ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে মা-ছেলেসহ একই পরিবারের ৩ জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহন

মোঃ ফজলুল ক‌রিম , শেরপুর প্রতি‌নি‌ধিঃ শেরপুরে একই পরিবারের মা ও ২ পুত্রসহ ৩ জন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে। তারা সনাতনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে এ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। তারা আজ ৪ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকে‌লে প্রথমে একজন মাওলানার কাছে কালেমা পড়ে এবং পরে আদালতে হাজির হয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের সনাতনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। এরা হলো জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার শহরের গড়কান্দা মহল্লার মৃত খগেন বিশ্বাসের স্ত্রী সবিতা রানী, তার পুত্র জয় ও বিজয়। বর্তমানে তারা তাদের নাম গ্রহন করেছেন আছিয়া বেগম এবং মোহাম্মদ হাসান ও মোহাম্মদ হোসাইন।

জানাগেছে, জয় শেরপুর জেলা শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. ফরিদুল ইসলামে সিয়ান চেইন সেন্টারে ছোট ছেলে বিজয় বালা তৈরীর কাজ করছেন। এক পর্যায়ে তারা মুসলমানদের আঁচার অনুষ্ঠান ভালো লাগায় তার মলিক ফরিদকে প্রস্তাব দেন সে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করবে। তখন ফরিদ জানায়, তার অভিভাবকের সাথে কথা বলে অনুমতি নিয়ে আইনগত ভাবে তা করতে হবে। পরে বিজয় তার ভাই জয় এবং মা সবিতা রাণীর সাথে কথা বললে তারাও ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে রাজি হয়। এরপর তারা ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং ইউপি সদস্য সুলতান সরকারের সহযোগিতায় এডভোকেট মেরাজ উদ্দিনের সহযোগিতায় আদালতে হাজির হয়ে এফিডেভিট করেন। তার আগে তারা স্থানীয় মুফতি নুরুল আলমের কাছে কলেমা পড়েন।
এবিষয়ে নওমুসলিম আছিয়া বেগম জানায়, ইসলাম ধর্ম আমার অনেক আগে থেকেই ভালো লাগতো। প্রতিবেশীদের ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখে আমারও ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে মন চাইতো। ছেলে বিজয় ইসলাম ধর্ম গ্রহন করছে শুনে আমি এবং আমার অন্য ছেলে জয়কে নিয়ে রাজি হই ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে।
এবিষয়ে বিজয় জানায়, কারো প্ররোচনায় ইসলাম ধর্ম গ্রহন করিনি। আমি অনেক দিন থেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহনের জন্য নিজে নিজেই খতনা করেছি। আজ আমার মা ও ভাইকে নিয়ে আদালতের মাধ্যমে এবং কলেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলাম।
এবিষয়ে এডভোকেট মেরাজ উদ্দিন জানায়, অদ্য ৪ অক্টোবর মঙ্গলবার স্বর্গীয় খগেন বিশ্বাসের স্ত্রী সবিতা রাণী বিশ্বাস ও তার দুই পুত্র স্বেচ্ছায় আমার কাছে এসে তাদের সনাতনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন। আমি তাদের মাননীয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মেহেদী হাসানের মাধ্যেমে এফিডেভিট সম্পন্ন করেছি।

 

Tag :
জনপ্রিয়

বিক্ষোভের জেরে বাধ্যতামূলক ‘হেডস্কার্ফ আইন’ পর্যালোচনা শুরু করেছে ইরান

শেরপুরে মা-ছেলেসহ একই পরিবারের ৩ জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহন

প্রকাশের সময় : ০২:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২

মোঃ ফজলুল ক‌রিম , শেরপুর প্রতি‌নি‌ধিঃ শেরপুরে একই পরিবারের মা ও ২ পুত্রসহ ৩ জন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে। তারা সনাতনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে এ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। তারা আজ ৪ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকে‌লে প্রথমে একজন মাওলানার কাছে কালেমা পড়ে এবং পরে আদালতে হাজির হয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের সনাতনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। এরা হলো জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার শহরের গড়কান্দা মহল্লার মৃত খগেন বিশ্বাসের স্ত্রী সবিতা রানী, তার পুত্র জয় ও বিজয়। বর্তমানে তারা তাদের নাম গ্রহন করেছেন আছিয়া বেগম এবং মোহাম্মদ হাসান ও মোহাম্মদ হোসাইন।

জানাগেছে, জয় শেরপুর জেলা শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. ফরিদুল ইসলামে সিয়ান চেইন সেন্টারে ছোট ছেলে বিজয় বালা তৈরীর কাজ করছেন। এক পর্যায়ে তারা মুসলমানদের আঁচার অনুষ্ঠান ভালো লাগায় তার মলিক ফরিদকে প্রস্তাব দেন সে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করবে। তখন ফরিদ জানায়, তার অভিভাবকের সাথে কথা বলে অনুমতি নিয়ে আইনগত ভাবে তা করতে হবে। পরে বিজয় তার ভাই জয় এবং মা সবিতা রাণীর সাথে কথা বললে তারাও ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে রাজি হয়। এরপর তারা ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং ইউপি সদস্য সুলতান সরকারের সহযোগিতায় এডভোকেট মেরাজ উদ্দিনের সহযোগিতায় আদালতে হাজির হয়ে এফিডেভিট করেন। তার আগে তারা স্থানীয় মুফতি নুরুল আলমের কাছে কলেমা পড়েন।
এবিষয়ে নওমুসলিম আছিয়া বেগম জানায়, ইসলাম ধর্ম আমার অনেক আগে থেকেই ভালো লাগতো। প্রতিবেশীদের ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখে আমারও ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে মন চাইতো। ছেলে বিজয় ইসলাম ধর্ম গ্রহন করছে শুনে আমি এবং আমার অন্য ছেলে জয়কে নিয়ে রাজি হই ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে।
এবিষয়ে বিজয় জানায়, কারো প্ররোচনায় ইসলাম ধর্ম গ্রহন করিনি। আমি অনেক দিন থেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহনের জন্য নিজে নিজেই খতনা করেছি। আজ আমার মা ও ভাইকে নিয়ে আদালতের মাধ্যমে এবং কলেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলাম।
এবিষয়ে এডভোকেট মেরাজ উদ্দিন জানায়, অদ্য ৪ অক্টোবর মঙ্গলবার স্বর্গীয় খগেন বিশ্বাসের স্ত্রী সবিতা রাণী বিশ্বাস ও তার দুই পুত্র স্বেচ্ছায় আমার কাছে এসে তাদের সনাতনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন। আমি তাদের মাননীয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মেহেদী হাসানের মাধ্যেমে এফিডেভিট সম্পন্ন করেছি।