ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে পদ্ম‌সেতুর আদলে পূজামন্ডপ দেখ‌তে দর্শনার্থী‌দের ভীড়

মোঃ ফজলুল ক‌রিম, শেরপুর প্রতি‌নি‌ধিঃ পূজা মণ্ডপে স্বপ্নের পদ্মা সেতু! অবাক করার মতো কথা হলেও, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শেরপুরের একটি মণ্ডপ সাজানো হয়েছে পদ্মা সেতুর আদলে। শেরপুর পৌর শহরের বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাবের উদ্যোগে বানানো এই ভিন্নধর্মী আয়োজন দেখতে দিনরাত ভীড় করছেন দর্শনার্থীরা। গেলো বছরও পুকুরে ভাসমান করোনা ভাইরাসের অবয়ব তৈরী করেছিলো সংগঠনটি। শেরপুরের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় মহাধুমধামে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। সব মণ্ডপই সাজানো হয়েছে আকর্ষণীয় সাজে। রঙিন আলো আর কারুকাজের কমতি রাখে নি কারিগররা। মহালয়ার পর থেকে পূণ্যার্থীদের প্রার্থনা আর দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখোরিত প্রতিটি মণ্ডপ। বাহারি রঙে ভিন্ন আয়োজনে নিজেদের মণ্ডপ সাজাতে আয়োজকদের মধ্যেও চলছে প্রতিযোগিতা। তবে ভিন্ন আয়োজন শেরপুর পৌর শহরের বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাব মণ্ডপে। প্রাচীন এই মন্দিরে প্রতি বছরই ভিন্ন ভিন্ন চলমান বিষয়ের সাথে মিল রেখে সাজানো হয় মণ্ডপ। বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার আদলে মণ্ডপ সাজিয়ে আলোচনায় এসেছেন এখানকার কারিগর সনজিত সূত্রধর। এবার স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় পুকুরের উপর তৈরি করেছেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এবার দীর্ঘ একমাস প্রচেষ্টায় দিন রাত পরিশ্রম করে তৈরী করেছেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সনজিত সূত্রধর পেশায়
ব্যবসায়ী। ফুল ও ককশিট দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের সাজ সজ্জার পণ্য তৈরির কাজ করেন তিনি। শেরপুরে মা-মনি ফুল সাজ সজ্জা ঘর নামে একটি দোকান রয়েছে তার। সনজিত সূত্রধরের স্ত্রী বলেন, প্রতি বছরই স্থানীয়ভাবে বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাবের উদ্যোগে জলের উপর আমরা কিছু তৈরী করি। গত বছর আমরা করোনা ভাইরাস বানিয়েছিলাম। তার আগে পানসী নৌকায় মণ্ডপ করেছিলাম। এবারও আমার স্বামী যখন আমাকে কিছু তৈরীর কথা বললো, তখন আমি তাকে পদ্মা সেতু বানাতে বলেছিলাম। সে ভয় পেলেও আমার অনুপ্রেরণায় এক মাসের পরিশ্রমে এই পদ্মা সেতু তৈরী করেছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের পদ্মাসেতু আমরা নিজেরা
নিজেদের পুকুরে তৈরি করে বেশ গর্বিত।
কারগির সনজিত সূত্রধর বলেন, আমার স্ত্রীর কথায় প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। তারপর সাহস করে শুরু করি। ইতোমধ্যে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, তবে এখনো কিছু হিসেব বাকি আছে।
এদিকে ভিন্নধর্মী এই আয়োজন দেখতে দিনরাত ভীড় করছেন দর্শনার্থীরা। জেলা শহরের বাইরে থেকেও পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থী আসছেন এই সেতু দেখতে। জয়ন্ত দে বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে অনেকেই যেতে পারবে না, তারা আগ্রহ নিয়ে এই সেতু দেখতে আসছেন। রিপন দে বলেন, পুকুরের পানিতে পদ্মা সেতু একটি অবাক করার বিষয়। ফেসবুকে ইতোমধ্যে ছবি ভাইরাল হবার পর সবাই এটি দেখতে আসছেন। তবে প্রতি বছর নিজেদের অর্থায়নে আকর্ষণীয় আয়োজন করলেও উন্নয়ন হয়নি বাগবাড়ি মন্দিরের। মন্দির উন্নয়নে সরকারের আর্থিক সহযোগিতা চান আয়োজকরা। বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাব মন্দিরের সভাপতি বিজয় দে বাবন বলেন, আমাদের এই প্রাচীন মন্দিরে আমরা প্রতি বছরই ভিন্ন কিছুর আয়োজন করি। কিন্তু আমাদের মন্দিরটি এখনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের মন্দিরের জন্য আর্থিক সহযোগিতা চাই। যাতে আমাদের মন্দিরটা একটু উন্নতি হয়।পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, এ বছর শেরপুর জেলায় ১৫৫টি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

সামনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই”যেকোনো মূল্যে সমাবেশ সফল করতে হবে: ফখরুল।

