ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রয়োগে আন্তরিক হতে হবে

সড়ক-মহাসড়কে চালকদের হাতে থাকে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু বেপরোয়া চালকদের নিয়ন্ত্রণ কারো হাতে নেই। রাজধানীর গণপরিবহন থেকে শুরু করে আন্ত জেলা বাস সার্ভিস—সবখানেই যাত্রীর জীবন হাতে নিয়ে গতির খেলায় প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে দেখা যায় চালকদের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, দেশে সড়কে প্রতিদিন ৬৪ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন আইন পাস হয়। ৮ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আর ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকরের ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু আইন পাসের পর চার বছরেও বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় এর শতভাগ প্রয়োগ আটকে ছিল। সেই বিধিমালা চূড়ান্ত হয়েছে। আজ তা প্রকাশ করা হতে পারে বলে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে।

কিন্তু শুধু বিধিমালা করলেই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে, এটা বলা যাবে না। কারণ আমাদের সড়কে সমস্যার শেষ নেই। প্রথম ও প্রধান সমস্যা চালকদের সদিচ্ছার অভাব। যাত্রীদের ঝুঁকিতে ফেলে মহাসড়কে বাস নিয়ে চালকদের আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা থামানো যাচ্ছে না। চালকদের এই আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা থামাতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কাজ হলে এত দুর্ঘটনা ঘটত না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ না হলে গতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

অনেক চালক আছেন, যাঁরা অনেক গতিতে গাড়ি চালাতে পছন্দ করেন। গতি নিয়ন্ত্রণ হলেই দুর্ঘটনা অর্ধেকে নেমে যাবে বলে মনে করেন তিনি। চালকদের এই গতিতে গাড়ি চালানোর বিষয়টি তুলে এনে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু নিরাপদ সড়ক নয়, নিরাপদ চালক চাই। ’ আবার এটাও তো ঠিক যে আমাদের গণপরিবহনের মান ভালো নয়। সড়কে ব্যবস্থাপনা ঠিক নেই। মানুষও সচেতন নয়। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালক, যাত্রী, পথচারী—সবাইকে নিয়ম মানতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের সঠিক ব্যবহার থাকলে সড়কে শৃঙ্খলা থাকবে। এতে দুর্ঘটনাও কমবে। তাঁদের মতে, নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের জন্য আইনের কার্যকর ভূমিকা ছিল না শুধু একটি বিধিমালা না থাকার কারণে। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পাস করতে দীর্ঘ সময় নেওয়া হয়েছে। বিধিমালা আজ প্রকাশ করা হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিধিমালা চূড়ান্ত করার আগে কি অংশীজনদের দেখানো হয়েছে? তাদের এবং জনসাধারণের মতামত নেওয়া হয়েছে? আইন করার সময় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মানুষের মতামত কি যাচাই করা হয়েছে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিধিমালা প্রকাশের পর আইনের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ সম্ভব হবে। আইনের শতভাগ প্রয়োগ সড়ক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী তাঁরা।

Tag :
জনপ্রিয়

নির্বাচিত হলে ১৩নং ওয়ার্ড বাসীর জন্য এ্যাম্বুলেন্স উপহার দিব; রসিকের কাউন্সিলর প্রার্থী তুহিন

প্রয়োগে আন্তরিক হতে হবে

প্রকাশের সময় : ০১:১৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২

সড়ক-মহাসড়কে চালকদের হাতে থাকে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু বেপরোয়া চালকদের নিয়ন্ত্রণ কারো হাতে নেই। রাজধানীর গণপরিবহন থেকে শুরু করে আন্ত জেলা বাস সার্ভিস—সবখানেই যাত্রীর জীবন হাতে নিয়ে গতির খেলায় প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে দেখা যায় চালকদের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, দেশে সড়কে প্রতিদিন ৬৪ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন আইন পাস হয়। ৮ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আর ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকরের ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু আইন পাসের পর চার বছরেও বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় এর শতভাগ প্রয়োগ আটকে ছিল। সেই বিধিমালা চূড়ান্ত হয়েছে। আজ তা প্রকাশ করা হতে পারে বলে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে।

কিন্তু শুধু বিধিমালা করলেই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে, এটা বলা যাবে না। কারণ আমাদের সড়কে সমস্যার শেষ নেই। প্রথম ও প্রধান সমস্যা চালকদের সদিচ্ছার অভাব। যাত্রীদের ঝুঁকিতে ফেলে মহাসড়কে বাস নিয়ে চালকদের আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা থামানো যাচ্ছে না। চালকদের এই আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা থামাতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কাজ হলে এত দুর্ঘটনা ঘটত না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ না হলে গতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

অনেক চালক আছেন, যাঁরা অনেক গতিতে গাড়ি চালাতে পছন্দ করেন। গতি নিয়ন্ত্রণ হলেই দুর্ঘটনা অর্ধেকে নেমে যাবে বলে মনে করেন তিনি। চালকদের এই গতিতে গাড়ি চালানোর বিষয়টি তুলে এনে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু নিরাপদ সড়ক নয়, নিরাপদ চালক চাই। ’ আবার এটাও তো ঠিক যে আমাদের গণপরিবহনের মান ভালো নয়। সড়কে ব্যবস্থাপনা ঠিক নেই। মানুষও সচেতন নয়। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালক, যাত্রী, পথচারী—সবাইকে নিয়ম মানতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের সঠিক ব্যবহার থাকলে সড়কে শৃঙ্খলা থাকবে। এতে দুর্ঘটনাও কমবে। তাঁদের মতে, নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের জন্য আইনের কার্যকর ভূমিকা ছিল না শুধু একটি বিধিমালা না থাকার কারণে। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পাস করতে দীর্ঘ সময় নেওয়া হয়েছে। বিধিমালা আজ প্রকাশ করা হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিধিমালা চূড়ান্ত করার আগে কি অংশীজনদের দেখানো হয়েছে? তাদের এবং জনসাধারণের মতামত নেওয়া হয়েছে? আইন করার সময় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মানুষের মতামত কি যাচাই করা হয়েছে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিধিমালা প্রকাশের পর আইনের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ সম্ভব হবে। আইনের শতভাগ প্রয়োগ সড়ক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী তাঁরা।