ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যে ৭ কাজ করলে ঘুম ভালো হবে

আপনি যদি যখন-তখন, যেকোনো স্থানে ঘুমিয়ে পড়তে চান সেটি নিশ্চয়ই যৌক্তিক হবে না? এর কারণ হলো ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও সহায়ক পরিবেশ দরকার হয়। স্লিপ হাইজিন ভালো ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এর মধ্যে অন্যতম। ঘুমের সমস্যা মেটাতে আপনাকে করতে হবে আরও কিছু কাজ। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

শোবার ঘরের পরিবেশ

শোবার ঘরটি সব সময় শান্ত ও কোলাহলমুক্ত রাখুন। অনেকে আছেন যারা একটু অবসর পেলেই বিছানায় গড়াগড়ি খান বা শুয়ে শুয়ে মুভি দেখেন। কেউ আবার ডাইনিং ছেড়ে খাটের ওপরেই খেতে বসেন। টিভি দেখা, অফিসের কাজ বা অন্য সব জরুরি কাজ করতে হবে অন্য কোনো কক্ষে। শোবার ঘরকে কাজের ঘর বানিয়ে ফেলবেন না। তাহলে কিন্তু ঘুমের প্রতি আপনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তাই শোবার ঘরটি এমনভাবে গুছিয়ে ও পরিচ্ছন্ন রাখুন যেন ঘুম আসতে দেরি না করে!

রাতে হরর মুভি নয়

সারাদিন ব্যস্ততার পর যেহেতু রাতেই সময় মেলে তাই অনেকে ঘুমের কথা ভুলে গিয়ে টিভি দেখতে বসে যান। আপনার যত পছন্দের সিরিজ কিংবা মুভিই হোক, হরর ধরনের মুভি বা সিরিজ সন্ধ্যার পরে দেখবেন না। এটি আপনার ভেতরে এক ধরনের অহেতুক ভয় সৃষ্টি করতে পারে সেইসঙ্গে ব্যাঘ্যাত ঘটাতে পারে ঘুমের।

পরিচ্ছন্ন রাখুন

পরিচ্ছন্ন যেকোনো কিছু দেখলে স্বাভাবিকভাবেই মন ভালো হয়ে যায়। তাই ঘরের অন্যান্য অংশের মতো শোবার ঘরটিও পরিষ্কার রাখতে চেষ্টা করুন। শোবার ঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকলে ঘুম ভালো হবে। হালকা রঙের বিছানার চাদর ও বালিশের কভার ব্যবহার করুন। এটি আপনার চোখে আরাম দেবে।

মৃদু শব্দে গান শুনুন

ঘুম না এলে মৃদু শব্দে গান শুনতে পারেন। এতে অনেক সময় ঘুম চলে আসে। তবে সেই গান যেন দ্রুত তাল-লয়ের না হয়। ধীর হলে ঘুম আসা সহজ হবে। পছন্দের কোনো গান শুনতে পারেন।

কফি খাবেন না

ভুল বুঝছেন, সারাদিন কফি খাওয়ার বিষয়ে নিষেধ করা হয়নি। দিনে এক-দুই কাপ কফি আপনি খেতেই পারেন। তবে রাতের বেলা অর্থাৎ ঘুমাতে যাওয়ার ৩-৪ ঘণ্টা আগে কফি খাওয়া বন্ধ করুন। কফিতে থাকা ক্যাফেইন আপনাকে জাগিয়ে রাখতে কাজ করে। তাই ভালো ঘুমের জন্য রাতের বেলা কফি খাওয়া চলবে না।

ভারী খাবার নয়

রাতের বেলা কখনো ভারী খাবার খাবেন না। এমনকী দাওয়াতে গেলেও চেষ্টা করুন হালকা খাবার খেতে বা অল্প করে খেতে। ভারী খাবার খেলে তা হজম হতে বেশি সময় লাগে। এদিকে রাতের বেলা সাধারণত খাওয়ার পরে হাঁটাহাঁটি বা পরিশ্রম কম করা হয়। তাই খাবার হজমে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। হজমে সমস্যা হলে ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটে।

হাঁটাহাঁটি করুন

রাতের খাবার খাওয়ার পরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এতে আপনার হজম সহজ হবে। আপনি যদি খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে চলে যান তবে তা ঘুম তো আনবেই না, নানাভাবে ব্যাঘাত ঘটাবে। ঘুম হলেও তা বিচ্ছিন্নভাবে হবে। কারণ আপনার হজমপ্রক্রিয়া সঠিক না হলে পুরো শরীরেই তার প্রভাব পড়বে।

Tag :
জনপ্রিয়

নির্বাচিত হলে ১৩নং ওয়ার্ড বাসীর জন্য এ্যাম্বুলেন্স উপহার দিব; রসিকের কাউন্সিলর প্রার্থী তুহিন