শেরপুরে পদ্ম‌সেতুর আদলে পূজামন্ডপ দেখ‌তে দর্শনার্থী‌দের ভীড়

প্রকাশের সময় : ০২:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২

মোঃ ফজলুল ক‌রিম, শেরপুর প্রতি‌নি‌ধিঃ পূজা মণ্ডপে স্বপ্নের পদ্মা সেতু! অবাক করার মতো কথা হলেও, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শেরপুরের একটি মণ্ডপ সাজানো হয়েছে পদ্মা সেতুর আদলে। শেরপুর পৌর শহরের বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাবের উদ্যোগে বানানো এই ভিন্নধর্মী আয়োজন দেখতে দিনরাত ভীড় করছেন দর্শনার্থীরা। গেলো বছরও পুকুরে ভাসমান করোনা ভাইরাসের অবয়ব তৈরী করেছিলো সংগঠনটি। শেরপুরের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় মহাধুমধামে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। সব মণ্ডপই সাজানো হয়েছে আকর্ষণীয় সাজে। রঙিন আলো আর কারুকাজের কমতি রাখে নি কারিগররা। মহালয়ার পর থেকে পূণ্যার্থীদের প্রার্থনা আর দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখোরিত প্রতিটি মণ্ডপ। বাহারি রঙে ভিন্ন আয়োজনে নিজেদের মণ্ডপ সাজাতে আয়োজকদের মধ্যেও চলছে প্রতিযোগিতা। তবে ভিন্ন আয়োজন শেরপুর পৌর শহরের বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাব মণ্ডপে। প্রাচীন এই মন্দিরে প্রতি বছরই ভিন্ন ভিন্ন চলমান বিষয়ের সাথে মিল রেখে সাজানো হয় মণ্ডপ। বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার আদলে মণ্ডপ সাজিয়ে আলোচনায় এসেছেন এখানকার কারিগর সনজিত সূত্রধর। এবার স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় পুকুরের উপর তৈরি করেছেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এবার দীর্ঘ একমাস প্রচেষ্টায় দিন রাত পরিশ্রম করে তৈরী করেছেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সনজিত সূত্রধর পেশায়
ব্যবসায়ী। ফুল ও ককশিট দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের সাজ সজ্জার পণ্য তৈরির কাজ করেন তিনি। শেরপুরে মা-মনি ফুল সাজ সজ্জা ঘর নামে একটি দোকান রয়েছে তার। সনজিত সূত্রধরের স্ত্রী বলেন, প্রতি বছরই স্থানীয়ভাবে বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাবের উদ্যোগে জলের উপর আমরা কিছু তৈরী করি। গত বছর আমরা করোনা ভাইরাস বানিয়েছিলাম। তার আগে পানসী নৌকায় মণ্ডপ করেছিলাম। এবারও আমার স্বামী যখন আমাকে কিছু তৈরীর কথা বললো, তখন আমি তাকে পদ্মা সেতু বানাতে বলেছিলাম। সে ভয় পেলেও আমার অনুপ্রেরণায় এক মাসের পরিশ্রমে এই পদ্মা সেতু তৈরী করেছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের পদ্মাসেতু আমরা নিজেরা
নিজেদের পুকুরে তৈরি করে বেশ গর্বিত।
কারগির সনজিত সূত্রধর বলেন, আমার স্ত্রীর কথায় প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। তারপর সাহস করে শুরু করি। ইতোমধ্যে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, তবে এখনো কিছু হিসেব বাকি আছে।
এদিকে ভিন্নধর্মী এই আয়োজন দেখতে দিনরাত ভীড় করছেন দর্শনার্থীরা। জেলা শহরের বাইরে থেকেও পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থী আসছেন এই সেতু দেখতে। জয়ন্ত দে বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে অনেকেই যেতে পারবে না, তারা আগ্রহ নিয়ে এই সেতু দেখতে আসছেন। রিপন দে বলেন, পুকুরের পানিতে পদ্মা সেতু একটি অবাক করার বিষয়। ফেসবুকে ইতোমধ্যে ছবি ভাইরাল হবার পর সবাই এটি দেখতে আসছেন। তবে প্রতি বছর নিজেদের অর্থায়নে আকর্ষণীয় আয়োজন করলেও উন্নয়ন হয়নি বাগবাড়ি মন্দিরের। মন্দির উন্নয়নে সরকারের আর্থিক সহযোগিতা চান আয়োজকরা। বাগবাড়ি বয়েজ ক্লাব মন্দিরের সভাপতি বিজয় দে বাবন বলেন, আমাদের এই প্রাচীন মন্দিরে আমরা প্রতি বছরই ভিন্ন কিছুর আয়োজন করি। কিন্তু আমাদের মন্দিরটি এখনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের মন্দিরের জন্য আর্থিক সহযোগিতা চাই। যাতে আমাদের মন্দিরটা একটু উন্নতি হয়।পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, এ বছর শেরপুর জেলায় ১৫৫টি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।