ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কিমের মিসাইলের জবাবে পাল্টা ৪ মিসাইল ছুড়ল দ. কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র

পূর্ব এশিয়ায় উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের একদিনের মাথায় এবার পাল্টা চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৫ অক্টোবর) পূর্ব সাগরে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে দেশ দু’টি।

পূর্ব সাগরটি সাধারণত জাপান সাগর নামে পরিচিত। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা ইয়োনহাপ।

এর আগে মঙ্গলবার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জাপানের ওপর দিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাপানের ওপর দিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার জবাবে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যেকে দু’টি করে আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রই নকল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।

মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়ে। জাপান বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরে পড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্রটি তার ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে বলে মনে হওয়ায় সরকার নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে।

দেশটি বলেছে, ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো জাপানের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া বা ভূখণ্ড অতিক্রম করা উত্তর কোরিয়ার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার জন্য জাপান কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেনি।

জাপানের প্রধান সরকারি মুখপাত্র হিরোকাজু মাতসুনো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ এক হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় ৪ হাজার ৬০০ কিলোমিটার (২ হাজার ৮৫০ মাইল) উড়েছিল। অন্যদিকে এটি মধ্যবর্তী-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইআরবিএম) ছিল বলে জানায় দক্ষিণ কোরিয়া।

এর পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে ‘উস্কানি’ বলে অভিহিত করেন এবং ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। পরে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েলো সাগরে একটি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালায়।

জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘স্পষ্টভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসাবে উল্লেখ করে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নিন্দা করেছেন ‘কঠোর ভাষায়’।

Tag :
জনপ্রিয়

বোমা ফেলে থামানোর চেষ্টা বিশ্বের বৃহত্তম জীবন্ত আগ্নেয়গিরির লাভাস্রোত!

কিমের মিসাইলের জবাবে পাল্টা ৪ মিসাইল ছুড়ল দ. কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের সময় : ০৫:২১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২

পূর্ব এশিয়ায় উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের একদিনের মাথায় এবার পাল্টা চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৫ অক্টোবর) পূর্ব সাগরে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে দেশ দু’টি।

পূর্ব সাগরটি সাধারণত জাপান সাগর নামে পরিচিত। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা ইয়োনহাপ।

এর আগে মঙ্গলবার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জাপানের ওপর দিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাপানের ওপর দিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার জবাবে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যেকে দু’টি করে আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রই নকল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।

মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়ে। জাপান বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরে পড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্রটি তার ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে বলে মনে হওয়ায় সরকার নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে।

দেশটি বলেছে, ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো জাপানের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া বা ভূখণ্ড অতিক্রম করা উত্তর কোরিয়ার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার জন্য জাপান কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেনি।

জাপানের প্রধান সরকারি মুখপাত্র হিরোকাজু মাতসুনো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ এক হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় ৪ হাজার ৬০০ কিলোমিটার (২ হাজার ৮৫০ মাইল) উড়েছিল। অন্যদিকে এটি মধ্যবর্তী-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইআরবিএম) ছিল বলে জানায় দক্ষিণ কোরিয়া।

এর পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে ‘উস্কানি’ বলে অভিহিত করেন এবং ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। পরে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েলো সাগরে একটি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালায়।

জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘স্পষ্টভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসাবে উল্লেখ করে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নিন্দা করেছেন ‘কঠোর ভাষায়’।