ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস

মরিয়ম খাতুন। বয়স সত্তরের কোটায়। এক সময় সাজানো-গোছানো সংসার ছিল তার। তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন নিজের বাড়ি। ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনিরা সুখে বসবাস করছে সেই বাড়িতে। কিন্তু জীবনসায়াহ্নে এসে তার নিজের ঠাঁইটুকু হয়নি সেখানে। এখন রাজধানীর উপকণ্ঠে উত্তরখানের ‘আপন নিবাস’ বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা এই নারী। সত্তরে এসেও দিব্যি চলাফেরা করতে পারেন তিনি। কারও সাহায্য ছাড়াই করেন নিজের সব কাজকর্ম। ছেলেমেয়েরা একবারের জন্যও খোঁজ নেয় না তার।

শুধু মরিয়ম খাতুন নন, তার মতো আরও এমন ৮৫ জন নারীর ঠাঁই হয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রমে। তাদের বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছর। কারও বা আরও বেশি। তাদের অনেকেরই চলাফেরার সামর্থ্য নেই। এখানে আসার আগে কেউ পড়ে ছিলেন রাস্তায়, কেউ ছিলেন মাজারে। কেউ বা দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে দিন শেষে রাত কাটাতেন কারও বাড়ির বারান্দায়। কোনো দিন হয়তো এক বেলা খাবারও জুটত না। আবার কারও জমিজমা থাকলেও ছেলেমেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের অবহেলায় জীবনের শেষ সময়টা কাটাতে হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। মরিয়ম খাতুনের মতোই একজন বরিশালের উজিরপুরের মুকুল বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু কোনো সন্তান হয়নি। স্বামী মারা যাওয়ার পর যে সম্পত্তি ছিল তার আত্মীয়রা সবই জোর করে নিয়ে গেছে। ভাইয়েরাও খোঁজখবর নেয় না। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে ঢাকায় চলে আসি। কিছুদিন ভিক্ষা করার পর একজনের মাধ্যমে এখানে আশ্রয় নিই। এখানে খুব ভালো আছি।’

তবে এ বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই নেওয়াদের সবার গল্প এক রকম নয়। কেউ এসেছেন দেখভাল করার মতো কেউ নেই বলে। কেউ সন্তানদের অবহেলার কারণে। আবার কেউ এসেছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে। তবে সত্য হলো, যারা গর্ভেধারণ করেছেন সন্তান, লালনপালন করেছেন পরম মমতায়, আবার কঠোর পরিশ্রমে সামলিয়েছেন সংসার, উপেক্ষা করেছেন নিজের চাওয়া-পাওয়া, তারাই আজ উপেক্ষিত, চরম অবহেলার শিকার সন্তান-স্বজনদের কাছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘পরিবর্তিত বিশ্বে প্রবীণ ব্যক্তির সহনশীলতা’ প্রতিপাদ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আজ বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রবীণ দিবস।

জীবনের পড়ন্ত বিকালে এসে নিজ বাসভূম থেকে ছিটকে পড়া এ মায়েদের একটু আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া ‘আপন নিবাস-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সৈয়দা সেলিনা হক শেলী বলেন, ‘এখানে যারা আছেন তাদের বেশিরভাগই ছিন্নমূল, হতদরিদ্র। অথচ যৌবনে এদের কেউ ছিলেন কর্মজীবী নারী, কেউ ছিলেন গার্মেন্টসকর্মী, আবার কেউ ছিলেন কারও পরম মমতাময়ী মা। কর্মক্ষম সময়ে যে মানুষটা নিজের জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন সন্তানের জন্য, এখন সেই সন্তানদের কাছেই চরমভাবে অবহেলিত।’

তিনি বলেন, ‘পরিবার-পরিজন থেকে নির্বাসিত এ মায়েদের বেশিরভাগই মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। সবাই কমবেশি শারীরিকভাবেও অসুস্থ। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো- এখানে কোনো মা মারা গেলেও সন্তান বা স্বজনরা খোঁজ নেন না। দাফন করার জন্যও সন্তানরা আসেন না, যা খুব দুঃখজনক।’

জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা এক কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার। তারা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০১১ সালের জনশুমারিতে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা উন্নয়ন তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৫-২৬ সালে প্রবীণের সংখ্যা হবে দুই কোটি। ২০৫০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে সাড়ে চার কোটি, যা হবে তখনকার জনসংখ্যার ২১ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের মতো দারিদ্র্যপ্রবণ দেশে খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় প্রবীণরা প্রতিনিয়ত জর্জরিত হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রবীণ নারীরা দুঃখ-কষ্ট, বৈষম্য ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বেশি। অথচ সমাজ গড়ার মূল কারিগর এ প্রবীণ জনগোষ্ঠী। প্রবীণদের প্রতি সহনশীল দৃষ্টি জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

তারা বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশে প্রবীণ বা সিনিয়র সিটিজেনদের যেভাবে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হয়, তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়, আমাদের দেশে সেভাবে করা হয় না। প্রবীণরা বোঝা নন, বরং সম্পদ। তাই প্রবীণদের কল্যাণে প্রাথমিক চিকিৎসাব্যবস্থা, প্রবীণ নিবাস, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাব্যবস্থা, আর্থিক সমর্থন, পুষ্টিকর খাদ্য এবং অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখন মানুষ অনেকটাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। অনেক সামর্থ্যবান সন্তানও নিজের বাবা-মাকে দেখে না। আবার যাদের সামর্থ্য আছে তারাও নিজের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পিতা-মাতাকে দূরে ঠেলে দেয়। অর্থাৎ সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে এবং মূল্যবোধ এবং পারিবারিক বন্ধন হারিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমদের দেশে প্রবীণরা সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নন। সমাজ ও পরিবারও অনেক সময় তাদের অপ্রয়োজনীয় মনে করে। ফলে তারা পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে প্রবীণদেরও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অনেক অধিকার আছে। সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।’

প্রতি বছরের মতো এবারও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদফতর যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রবীণ দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে আগারগাঁও সমাজসেবা অধিদফতরে আলোচনা সভা ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। এতে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ প্রধান অতিথি ও প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বিশেষ অতিথি থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সমাজ কল্যাণ সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম।

Tag :
জনপ্রিয়

বোমা ফেলে থামানোর চেষ্টা বিশ্বের বৃহত্তম জীবন্ত আগ্নেয়গিরির লাভাস্রোত!

আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস

প্রকাশের সময় : ০৭:১৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২

মরিয়ম খাতুন। বয়স সত্তরের কোটায়। এক সময় সাজানো-গোছানো সংসার ছিল তার। তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন নিজের বাড়ি। ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনিরা সুখে বসবাস করছে সেই বাড়িতে। কিন্তু জীবনসায়াহ্নে এসে তার নিজের ঠাঁইটুকু হয়নি সেখানে। এখন রাজধানীর উপকণ্ঠে উত্তরখানের ‘আপন নিবাস’ বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা এই নারী। সত্তরে এসেও দিব্যি চলাফেরা করতে পারেন তিনি। কারও সাহায্য ছাড়াই করেন নিজের সব কাজকর্ম। ছেলেমেয়েরা একবারের জন্যও খোঁজ নেয় না তার।

শুধু মরিয়ম খাতুন নন, তার মতো আরও এমন ৮৫ জন নারীর ঠাঁই হয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রমে। তাদের বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছর। কারও বা আরও বেশি। তাদের অনেকেরই চলাফেরার সামর্থ্য নেই। এখানে আসার আগে কেউ পড়ে ছিলেন রাস্তায়, কেউ ছিলেন মাজারে। কেউ বা দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে দিন শেষে রাত কাটাতেন কারও বাড়ির বারান্দায়। কোনো দিন হয়তো এক বেলা খাবারও জুটত না। আবার কারও জমিজমা থাকলেও ছেলেমেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের অবহেলায় জীবনের শেষ সময়টা কাটাতে হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। মরিয়ম খাতুনের মতোই একজন বরিশালের উজিরপুরের মুকুল বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু কোনো সন্তান হয়নি। স্বামী মারা যাওয়ার পর যে সম্পত্তি ছিল তার আত্মীয়রা সবই জোর করে নিয়ে গেছে। ভাইয়েরাও খোঁজখবর নেয় না। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে ঢাকায় চলে আসি। কিছুদিন ভিক্ষা করার পর একজনের মাধ্যমে এখানে আশ্রয় নিই। এখানে খুব ভালো আছি।’

