Alokito Sakal
মাহে রমজান
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১ ১১:৪১ AM
Alokito Sakal Alokito Sakal :

সময়ের চাকা ঘুরতে ঘুরতে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। সকল মুসলমানদের কাছে এই মাসটি অতন্ত্য মর্যাদাপূর্ণ। এই মাসটিকে মহান আল্লহ তায়ালা তিনটি ভাগে ভাগ করেন। প্রথম দশ দিন রহমত, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাত এবং শেষ দশ দিন নাজাতের মাধ্যমে শেষ হয় পবিত্র  মাহে রমজান।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা রাখা ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।” (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)”
আল্লাহ আরও বলেন, “তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)”
“রমজান মাস-ই হল সেই মাস; যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন। যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।” (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)”
আমরা নিয়মিত কুরআন মাজীদ পড়ব ইনশাআল্লাহ।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“যখন রমজান আসে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করে রাখা হয়।” (বুখারি, মুসলিম)
সুতরাং এ মাসে আমরা চাইলেই খুব সহজেই সব নেক আমল করতে পারি এতে আমাদেরকে শয়তান কোন প্রকার ধোকা দিতে পারবে না।

এ মাসের মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘লাইলাতুল কদর’ অর্থাৎ মহিমান্বি রাত। এ রাতটির ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এ রাতে কুরআনুল কারিম নাজিল করা হয়েছে। রমজানের শেষ দশকের বিজোড় যে কোনো একটি রাতই ‘লাইলাতুল কদর’। তাই হাদিসে শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল ক্বদর তলাশ করার কথা বেশি এসেছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন- “শপথ সুস্পষ্ট (কুরআনের) কিতাবের। আমি একে নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী।” (সুরা দুখান : আয়াত ২-৩)

“আপনি জানেন কি লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।” (সুরা কদর : আয়াত ১-৫)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কাছে রমজান মাস আগমন করেছে। … এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।’ (নাসাঈ)

আল্লাহ তায়ালা রমজানে আমাদের নেক আমলের সওয়াব বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের রব বলেছেন, প্রত্যেক নেক কাজের সওয়াব ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। রোজা শুধুই আমার জন্য, আর আমি নিজেই এর পুরস্কার দেবো।
আর নিশ্চয়ই রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকে আম্বারের চেয়েও বেশি প্রিয়। তোমাদের কারো রোজা থাকা অবস্থায় যদি কেউ তার সঙ্গে জাহেলের মতো আচরণ করে, তাহলে সে বলে দেবে, আমি একজন রোজাদার।
(সহিহ আল-বোখারি, হাদিস : ৫৯২৭, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৫১)

হজরত সালমান (রা.) বর্ণিত অপর এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ এ মাসে একটি নফল আমল করলে অন্য সময়ের একটি ফরজের সমান সওয়াব পাবে। আর এ মাসে কেউ একটি ফরজ আদায় করলে অন্য সময়ের ৭০টি ফরজ আদায়ের সওয়াব লাভ করবে। (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১৮৮৭, বায়হাকি, শুআবুল ইমান, হাদিস : ৩৩৩৬)

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে রমজানুল মোবারকের পূর্ণ রহমত বরকত ও মাগফিরাত দান করুক। আমিন।