ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আওয়ামীলীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে: প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনো ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসবে না বা আসেও নাই। আওয়ামীলীগ কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে গণভবনে হওয়া সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন হলো যেকোনো রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত। কে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, কে করবে না, সেখানে আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না। রাজনীতি করতে হলে দলগুলো নিজে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা অবশ্যই চাই সব দল অংশগ্রহণ করুক। আমরা চাই সব দল আসুক। নির্বাচন করুক।

সরকারপ্রধান বলেন, এতদিন কাজ করার পর নিশ্চয়ই আমরা চাইব যে, সবাই আসুক। গতবার যে সবার সঙ্গে বৈঠক করলাম, নির্বাচনে এসে দেখা গেল, ৩০০ সিটে ৭০০ নমিনেশন নিয়ে যখন নিজেরা হেরে গেল তখন সব দোষ আওয়ামী লীগের। জনগণের কাজ করে জনগণের মন জয় করে জনগণের ভোট নিয়েই কিন্তু আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতায় এসেছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মিলিটারি পকেটে করে ক্ষমতায় আসেনি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো কোনো মিলিটারি ডিক্টেটরের পকেট থেকে বের হয়নি। ক্ষমতা বা ইমার্জেন্সি দিয়ে ক্ষমতা দখল করেও কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ভোটের মাধ্যমেই এসেছে, নির্বাচনের মাধ্যমে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশে নির্বাচনে যতটুকু উন্নতি, যতটুকু সংস্কার এটা আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সবাইকে নিয়ে করেছি। এরপরও যদি কেউ না আসে, সেখানে আমার কি করণীয়? হারার ভয়ে তো আসব না বা একেবারে সবাইকে লোকমা তুলে খাইয়ে দিতে হবে, তবে আসব; এটা তো আর হয় না।

শেখ হাসিনা বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা তো জনগণের কাছে যেতে ভয় পায়। জনগণের সামনে ভোট চাইতে গিয়েও ভয় পায়। এটা হলো বাস্তবতা। অগ্নিসংযোগ করে যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদেরকে কি মানুষ ভোট দেবে? কখনো দিতে পারে না। কারণ সেই পোড়া ঘা তো সবার শুকোয়নি। এখনো কষ্ট পাচ্ছে। গ্রেনেডের হামলায় যারা আহত বা এ দেশে লুট করে খেয়েছে, সে কথা তো ভাবতে হবে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দলীয়প্রধান বলেন, ডিসেম্বর মাসে আমরা আমাদের দলের সম্মেলন করব। দল সিদ্ধান্ত নেবে। দ্বিতীয় হলো পরবর্তী বছরেই তো আমাদের নির্বাচন। নির্বাচনের প্রস্তুতিও আমরা এখন থেকে নিচ্ছি। কারণ, আমাদের দল বাংলাদেশে একটি মাত্র দল যারা আমাদের গঠনতন্ত্র মেনে চলি। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই আমাদের গঠনতন্ত্র মোতাবেক সিদ্ধান্ত নিই।

তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবারে নির্বাচনে আমরা কি কি ওয়াদা করেছিলাম, কতটুকু বাস্তবায়ন করেছি; আগামীতে কি করব সেটাও আমরা সেভাবে তৈরি করি। বিষয়টি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা রেখে আমরা কাজ করছি।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে টানা ১৮ দিনের সফর সরকারপ্রধান ব্রিটেনে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের সিংহাসনে আরোহণ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনাতেও অংশ নেন। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেন এবং এর পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সফর শেষে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

Tag :
জনপ্রিয়

সামনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই”যেকোনো মূল্যে সমাবেশ সফল করতে হবে: ফখরুল।

আওয়ামীলীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে: প্রধানমন্ত্রী।

প্রকাশের সময় : ১২:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনো ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসবে না বা আসেও নাই। আওয়ামীলীগ কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে গণভবনে হওয়া সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন হলো যেকোনো রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত। কে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, কে করবে না, সেখানে আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না। রাজনীতি করতে হলে দলগুলো নিজে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা অবশ্যই চাই সব দল অংশগ্রহণ করুক। আমরা চাই সব দল আসুক। নির্বাচন করুক।

সরকারপ্রধান বলেন, এতদিন কাজ করার পর নিশ্চয়ই আমরা চাইব যে, সবাই আসুক। গতবার যে সবার সঙ্গে বৈঠক করলাম, নির্বাচনে এসে দেখা গেল, ৩০০ সিটে ৭০০ নমিনেশন নিয়ে যখন নিজেরা হেরে গেল তখন সব দোষ আওয়ামী লীগের। জনগণের কাজ করে জনগণের মন জয় করে জনগণের ভোট নিয়েই কিন্তু আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতায় এসেছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মিলিটারি পকেটে করে ক্ষমতায় আসেনি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো কোনো মিলিটারি ডিক্টেটরের পকেট থেকে বের হয়নি। ক্ষমতা বা ইমার্জেন্সি দিয়ে ক্ষমতা দখল করেও কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ভোটের মাধ্যমেই এসেছে, নির্বাচনের মাধ্যমে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশে নির্বাচনে যতটুকু উন্নতি, যতটুকু সংস্কার এটা আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সবাইকে নিয়ে করেছি। এরপরও যদি কেউ না আসে, সেখানে আমার কি করণীয়? হারার ভয়ে তো আসব না বা একেবারে সবাইকে লোকমা তুলে খাইয়ে দিতে হবে, তবে আসব; এটা তো আর হয় না।

শেখ হাসিনা বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা তো জনগণের কাছে যেতে ভয় পায়। জনগণের সামনে ভোট চাইতে গিয়েও ভয় পায়। এটা হলো বাস্তবতা। অগ্নিসংযোগ করে যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদেরকে কি মানুষ ভোট দেবে? কখনো দিতে পারে না। কারণ সেই পোড়া ঘা তো সবার শুকোয়নি। এখনো কষ্ট পাচ্ছে। গ্রেনেডের হামলায় যারা আহত বা এ দেশে লুট করে খেয়েছে, সে কথা তো ভাবতে হবে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দলীয়প্রধান বলেন, ডিসেম্বর মাসে আমরা আমাদের দলের সম্মেলন করব। দল সিদ্ধান্ত নেবে। দ্বিতীয় হলো পরবর্তী বছরেই তো আমাদের নির্বাচন। নির্বাচনের প্রস্তুতিও আমরা এখন থেকে নিচ্ছি। কারণ, আমাদের দল বাংলাদেশে একটি মাত্র দল যারা আমাদের গঠনতন্ত্র মেনে চলি। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই আমাদের গঠনতন্ত্র মোতাবেক সিদ্ধান্ত নিই।

তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবারে নির্বাচনে আমরা কি কি ওয়াদা করেছিলাম, কতটুকু বাস্তবায়ন করেছি; আগামীতে কি করব সেটাও আমরা সেভাবে তৈরি করি। বিষয়টি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা রেখে আমরা কাজ করছি।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে টানা ১৮ দিনের সফর সরকারপ্রধান ব্রিটেনে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের সিংহাসনে আরোহণ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনাতেও অংশ নেন। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেন এবং এর পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সফর শেষে সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।