রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১৭ মে ২০২১, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ

নতুন মসলা ফিরিঙ্গি

প্রকাশিত : ০৬:৪০ AM, ১২ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার ১,১৮১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মসলাটির নাম ফিরিঙ্গি। বহুমূত্র রোগ নিয়ন্ত্রণ, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর, হজম শক্তি ও রুচি বর্ধনে কার্যকরী এ মসলাটি নামে ফিরিঙ্গি হলেও জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানীরা। ফেবেসি গোত্রভুক্ত এ মসলার নির্ধারিত কোনো জাতই দেশে ছিল না। দীর্ঘ ছয় বছর গবেষণা করে মসলাটির একটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) একদল বিজ্ঞানী।

উদ্ভাবিত জাতের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বারি ফিরিঙ্গি-১’। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ বোর্ড জাতটি চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কৃষকরা ফেবেসি গোত্রীয় ফিরিঙ্গির মিশ্রণ চাষাবাদ করছেন, যা রান্নায় পাঁচফোড়নের একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেটা পর্যাপ্ত নয় বলেই ফিরিঙ্গির এ জাতটি উদ্ভাবন করলেন কৃষিবিজ্ঞানীরা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্রে কর্মরত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছা. শামসুন্নাহার মাহমুদার নেতৃত্বে আটজন কৃষিবিজ্ঞানী ছয় বছরের গবেষণায় বারি ফিরিঙ্গি-১ জাত উদ্ভাবন করেছেন। ফিরিঙ্গি বীজ অনেকটা মেথির মতো। কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য, যেমন গাছের বৃদ্ধি এবং পডের আকৃতির কারণে মেথির সঙ্গে ফিরিঙ্গির পার্থক্য রয়েছে।

গবেষক দলের প্রধান শাসুন্নাহার মাহমুদা বলেন, ফিরিঙ্গি গাছের পাতা এবং ফল মেথির মতোই ব্যবহূত হয়। তবে আমাদের দেশে ফিরিঙ্গির পডসহ বীজ পাঁচফোড়নের মসলা হিসেবে ব্যবহূত হয়। ভারতবর্ষে এটি ‘কাচুরী মেথি’ নামে পরিচিত এবং গাছটির পাতা শুকিয়ে বাজারজাতের জন্য বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশে এ ফসলটি এখনও বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা হয় না।

তিনি বলেন, ফিরিঙ্গি বীজ নানা প্রকার তরকারি, আচার, চাটনি ইত্যাদি স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে বেশ উপযোগী। ফিরিঙ্গির যথেষ্ট ঔষধি গুণ রয়েছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমশক্তি ও রুচি বৃদ্ধি করে।

এ জাতের গাছের উচ্চতা ২২-৩৫ সেন্টিমিটার। প্রাথমিক শাখার সংখ্যা ৫-৬টি। প্রতি গাছে পডের সংখ্যা ৩৬০-৪৬০টি। প্রতিটি পডে ৮-১০টি বীজ থাকে। বীজগুলো শুস্ক ও হলুদাভ বাদামি বর্ণের। এ জাতে রোগবালাই নেই বললেই চলে। প্রতি এক হাজার বীজের ওজন ১.১-১.২ গ্রাম। জাতটির জীবনকাল ৯০-১০০ দিন। প্রতি হেক্টরে পডের উৎপাদন ১.৬-১.৯ টন এবং বীজের ফলন ০.৪-০.৫ টন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT