ঢাকা ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে ভিডিও নির্মাণ করে সফল মুন্না

আরিয়ান মুন্না সার্টিফিকেটের নাম অলিউল ইসলাম মুন্না। গ্রামের বাড়ি বরিশালের ঝালকাঠি হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকার মোহাম্মদপুরে। বাবা মোঃ কামাল হোসেন একজন ব্যবসায়ী। মা নাসিমা আক্তার, গৃহিণী। দুই ভাই বোনের মধ্যে মুন্না সবার বড়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এ গোল্ডেন এ+ নিয়ে ফিরোজা বাশার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাশ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা কলেজে গণিত বিভাগে স্নাতকে পড়ছেন।

আরিয়ান মুন্না ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করে এতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছেন, পড়াশোনার পাশাপাশি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে মাসে আয় করেন ১ লাখ টাকা।

শুরুর গল্প
১৯ শে ডিসেম্বর ২০১৮ তে মোবাইল দিয়ে প্রথম ভিডিও ফেসবুক পেজে আপলোড করেন মুন্না। তারপর টানা ৬ মাস মোবাইল দিয়েই ঘরে বসে ছোট ভিডিও করা হয়। ভিডিওগুলোতে তিনি একাই অভিনয় করতেন। কিন্তু মোবাইলে তেমন কোনো সাফল্য না পেলে ক্যামেরা দিয়ে শর্টফিল্ম স্টাইলে কাজ শুরু করেন তিনি।

মুন্না বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি খুব জেদি ছিলাম। তাই যখন যেটা মন চাইতো ঐটাই করতাম। ফেসবুকের জন্য কনেটেন্ট বানানোর ভূত যখন মাথায় ঢুকলো তখন জেদ ধরেই এক দিনেই ক্যামেরাসহ ভিডিও করার সামগ্রী ও কম্পিউটার কিনে নিয়ে আসলাম। তবে ক্যামেরাসহ অন্যান জিনিস কিনতে আমার মা আমাকে কিছু টাকা দিয়েছিলো আর বাকিটা বন্ধুদের থেকে ধার নিয়ে কিনেছিলাম।

ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে চলার গল্প
আগে মুন্না একটা কোচিং এ ক্লাস নিতো, টিউশনি করাইতো। মধ্যবিত্ত পরিবারের মুন্না এভাবেই নিজের পড়ালেখার খরচ নিজে চালাইছে। কিন্তু ফেসবুক কন্টেন্ট নির্মানের নেশায় পরে এগুলো বাদ দেন। শুরু করার পর মুহূর্তেই মুন্নার আয় করার ব্যবস্থা একেবারেই ০ ছিলো। আর এজন্যই সেই মুহূর্তে এতো টাকা ধার করে ক্যামেরা আর কম্পিউটার কেনাটা তার জন্য অনেক বড় ঝুকির কারণ ছিলো। ধারের টাকা শোধ করার কোন রাস্তা সেই মুহূর্তে জানা না থাকলেও তিনি ঝুকি নিয়েই কাজটা করেন।

প্রথম ক্যামেরায় কাজ করা
যখন এতো ঝুঁকি নিয়ে যখন মুন্না ক্যামেরা আর কম্পিউটার কিনে আনে তখনই শুরু হয় বৈশ্বিক মহামারী করোনা। বেশ কয়েকদিন ঘরবন্দী থাকেন মুন্না। কিন্তু এভাবে বসে থাকতে ভালো লাগে না। একদিকে আয় নেই। আরেকদিকে ঋণ এর চিন্তা।

তবে একদিন হুট করে করোনার লকডাউনের মধ্যেই বাসা থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে বের হয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাসার পাশের রোডেই প্রথম শর্ট ফেললেন মুন্না। এটাই ছিলো ক্যামেরা দিয়ে মুন্নার প্রথম ভিডিও।

এগিয়ে চলার গল্প
প্রথম ভিডিও করার পর কয়েকমাস একেবারেই ঘরবন্ধি থাকতে হয় মুন্নাকে। তারপর ২০২০ এর শেষের দিকে যখন করোনার প্রভাব একটু নিয়মের মধ্যে আসলো তখন শুরু হয় তার এগিয়ে চলার জার্নি। মুন্না প্রথম যে ভিডিও আপলোড করেছিলেন তা ২ মাসের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রায় ১০ লাখ ভিউ হয় সেই ভিডিওটির।

