ঢাকা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নতুন চার গণমাধ্যমে আশা খুঁজি

  • রনি রেজা
  • প্রকাশের সময় : ০১:১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২
  • 38

সুখবর দিয়ে শুরু করি। আজ (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুনরূপে বাজারে এসেছে ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘দৈনিক বাংলা’। পত্রিকাটির ঐতিহ্য, সুখ্যাতি, দাপুটে পথচলা সম্পর্কে সচেতনমহল অবগত। সেই পত্রিকা আবার বাজারে এলো। সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রথিতযশা সাংবাদিক তোয়াব খান। তিনিও সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসের অংশ। নতুন করে সম্পৃক্ত হয়েছেন আরও অনেক খ্যাতিমান সাংবাদিক। সঙ্গে তারুণ্যের যুক্ততা তো আছেই। সব মিলে আশাজাগানিয়া খবর।

করোনা-পরবর্তী সময়ে মোটামুটি সব সেক্টরেই একটা নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান। আর ভঙ্গুরদশা গণমাধ্যমে তো আরও জাঁতা পড়েছে। এর মধ্যে ‘দৈনিক বাংলা’র ফিরে আসা বহুমুখী দৃষ্টিতে দেখছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা। এর অধিকাংশই ইতিবাচক। প্রথম যে বিষয়টি আলোচনায় আছে, সেটি হচ্ছে—কিছু সংবাদকর্মীর কর্মসংস্থান হলো। যে সময়ে গার্মেন্টসকর্মীদের মতো সাংবাদিকদের বেতনের দাবিতে জড়ো হতে হয়, প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বেকার সাংবাদিকদের ভিড় লেগে থাকে, সেই সময়ে নতুন কর্মস্থল সৃষ্টি হওয়া বিরাট সুখবরই বটে। সেটি যদি হয় পদ্মা ব্যাংকের মতো বড় গ্রুপের অর্থায়নে, দায়িত্বপ্রাপ্ত জায়গায় যদি থাকেন তোয়াব খানের মতো সাংবাদিক; তাহলে আশার আলো পূর্ণিমার চাঁদকে হার মানাবে; এটাই স্বাভাবিক।

কেবল দৈনিক বাংলা নয়, একই সময়ে বাজারে গণমাধ্যমের আকাশে চারটি তারকার উদয় চিহ্ন অঙ্কিত হয়েছে। দৈনিক বাংলার পাশাপাশি সেই তালিকায় রয়েছে আরেক প্রথিতযশা সাংবাদিক আবেদ খান সম্পাদিত ‘দৈনিক কালবেলা’, তরুণ সাহসী ও তুমুল জনপ্রিয় সম্পাদক মুস্তাফিজ শফী সম্পাদিত ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ এবং আরেক বিচক্ষণ সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব উদয় হাকিম সম্পাদিত অনলাইন গণমাধ্যম ‘ঢাকা বিজনেস’।

এর বাইরেও প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে হয়তো নামে-বেনামে অনেক গণমাধ্যম জন্মগ্রহণ করছে। ডিএফপির বারান্দায় ছটফট করছে, ডটকমগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভার্চুয়াল দুনিয়ায়। কিন্তু গণমাধ্যমের দায় নিয়ে, সংবাদ প্রকাশের ব্রত নিয়ে আসা গণমাধ্যমের আগমন, চেহারা একটু ভিন্ন থাকে। সেই জায়গা থেকে এই চারটি গণমাধ্যম আজকের আলোচ্য। এই চার গণমাধ্যম আলোচনায় এত গুরুত্ব পাওয়ার আরও একটি কারণ হলো, আমার জানামতে একই সময়ে এত বড় কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় এবং এমন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বের সম্পাদনায় এতগুলো গণমাধ্যমের আগমন ইতোপূর্বে ঘটেনি। পৃথক সময়ে অনেক বড় গণমাধ্যম এলেও একই সময়ে সম্ভবত এই প্রথম।

তাই নতুন একটি গণমাধ্যম এলেই আশান্বিত হই, এই বুঝি নতুন কোনো স্বাদ পাবো। এবার সাড়া জাগানো চারটি গণামাধ্যমের আগমণ একটু বেশিই আশা জাগাচ্ছে। বেঁচে থাকুক এতটুকু। শুভকামনা নতুন এই চার গণমাধ্যমের প্রতি।

আপাতদৃষ্টিতে কোনোটি থেকে কোনোটিকে পেছনে রাখার সাধ্য কারও নেই। বাজারে এসে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করার আগ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার উপায় নেই। এই প্রমাণের প্রসঙ্গ এলে আমার সর্বাগ্রে মনে উঁকি মারে হালের জনপ্রিয় একটি বিস্কুটের নাম। ডায়াবেটিস রোগীদের উপযোগী এবং ভিন্নস্বাদের বিস্কুটটি সব মহলে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। করপোরেট অফিস থেকে বাসার বৈকালিক নাস্তা বা অতিথির তাৎক্ষণিক আপ্যায়নে এই বিস্কুটটির কদর বেশ। ফলে মূল কোম্পানি (যারা গবেষণা করে এমন একটি বিস্কুট প্রথম বাজারে এনেছে) তাদের পাশাপাশি অন্য সব কোম্পানিই বিস্কুটটি বাজারজাত করছে। নাম, স্বাদ, রঙ, গন্ধ; সব একইরকম। পার্থক্য কেবল ওই লোগোতে। কোম্পানির ট্যাগ ছাড়া কোনো পার্থক্য দৃশ্যত নেই। কোম্পানি ভিন্ন হওয়ার কারণে স্বাদ একটু হয়তো এদিক-ওদিক। কিন্তু মূল স্বাদ একই।

গণমাধ্যমেও এখন ওই একই অবস্থা বলে মনে করি। বরং আরও করুণ বলা চলে। প্রতিনিয়ত নতুন মোড়কে, নতুন নামে, লোগোতে অনেক গণমাধ্যম এলেও সংবাদ উপস্থাপন, দৃশ্যায়ন, পলিসি; সব একই। আমার বিশ্বাস লোগো মুছে দিলে একটা পত্রিকা থেকে আরেকটা পত্রিকা আলাদা করার উপায় নেই। একই অবস্থা টেলিভিশন, বেতার, অনলাইন; সব ক্ষেত্রেই। প্রশ্ন হলো, যদি একই থাকবে সব, তাহলে এত গণমাধ্যমের প্রয়োজন কী? গণমাধ্যম তো মুদি দোকান নয়, কিছু পণ্য তুলে ইচ্ছেমতো ক্রেতা বাগিয়ে নিতে পারলেই হলো। গণমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে। মানুষ অনেক নাজানা জানতে চায়। রাষ্ট্রের প্রতিও দায়বদ্ধতা রয়েছে গণমাধ্যমের। সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি।

অগ্রগতির এই সময়ে নতুনত্ব আনতে না পারলে মানুষ ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বিশ্বাস করবে। তাই নতুন একটি গণমাধ্যম এলেই আশান্বিত হই, এই বুঝি নতুন কোনো স্বাদ পাবো। এবার সাড়া জাগানো চারটি গণামাধ্যমের আগমণ একটু বেশিই আশা জাগাচ্ছে। বেঁচে থাকুক এতটুকু। শুভকামনা নতুন এই চার গণমাধ্যমের প্রতি।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ডেইলি বাংলাদেশ

Tag :
জনপ্রিয়

নির্বাচিত হলে ১৩নং ওয়ার্ড বাসীর জন্য এ্যাম্বুলেন্স উপহার দিব; রসিকের কাউন্সিলর প্রার্থী তুহিন

নতুন চার গণমাধ্যমে আশা খুঁজি

প্রকাশের সময় : ০১:১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২

সুখবর দিয়ে শুরু করি। আজ (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুনরূপে বাজারে এসেছে ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘দৈনিক বাংলা’। পত্রিকাটির ঐতিহ্য, সুখ্যাতি, দাপুটে পথচলা সম্পর্কে সচেতনমহল অবগত। সেই পত্রিকা আবার বাজারে এলো। সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রথিতযশা সাংবাদিক তোয়াব খান। তিনিও সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসের অংশ। নতুন করে সম্পৃক্ত হয়েছেন আরও অনেক খ্যাতিমান সাংবাদিক। সঙ্গে তারুণ্যের যুক্ততা তো আছেই। সব মিলে আশাজাগানিয়া খবর।

করোনা-পরবর্তী সময়ে মোটামুটি সব সেক্টরেই একটা নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান। আর ভঙ্গুরদশা গণমাধ্যমে তো আরও জাঁতা পড়েছে। এর মধ্যে ‘দৈনিক বাংলা’র ফিরে আসা বহুমুখী দৃষ্টিতে দেখছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা। এর অধিকাংশই ইতিবাচক। প্রথম যে বিষয়টি আলোচনায় আছে, সেটি হচ্ছে—কিছু সংবাদকর্মীর কর্মসংস্থান হলো। যে সময়ে গার্মেন্টসকর্মীদের মতো সাংবাদিকদের বেতনের দাবিতে জড়ো হতে হয়, প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বেকার সাংবাদিকদের ভিড় লেগে থাকে, সেই সময়ে নতুন কর্মস্থল সৃষ্টি হওয়া বিরাট সুখবরই বটে। সেটি যদি হয় পদ্মা ব্যাংকের মতো বড় গ্রুপের অর্থায়নে, দায়িত্বপ্রাপ্ত জায়গায় যদি থাকেন তোয়াব খানের মতো সাংবাদিক; তাহলে আশার আলো পূর্ণিমার চাঁদকে হার মানাবে; এটাই স্বাভাবিক।

কেবল দৈনিক বাংলা নয়, একই সময়ে বাজারে গণমাধ্যমের আকাশে চারটি তারকার উদয় চিহ্ন অঙ্কিত হয়েছে। দৈনিক বাংলার পাশাপাশি সেই তালিকায় রয়েছে আরেক প্রথিতযশা সাংবাদিক আবেদ খান সম্পাদিত ‘দৈনিক কালবেলা’, তরুণ সাহসী ও তুমুল জনপ্রিয় সম্পাদক মুস্তাফিজ শফী সম্পাদিত ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ এবং আরেক বিচক্ষণ সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব উদয় হাকিম সম্পাদিত অনলাইন গণমাধ্যম ‘ঢাকা বিজনেস’।

এর বাইরেও প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে হয়তো নামে-বেনামে অনেক গণমাধ্যম জন্মগ্রহণ করছে। ডিএফপির বারান্দায় ছটফট করছে, ডটকমগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভার্চুয়াল দুনিয়ায়। কিন্তু গণমাধ্যমের দায় নিয়ে, সংবাদ প্রকাশের ব্রত নিয়ে আসা গণমাধ্যমের আগমন, চেহারা একটু ভিন্ন থাকে। সেই জায়গা থেকে এই চারটি গণমাধ্যম আজকের আলোচ্য। এই চার গণমাধ্যম আলোচনায় এত গুরুত্ব পাওয়ার আরও একটি কারণ হলো, আমার জানামতে একই সময়ে এত বড় কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় এবং এমন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বের সম্পাদনায় এতগুলো গণমাধ্যমের আগমন ইতোপূর্বে ঘটেনি। পৃথক সময়ে অনেক বড় গণমাধ্যম এলেও একই সময়ে সম্ভবত এই প্রথম।

তাই নতুন একটি গণমাধ্যম এলেই আশান্বিত হই, এই বুঝি নতুন কোনো স্বাদ পাবো। এবার সাড়া জাগানো চারটি গণামাধ্যমের আগমণ একটু বেশিই আশা জাগাচ্ছে। বেঁচে থাকুক এতটুকু। শুভকামনা নতুন এই চার গণমাধ্যমের প্রতি।

আপাতদৃষ্টিতে কোনোটি থেকে কোনোটিকে পেছনে রাখার সাধ্য কারও নেই। বাজারে এসে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করার আগ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার উপায় নেই। এই প্রমাণের প্রসঙ্গ এলে আমার সর্বাগ্রে মনে উঁকি মারে হালের জনপ্রিয় একটি বিস্কুটের নাম। ডায়াবেটিস রোগীদের উপযোগী এবং ভিন্নস্বাদের বিস্কুটটি সব মহলে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। করপোরেট অফিস থেকে বাসার বৈকালিক নাস্তা বা অতিথির তাৎক্ষণিক আপ্যায়নে এই বিস্কুটটির কদর বেশ। ফলে মূল কোম্পানি (যারা গবেষণা করে এমন একটি বিস্কুট প্রথম বাজারে এনেছে) তাদের পাশাপাশি অন্য সব কোম্পানিই বিস্কুটটি বাজারজাত করছে। নাম, স্বাদ, রঙ, গন্ধ; সব একইরকম। পার্থক্য কেবল ওই লোগোতে। কোম্পানির ট্যাগ ছাড়া কোনো পার্থক্য দৃশ্যত নেই। কোম্পানি ভিন্ন হওয়ার কারণে স্বাদ একটু হয়তো এদিক-ওদিক। কিন্তু মূল স্বাদ একই।

গণমাধ্যমেও এখন ওই একই অবস্থা বলে মনে করি। বরং আরও করুণ বলা চলে। প্রতিনিয়ত নতুন মোড়কে, নতুন নামে, লোগোতে অনেক গণমাধ্যম এলেও সংবাদ উপস্থাপন, দৃশ্যায়ন, পলিসি; সব একই। আমার বিশ্বাস লোগো মুছে দিলে একটা পত্রিকা থেকে আরেকটা পত্রিকা আলাদা করার উপায় নেই। একই অবস্থা টেলিভিশন, বেতার, অনলাইন; সব ক্ষেত্রেই। প্রশ্ন হলো, যদি একই থাকবে সব, তাহলে এত গণমাধ্যমের প্রয়োজন কী? গণমাধ্যম তো মুদি দোকান নয়, কিছু পণ্য তুলে ইচ্ছেমতো ক্রেতা বাগিয়ে নিতে পারলেই হলো। গণমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে। মানুষ অনেক নাজানা জানতে চায়। রাষ্ট্রের প্রতিও দায়বদ্ধতা রয়েছে গণমাধ্যমের। সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি।

অগ্রগতির এই সময়ে নতুনত্ব আনতে না পারলে মানুষ ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বিশ্বাস করবে। তাই নতুন একটি গণমাধ্যম এলেই আশান্বিত হই, এই বুঝি নতুন কোনো স্বাদ পাবো। এবার সাড়া জাগানো চারটি গণামাধ্যমের আগমণ একটু বেশিই আশা জাগাচ্ছে। বেঁচে থাকুক এতটুকু। শুভকামনা নতুন এই চার গণমাধ্যমের প্রতি।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ডেইলি বাংলাদেশ