যে ৭ কাজ করলে ঘুম ভালো হবে

প্রকাশের সময় : ০৩:২৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অক্টোবর ২০২২

আপনি যদি যখন-তখন, যেকোনো স্থানে ঘুমিয়ে পড়তে চান সেটি নিশ্চয়ই যৌক্তিক হবে না? এর কারণ হলো ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময় ও সহায়ক পরিবেশ দরকার হয়। স্লিপ হাইজিন ভালো ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এর মধ্যে অন্যতম। ঘুমের সমস্যা মেটাতে আপনাকে করতে হবে আরও কিছু কাজ। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

শোবার ঘরের পরিবেশ

শোবার ঘরটি সব সময় শান্ত ও কোলাহলমুক্ত রাখুন। অনেকে আছেন যারা একটু অবসর পেলেই বিছানায় গড়াগড়ি খান বা শুয়ে শুয়ে মুভি দেখেন। কেউ আবার ডাইনিং ছেড়ে খাটের ওপরেই খেতে বসেন। টিভি দেখা, অফিসের কাজ বা অন্য সব জরুরি কাজ করতে হবে অন্য কোনো কক্ষে। শোবার ঘরকে কাজের ঘর বানিয়ে ফেলবেন না। তাহলে কিন্তু ঘুমের প্রতি আপনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তাই শোবার ঘরটি এমনভাবে গুছিয়ে ও পরিচ্ছন্ন রাখুন যেন ঘুম আসতে দেরি না করে!

রাতে হরর মুভি নয়

সারাদিন ব্যস্ততার পর যেহেতু রাতেই সময় মেলে তাই অনেকে ঘুমের কথা ভুলে গিয়ে টিভি দেখতে বসে যান। আপনার যত পছন্দের সিরিজ কিংবা মুভিই হোক, হরর ধরনের মুভি বা সিরিজ সন্ধ্যার পরে দেখবেন না। এটি আপনার ভেতরে এক ধরনের অহেতুক ভয় সৃষ্টি করতে পারে সেইসঙ্গে ব্যাঘ্যাত ঘটাতে পারে ঘুমের।

পরিচ্ছন্ন রাখুন

পরিচ্ছন্ন যেকোনো কিছু দেখলে স্বাভাবিকভাবেই মন ভালো হয়ে যায়। তাই ঘরের অন্যান্য অংশের মতো শোবার ঘরটিও পরিষ্কার রাখতে চেষ্টা করুন। শোবার ঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকলে ঘুম ভালো হবে। হালকা রঙের বিছানার চাদর ও বালিশের কভার ব্যবহার করুন। এটি আপনার চোখে আরাম দেবে।

মৃদু শব্দে গান শুনুন

ঘুম না এলে মৃদু শব্দে গান শুনতে পারেন। এতে অনেক সময় ঘুম চলে আসে। তবে সেই গান যেন দ্রুত তাল-লয়ের না হয়। ধীর হলে ঘুম আসা সহজ হবে। পছন্দের কোনো গান শুনতে পারেন।

কফি খাবেন না

ভুল বুঝছেন, সারাদিন কফি খাওয়ার বিষয়ে নিষেধ করা হয়নি। দিনে এক-দুই কাপ কফি আপনি খেতেই পারেন। তবে রাতের বেলা অর্থাৎ ঘুমাতে যাওয়ার ৩-৪ ঘণ্টা আগে কফি খাওয়া বন্ধ করুন। কফিতে থাকা ক্যাফেইন আপনাকে জাগিয়ে রাখতে কাজ করে। তাই ভালো ঘুমের জন্য রাতের বেলা কফি খাওয়া চলবে না।

ভারী খাবার নয়

রাতের বেলা কখনো ভারী খাবার খাবেন না। এমনকী দাওয়াতে গেলেও চেষ্টা করুন হালকা খাবার খেতে বা অল্প করে খেতে। ভারী খাবার খেলে তা হজম হতে বেশি সময় লাগে। এদিকে রাতের বেলা সাধারণত খাওয়ার পরে হাঁটাহাঁটি বা পরিশ্রম কম করা হয়। তাই খাবার হজমে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। হজমে সমস্যা হলে ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটে।

হাঁটাহাঁটি করুন

রাতের খাবার খাওয়ার পরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এতে আপনার হজম সহজ হবে। আপনি যদি খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে চলে যান তবে তা ঘুম তো আনবেই না, নানাভাবে ব্যাঘাত ঘটাবে। ঘুম হলেও তা বিচ্ছিন্নভাবে হবে। কারণ আপনার হজমপ্রক্রিয়া সঠিক না হলে পুরো শরীরেই তার প্রভাব পড়বে।