এরপর মুন্না পরপর বন্ধুদের নিয়ে আরও কিছু ভিডিও কন্টেন্ট বানায় যার প্রায় সব কয়েকটি গড় ভিউ ১০ লাখের উপরে। এর ফলে অল্প দিনেই মুন্নার পেজ মনিটাইজেশন পায় এবং টাকা আয় হওয়া শুরু হয়। মুন্না কাজ শুরু করার প্রায় ৩ মাস পরে ফেসবুক থেকে টাকা পাওয়া শুরু করে। তবে টাকা উত্তোলন করতে তার প্রায় ৬ মাস লেগে যায়।

বর্তমানে মুন্নার ফেসবুক পেজের ফলোয়ার ১মিলিয়ন। এবং ইউটিউব চ্যানেল এর সাস্ক্রাইবার ৫০ হাজার। তবে মুন্নার ইউটিউব থেকে ফেসবুক ভিডিও কন্টেন্ট এ বেশি আয় হওয়ায় ফেসবুকেই কাজ করতে মনযোগ দেন।

ভবিষৎ ইচ্ছা
মুন্নার ভবিষৎ ইচ্ছা একজন ভালো অভিনেতা হওয়া। নিজের প্লাটফর্মের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আরো ভালো ভালো সামাজিক বার্তা পৌছে দেওয়া।

যারা পেশা হিসেবে ইউটিউবে বা ফেসবুকে ক্যারিয়ার গড়তে চায় তাদের উদ্দশ্যে মুন্না বলেন, ‘ফেসবুক ইউটিউব খুবই সাধারণ জায়গা। কারণ এখানে নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। যেখানে টাকা, সম্মান আর মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়। তবে আপনাকে লেগে থাকতে হবে। শুরু করতে হবে। ধৈর্য্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই সাফল্যের দেখা পাবেন’।

Tag :
জনপ্রিয়

নির্বাচিত হলে ১৩নং ওয়ার্ড বাসীর জন্য এ্যাম্বুলেন্স উপহার দিব; রসিকের কাউন্সিলর প্রার্থী তুহিন

ফেসবুকে ভিডিও নির্মাণ করে সফল মুন্না

প্রকাশের সময় : ১১:৩৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর ২০২২

আরিয়ান মুন্না সার্টিফিকেটের নাম অলিউল ইসলাম মুন্না। গ্রামের বাড়ি বরিশালের ঝালকাঠি হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকার মোহাম্মদপুরে। বাবা মোঃ কামাল হোসেন একজন ব্যবসায়ী। মা নাসিমা আক্তার, গৃহিণী। দুই ভাই বোনের মধ্যে মুন্না সবার বড়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এ গোল্ডেন এ+ নিয়ে ফিরোজা বাশার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাশ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা কলেজে গণিত বিভাগে স্নাতকে পড়ছেন।

আরিয়ান মুন্না ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করে এতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছেন, পড়াশোনার পাশাপাশি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে মাসে আয় করেন ১ লাখ টাকা।

শুরুর গল্প
১৯ শে ডিসেম্বর ২০১৮ তে মোবাইল দিয়ে প্রথম ভিডিও ফেসবুক পেজে আপলোড করেন মুন্না। তারপর টানা ৬ মাস মোবাইল দিয়েই ঘরে বসে ছোট ভিডিও করা হয়। ভিডিওগুলোতে তিনি একাই অভিনয় করতেন। কিন্তু মোবাইলে তেমন কোনো সাফল্য না পেলে ক্যামেরা দিয়ে শর্টফিল্ম স্টাইলে কাজ শুরু করেন তিনি।

মুন্না বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি খুব জেদি ছিলাম। তাই যখন যেটা মন চাইতো ঐটাই করতাম। ফেসবুকের জন্য কনেটেন্ট বানানোর ভূত যখন মাথায় ঢুকলো তখন জেদ ধরেই এক দিনেই ক্যামেরাসহ ভিডিও করার সামগ্রী ও কম্পিউটার কিনে নিয়ে আসলাম। তবে ক্যামেরাসহ অন্যান জিনিস কিনতে আমার মা আমাকে কিছু টাকা দিয়েছিলো আর বাকিটা বন্ধুদের থেকে ধার নিয়ে কিনেছিলাম।

ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে চলার গল্প
আগে মুন্না একটা কোচিং এ ক্লাস নিতো, টিউশনি করাইতো। মধ্যবিত্ত পরিবারের মুন্না এভাবেই নিজের পড়ালেখার খরচ নিজে চালাইছে। কিন্তু ফেসবুক কন্টেন্ট নির্মানের নেশায় পরে এগুলো বাদ দেন। শুরু করার পর মুহূর্তেই মুন্নার আয় করার ব্যবস্থা একেবারেই ০ ছিলো। আর এজন্যই সেই মুহূর্তে এতো টাকা ধার করে ক্যামেরা আর কম্পিউটার কেনাটা তার জন্য অনেক বড় ঝুকির কারণ ছিলো। ধারের টাকা শোধ করার কোন রাস্তা সেই মুহূর্তে জানা না থাকলেও তিনি ঝুকি নিয়েই কাজটা করেন।

প্রথম ক্যামেরায় কাজ করা
যখন এতো ঝুঁকি নিয়ে যখন মুন্না ক্যামেরা আর কম্পিউটার কিনে আনে তখনই শুরু হয় বৈশ্বিক মহামারী করোনা। বেশ কয়েকদিন ঘরবন্দী থাকেন মুন্না। কিন্তু এভাবে বসে থাকতে ভালো লাগে না। একদিকে আয় নেই। আরেকদিকে ঋণ এর চিন্তা।

তবে একদিন হুট করে করোনার লকডাউনের মধ্যেই বাসা থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে বের হয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাসার পাশের রোডেই প্রথম শর্ট ফেললেন মুন্না। এটাই ছিলো ক্যামেরা দিয়ে মুন্নার প্রথম ভিডিও।

এগিয়ে চলার গল্প
প্রথম ভিডিও করার পর কয়েকমাস একেবারেই ঘরবন্ধি থাকতে হয় মুন্নাকে। তারপর ২০২০ এর শেষের দিকে যখন করোনার প্রভাব একটু নিয়মের মধ্যে আসলো তখন শুরু হয় তার এগিয়ে চলার জার্নি। মুন্না প্রথম যে ভিডিও আপলোড করেছিলেন তা ২ মাসের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রায় ১০ লাখ ভিউ হয় সেই ভিডিওটির।

এরপর মুন্না পরপর বন্ধুদের নিয়ে আরও কিছু ভিডিও কন্টেন্ট বানায় যার প্রায় সব কয়েকটি গড় ভিউ ১০ লাখের উপরে। এর ফলে অল্প দিনেই মুন্নার পেজ মনিটাইজেশন পায় এবং টাকা আয় হওয়া শুরু হয়। মুন্না কাজ শুরু করার প্রায় ৩ মাস পরে ফেসবুক থেকে টাকা পাওয়া শুরু করে। তবে টাকা উত্তোলন করতে তার প্রায় ৬ মাস লেগে যায়।

বর্তমানে মুন্নার ফেসবুক পেজের ফলোয়ার ১মিলিয়ন। এবং ইউটিউব চ্যানেল এর সাস্ক্রাইবার ৫০ হাজার। তবে মুন্নার ইউটিউব থেকে ফেসবুক ভিডিও কন্টেন্ট এ বেশি আয় হওয়ায় ফেসবুকেই কাজ করতে মনযোগ দেন।

ভবিষৎ ইচ্ছা
মুন্নার ভবিষৎ ইচ্ছা একজন ভালো অভিনেতা হওয়া। নিজের প্লাটফর্মের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আরো ভালো ভালো সামাজিক বার্তা পৌছে দেওয়া।

যারা পেশা হিসেবে ইউটিউবে বা ফেসবুকে ক্যারিয়ার গড়তে চায় তাদের উদ্দশ্যে মুন্না বলেন, ‘ফেসবুক ইউটিউব খুবই সাধারণ জায়গা। কারণ এখানে নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। যেখানে টাকা, সম্মান আর মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়। তবে আপনাকে লেগে থাকতে হবে। শুরু করতে হবে। ধৈর্য্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই সাফল্যের দেখা পাবেন’।