ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্বামী ধর্মান্তরিত হওয়ায় দুই সন্তান নিয়ে বাড়ি ছাড়া গৃহবধূ

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের সুনইপাড়া গ্রামের অঞ্জলী দাস নামে এক গৃহবধূর স্বামী মুসলিম এক নারীর পরকিয়া প্রেমে ধর্মান্তরিত হওয়ায় দুটি অবুঝ সন্তান নিয়ে প্রবেশ করতে পারছেনা শ্বশুর বাড়িতে ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১০ বছর পুর্বে প্রেম করে অঞ্জলী দাস বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন একই গ্রামের নরেন্দ্র দাসের ছেলে নেপাল দাসের সাথে ।সংসারে অভাব থাকায় বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী কাজের উদ্দেশ্যে পারি জমায় রাজধানীতে ।সেখানে তারা সুখে শান্তিতে সংসার করছিলো।বিয়ের ৫ বছর নেপাল -অঞ্জলীর কোল আলোকিত করে জন্ম নেয় দুই ছেলে সন্তান।বর্তমানে বড় ছেলের বয়স ৫ ও ছোট ছেলের বয়স ২ বছর।বছর খানেক আগে রাজধানীতে অঞ্জলী দাসের স্বামী নেপাল মুসলিম এক নারীর পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যায় এবং স্ত্রী সন্তানদের রেখে আত্নগোপনে চলে যায়।একমাস পূর্বে অঞ্জলী দিকবেদিক কোনো পথ না দেখে রাজধানী থেকে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসেন।তারপর শ্বশুর বাড়িতেও তার কোনো আশ্রয় মেলেনি।শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় না পাওয়ায় গ্রামে সামাজিক ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশে বসা হয়। কিন্তু শ্বশুর শাশুড়ী তারপরেও অঞ্জলীকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।পরে সে গত ১ মাস ধরে দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে বাপের বাড়িতেই থাকছেন।শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় ফিরে ফেতে দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে উপজেলা কর্মকর্তার শরণাপন্ন হন।পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্বশুর শাশুড়ী কে অঞ্জলীকে তাদের বাড়িতে আশ্রয় দিতে বলেন।কিন্তু তারপরেও আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি শ্বশুর শাশুড়ী।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর)সারাদিন অঞ্জলী তার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে চাইলে তার শ্বাশুড়ী ঘরের দরজায় তালাবদ্ধ করে দেন। অঞ্জলীকে শ্বশুর ঘরে প্রবেশ করতে দেয়নি।

অঞ্জলী দাস বলেন,আমার স্বামী মুসলিম এক নারীর পরকীয়া প্রেমে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যাওয়ার কারনে আমাকে এবং আমার সন্তানদের আমার শ্বশুর শাশুড়ী বাড়িতে আশ্রয় দিচ্ছে না।যার ফলে আমি আমার দুটো সন্তান নিয়ে এতদিন বাবার বাড়িতে ছিলাম।এখন আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমি এবং আমার স্বামী গার্মেন্টেসে চাকুরি করে ঘর মেরামত করেছি এবং আসবাবপত্র কিনেছি।অথচ এখন এই ঘরেই আমার কোনো ঠাঁই নেই।

নেপাল দাসের মা মমতা রানী দাস বলেন, আমার ছেলে নেপালের খোঁজ খবর নাই। তাদের দুজনের মাঝে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। হটাৎ করে এমন হলো।আমার নিয়ে নিয়ে আমি নিজেই চলতে পারি না।তাদের কিভাবে ভরণপোষন করবো?