তবে এ বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই নেওয়াদের সবার গল্প এক রকম নয়। কেউ এসেছেন দেখভাল করার মতো কেউ নেই বলে। কেউ সন্তানদের অবহেলার কারণে। আবার কেউ এসেছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে। তবে সত্য হলো, যারা গর্ভেধারণ করেছেন সন্তান, লালনপালন করেছেন পরম মমতায়, আবার কঠোর পরিশ্রমে সামলিয়েছেন সংসার, উপেক্ষা করেছেন নিজের চাওয়া-পাওয়া, তারাই আজ উপেক্ষিত, চরম অবহেলার শিকার সন্তান-স্বজনদের কাছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘পরিবর্তিত বিশ্বে প্রবীণ ব্যক্তির সহনশীলতা’ প্রতিপাদ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আজ বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রবীণ দিবস।

জীবনের পড়ন্ত বিকালে এসে নিজ বাসভূম থেকে ছিটকে পড়া এ মায়েদের একটু আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া ‘আপন নিবাস-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সৈয়দা সেলিনা হক শেলী বলেন, ‘এখানে যারা আছেন তাদের বেশিরভাগই ছিন্নমূল, হতদরিদ্র। অথচ যৌবনে এদের কেউ ছিলেন কর্মজীবী নারী, কেউ ছিলেন গার্মেন্টসকর্মী, আবার কেউ ছিলেন কারও পরম মমতাময়ী মা। কর্মক্ষম সময়ে যে মানুষটা নিজের জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন সন্তানের জন্য, এখন সেই সন্তানদের কাছেই চরমভাবে অবহেলিত।’

তিনি বলেন, ‘পরিবার-পরিজন থেকে নির্বাসিত এ মায়েদের বেশিরভাগই মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। সবাই কমবেশি শারীরিকভাবেও অসুস্থ। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো- এখানে কোনো মা মারা গেলেও সন্তান বা স্বজনরা খোঁজ নেন না। দাফন করার জন্যও সন্তানরা আসেন না, যা খুব দুঃখজনক।’

জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা এক কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার। তারা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০১১ সালের জনশুমারিতে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা উন্নয়ন তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৫-২৬ সালে প্রবীণের সংখ্যা হবে দুই কোটি। ২০৫০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে সাড়ে চার কোটি, যা হবে তখনকার জনসংখ্যার ২১ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের মতো দারিদ্র্যপ্রবণ দেশে খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় প্রবীণরা প্রতিনিয়ত জর্জরিত হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রবীণ নারীরা দুঃখ-কষ্ট, বৈষম্য ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বেশি। অথচ সমাজ গড়ার মূল কারিগর এ প্রবীণ জনগোষ্ঠী। প্রবীণদের প্রতি সহনশীল দৃষ্টি জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

তারা বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশে প্রবীণ বা সিনিয়র সিটিজেনদের যেভাবে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হয়, তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়, আমাদের দেশে সেভাবে করা হয় না। প্রবীণরা বোঝা নন, বরং সম্পদ। তাই প্রবীণদের কল্যাণে প্রাথমিক চিকিৎসাব্যবস্থা, প্রবীণ নিবাস, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাব্যবস্থা, আর্থিক সমর্থন, পুষ্টিকর খাদ্য এবং অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখন মানুষ অনেকটাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। অনেক সামর্থ্যবান সন্তানও নিজের বাবা-মাকে দেখে না। আবার যাদের সামর্থ্য আছে তারাও নিজের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পিতা-মাতাকে দূরে ঠেলে দেয়। অর্থাৎ সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে এবং মূল্যবোধ এবং পারিবারিক বন্ধন হারিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমদের দেশে প্রবীণরা সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নন। সমাজ ও পরিবারও অনেক সময় তাদের অপ্রয়োজনীয় মনে করে। ফলে তারা পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে প্রবীণদেরও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অনেক অধিকার আছে। সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।’

প্রতি বছরের মতো এবারও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদফতর যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রবীণ দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে আগারগাঁও সমাজসেবা অধিদফতরে আলোচনা সভা ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। এতে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ প্রধান অতিথি ও প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বিশেষ অতিথি থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সমাজ কল্যাণ সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম।