল মানভেদে ৫০ থেকে ৫২ টাকা, পোলাওয়ের চাল মানভেদে ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও বাসমতি ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।