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, এই বিষয়ে অঞ্জলী দাস আমার কাছে আসলে আমি তার শ্বশুর শাশুড়ী কে বলি যাতে অঞ্জলী দাস ও তার দুই অবুঝ সন্তান কে বাড়িতে আশ্রয় দেয়। পরে আশ্রয় দিলেও পরবর্তীতে আবার বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

নির্বাচিত হলে ১৩নং ওয়ার্ড বাসীর জন্য এ্যাম্বুলেন্স উপহার দিব; রসিকের কাউন্সিলর প্রার্থী তুহিন

স্বামী ধর্মান্তরিত হওয়ায় দুই সন্তান নিয়ে বাড়ি ছাড়া গৃহবধূ

প্রকাশের সময় : ০৮:৪২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০২২

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের সুনইপাড়া গ্রামের অঞ্জলী দাস নামে এক গৃহবধূর স্বামী মুসলিম এক নারীর পরকিয়া প্রেমে ধর্মান্তরিত হওয়ায় দুটি অবুঝ সন্তান নিয়ে প্রবেশ করতে পারছেনা শ্বশুর বাড়িতে ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১০ বছর পুর্বে প্রেম করে অঞ্জলী দাস বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন একই গ্রামের নরেন্দ্র দাসের ছেলে নেপাল দাসের সাথে ।সংসারে অভাব থাকায় বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী কাজের উদ্দেশ্যে পারি জমায় রাজধানীতে ।সেখানে তারা সুখে শান্তিতে সংসার করছিলো।বিয়ের ৫ বছর নেপাল -অঞ্জলীর কোল আলোকিত করে জন্ম নেয় দুই ছেলে সন্তান।বর্তমানে বড় ছেলের বয়স ৫ ও ছোট ছেলের বয়স ২ বছর।বছর খানেক আগে রাজধানীতে অঞ্জলী দাসের স্বামী নেপাল মুসলিম এক নারীর পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যায় এবং স্ত্রী সন্তানদের রেখে আত্নগোপনে চলে যায়।একমাস পূর্বে অঞ্জলী দিকবেদিক কোনো পথ না দেখে রাজধানী থেকে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসেন।তারপর শ্বশুর বাড়িতেও তার কোনো আশ্রয় মেলেনি।শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় না পাওয়ায় গ্রামে সামাজিক ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশে বসা হয়। কিন্তু শ্বশুর শাশুড়ী তারপরেও অঞ্জলীকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।পরে সে গত ১ মাস ধরে দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে বাপের বাড়িতেই থাকছেন।শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় ফিরে ফেতে দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে উপজেলা কর্মকর্তার শরণাপন্ন হন।পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্বশুর শাশুড়ী কে অঞ্জলীকে তাদের বাড়িতে আশ্রয় দিতে বলেন।কিন্তু তারপরেও আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি শ্বশুর শাশুড়ী।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর)সারাদিন অঞ্জলী তার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে চাইলে তার শ্বাশুড়ী ঘরের দরজায় তালাবদ্ধ করে দেন। অঞ্জলীকে শ্বশুর ঘরে প্রবেশ করতে দেয়নি।

অঞ্জলী দাস বলেন,আমার স্বামী মুসলিম এক নারীর পরকীয়া প্রেমে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যাওয়ার কারনে আমাকে এবং আমার সন্তানদের আমার শ্বশুর শাশুড়ী বাড়িতে আশ্রয় দিচ্ছে না।যার ফলে আমি আমার দুটো সন্তান নিয়ে এতদিন বাবার বাড়িতে ছিলাম।এখন আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমি এবং আমার স্বামী গার্মেন্টেসে চাকুরি করে ঘর মেরামত করেছি এবং আসবাবপত্র কিনেছি।অথচ এখন এই ঘরেই আমার কোনো ঠাঁই নেই।

নেপাল দাসের মা মমতা রানী দাস বলেন, আমার ছেলে নেপালের খোঁজ খবর নাই। তাদের দুজনের মাঝে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। হটাৎ করে এমন হলো।আমার নিয়ে নিয়ে আমি নিজেই চলতে পারি না।তাদের কিভাবে ভরণপোষন করবো?

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, এই বিষয়ে অঞ্জলী দাস আমার কাছে আসলে আমি তার শ্বশুর শাশুড়ী কে বলি যাতে অঞ্জলী দাস ও তার দুই অবুঝ সন্তান কে বাড়িতে আশ্রয় দেয়। পরে আশ্রয় দিলেও পরবর্তীতে আবার বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।