ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জনগণ একটা পরিবর্তন চায়, যে পরিবর্তন সরকারের পরিবর্তন: আব্দুল্লাহ আল নোমান।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, সরকার জোরপূর্বক ক্ষমতায় আছে। সেই জোরের সঙ্গে অপকর্ম করছে। যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম তার সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

এই বিশ্বাসঘাতক সরকারের হাতে জনগণকে আর থাকতে দেওয়া যায় না। জনগণ একটা পরিবর্তন চায়, যে পরিবর্তন সরকারের পরিবর্তন, আশা আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তন।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে জিয়া প্রজন্মদল আয়োজিত ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এই সরকার অর্থনৈতিকভাবে দেশকে ধ্বংস করেছে। চুরি করেছে৷ ডাকাতি করেছে। এই সরকার আমাদের কোনো সহযোগিতা মানে নাই। বিরোধী দল হিসেবে গণলুটেরা অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই সরকার কিছু মানেনি।

দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বিরোধী দল তিনটি কাজ থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া, দ্বিতীয়ত এগুলো পত্র-পত্রিকায় আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা আর সেভাবেও না হলে সর্বশেষ সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াই ও তাদের ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আন্দোলন। আমরা সর্বশেষ ধাপে এসে পৌঁছেছি, এখন আমাদের আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

নোমান বলেন, ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট পানি উত্তপ্ত হয়েছে, আরেকটু হলেই বাষ্প হয়ে যাবে। তারেক রহমানের নীতিকে মেনে যদি আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই, তাহলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন হবে। আমরা চার জন সহকর্মীকে হারিয়েছি। রক্তাক্ত জাতীয় এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করছি।

তিনি আরও বলেন, এই সরকারের আমলে আমাদের অর্থনীতি, আইন, শাসনতন্ত্র মোতাবেক দেশ চলছে না। শাসনতন্ত্র ভেঙ্গে তারা শাসন করছে। জনগণের আমানত সংবিধান। তাদেরকে লুকিয়েই তারা সংবিধান বদল করল। গত কয়েক বছর ধরে বিরোধী দল হিসেবে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। কিন্তু আজ জনগণের সম্পৃক্ততায় এই আন্দোলন এখন সরকার পতনের আন্দোলন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, গণতন্ত্রের বাণী এখন উল্টো। যারা গণতন্ত্র চায় তাদের জীবনের কোনো দাম নেই। আজ দেশে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। বিনা ভোটের সরকার রাজত্ব করছে। গত দুটি নির্বাচনে মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারেনি। আমাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বন্দি করা হয়েছিল। পুলিশ আর সিভিল প্রশাসনের বলে এ সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। আগামী দিনের নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে আওয়ামী লীগ টিকতে পারবে না, এটা তারা জানে।

জিয়া প্রজন্মদল কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, এমন কোনো অপকর্ম নেই যেখানে পুলিশ, ছাত্রলীগ আর যুবলীগ জড়িত নয়। তাদের হাতে দেশের জনগণ সুরক্ষিত নয়। দেশের দুর্গতি শেষ হয়ে যাবে শেখ হাসিনার আমল শেষ হয়ে গেলে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কথা বলে টাকা লুটপাট করছে এই সরকার। দুর্ভিক্ষের গন্ধ পাচ্ছি বলেও ইলেকশনের জন্য ইসিকে ইভিএম কিনতে কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে। দেশের মানুষ এদিকে না খেয়ে আছে।

জিয়া প্রজন্মদলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনুর মল্লিক জীবনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন রুবেলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

Tag :
জনপ্রিয়

সামনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই”যেকোনো মূল্যে সমাবেশ সফল করতে হবে: ফখরুল।

জনগণ একটা পরিবর্তন চায়, যে পরিবর্তন সরকারের পরিবর্তন: আব্দুল্লাহ আল নোমান।

প্রকাশের সময় : ০৫:০২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, সরকার জোরপূর্বক ক্ষমতায় আছে। সেই জোরের সঙ্গে অপকর্ম করছে। যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম তার সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

এই বিশ্বাসঘাতক সরকারের হাতে জনগণকে আর থাকতে দেওয়া যায় না। জনগণ একটা পরিবর্তন চায়, যে পরিবর্তন সরকারের পরিবর্তন, আশা আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তন।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে জিয়া প্রজন্মদল আয়োজিত ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এই সরকার অর্থনৈতিকভাবে দেশকে ধ্বংস করেছে। চুরি করেছে৷ ডাকাতি করেছে। এই সরকার আমাদের কোনো সহযোগিতা মানে নাই। বিরোধী দল হিসেবে গণলুটেরা অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই সরকার কিছু মানেনি।

দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বিরোধী দল তিনটি কাজ থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া, দ্বিতীয়ত এগুলো পত্র-পত্রিকায় আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা আর সেভাবেও না হলে সর্বশেষ সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াই ও তাদের ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আন্দোলন। আমরা সর্বশেষ ধাপে এসে পৌঁছেছি, এখন আমাদের আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

নোমান বলেন, ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট পানি উত্তপ্ত হয়েছে, আরেকটু হলেই বাষ্প হয়ে যাবে। তারেক রহমানের নীতিকে মেনে যদি আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই, তাহলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন হবে। আমরা চার জন সহকর্মীকে হারিয়েছি। রক্তাক্ত জাতীয় এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করছি।

তিনি আরও বলেন, এই সরকারের আমলে আমাদের অর্থনীতি, আইন, শাসনতন্ত্র মোতাবেক দেশ চলছে না। শাসনতন্ত্র ভেঙ্গে তারা শাসন করছে। জনগণের আমানত সংবিধান। তাদেরকে লুকিয়েই তারা সংবিধান বদল করল। গত কয়েক বছর ধরে বিরোধী দল হিসেবে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। কিন্তু আজ জনগণের সম্পৃক্ততায় এই আন্দোলন এখন সরকার পতনের আন্দোলন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, গণতন্ত্রের বাণী এখন উল্টো। যারা গণতন্ত্র চায় তাদের জীবনের কোনো দাম নেই। আজ দেশে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। বিনা ভোটের সরকার রাজত্ব করছে। গত দুটি নির্বাচনে মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারেনি। আমাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বন্দি করা হয়েছিল। পুলিশ আর সিভিল প্রশাসনের বলে এ সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। আগামী দিনের নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে আওয়ামী লীগ টিকতে পারবে না, এটা তারা জানে।

জিয়া প্রজন্মদল কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, এমন কোনো অপকর্ম নেই যেখানে পুলিশ, ছাত্রলীগ আর যুবলীগ জড়িত নয়। তাদের হাতে দেশের জনগণ সুরক্ষিত নয়। দেশের দুর্গতি শেষ হয়ে যাবে শেখ হাসিনার আমল শেষ হয়ে গেলে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কথা বলে টাকা লুটপাট করছে এই সরকার। দুর্ভিক্ষের গন্ধ পাচ্ছি বলেও ইলেকশনের জন্য ইসিকে ইভিএম কিনতে কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে। দেশের মানুষ এদিকে না খেয়ে আছে।

জিয়া প্রজন্মদলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনুর মল্লিক জীবনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন রুবেলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।