ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল যুগে এনালগ সিস্টেম,সরকারি নির্দেশনা মানছে না শেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ

মোঃ ফজলুল ক‌রিম , শেরপুর প্রতিনিধি:

তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। কাজে এসেছে সচ্ছতা ও নিরাপত্তা। তবে
ডিজিটাল যুগে এনালগ সিস্টেমে টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু রেখে হাসির খোরাকে পরিনত হয়েছে শেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ। আইনে সরকারি (টেন্ডার) ক্রয়ের ক্ষেত্রে দূর্নীতি, অনিয়ম বন্ধ করার জন্য আধুনিক ই-জিপি (ই-গভমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) বাধ্যতা মূলক। গত ৪ অক্টোবর-২০২০ দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের সকল প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এক চিঠিতে (স্মারক স্বাস্থ্য/অধিঃ/হিসাব/বিবিধ-৬/২০১৫-১০১৬/৭৫১) ই-জিপিতে টেন্ডার আহবান করার নির্দেশ দেয়। কিন্ত রহস্য জনক কারণে শেরপুরে ম‌্যান্যুয়াল পদ্ধতিতেই হচ্ছে টেন্ডার, মানা হচ্ছে না সরকারি আদেশ।

ই-টেন্ডার সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সহয়তা নিতে প্রস্তত সরকারের সিপিটিইউ (কেন্দ্রীয় সংগ্রহ প্রযুক্তি ইউনিট)। এখানে আবেদন করলেই প্রশিক্ষণসহ ই-টেন্ডার সংক্রান্ত সকল সহযোগীতা দেওয়া হয় বলে জানা যায়। তবে সেই পদ্ধতি চালুর জন্য এখন পর্যন্ত শেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ আবেদনই করেনি। এবারও জেলা হাসপাতালের ঔষধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দুই কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হয়েছে সেই সনাতন পদ্ধতিতে। মেন্যুয়াল টেন্ডারে বারবার জটিলতার কারণে জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসন বারবার ই-টেন্ডারে যাবেন বলে আসলেও সেই সনাতন পদ্ধতিতেই নিস্পত্তির অপেক্ষা জেলা হাসপাতালের এই দুই কোটি টাকার টেন্ডার। গেল ১৯ তারিখে খোলা হয়েছে টেন্ডার বক্স।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, এই টেন্ডারে অনেকেই অংশ গ্রহন করতে পারেনি। সদ্য সমাপ্ত হওয়া ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদী হাসপাতালের টেন্ডার ড্রপিং হয়েছে একই ভাবে। অভিযোগ আছে এখানের টেন্ডারে ড্রপিং করতে আসা ঠিকাদাররা টেন্ডারবাজদের দাপটে অংশ নিতে পারেনি। চুপিসারে কজন ড্রপিং করলেও অভিযোগ রয়েছে টেন্ডার বাক্স থেকে সিডিউল গায়েব করে নির্ধারিত ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয় ওই চক্র।

জানা গেছে, অনেক আগে থেকেই শেরপুর জেলার একটি শক্তিশালি টেন্ডার গ্রুপ সক্রিয়। এই গ্রুপে আছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কজন কর্মকর্তা কর্মচারি। স্বাস্থ্য বিভাগ ইজিপির করার সিদ্ধান্ত নিলেও ওই চক্রের কারণে বিষয়টি আগায়নি। গেল বছর জেলার অন্তত তিনটি উপজেলায় টেন্ডার ছিনতাই‌য়ের ঘটনা ঘটে। প্রতি বছর টেন্ডার নিয়ে মামলা মোকদ্দমা দেন দরবার আপোষ মীমাংসাও কম হয়নি। তবুও সরকারি এই বিভাগটি ই-টেন্ডার যাচ্ছে না। জেলার সকল প্রকৌশল ও ক্রয়ে ই-টেন্ডার চালু থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগে হয়নি। ই-টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা সহজইে চিহ্নিত করা যাবে। আর টেন্ডার সংক্রান্ত সকল বিষয়ই জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে। ই-জিপিতে কাজ বাতিল দূর্নীতি বা অনিয়মে ব্যক্তির কোন ক্ষমতা নেই। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবার এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টেন্ডারে দুনীতির বিষয়টি ব্যাপক ভাবে চাউর রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এখানে গতানুগতিক টেন্ডারে নির্ধারিত সর্ব নিম্ন দরদাতা কাজ পাওয়ার পর অফিস ম্যানেজ করে পন্যের দরদাম ও পরিমান ঘষেমেজে পরিবর্তন করে প্রতি বছর সরকারের অর্থ আত্মসাৎ করছে। দেশের অধিকাংশ হাসপাতালে ই-টেন্ডার চালু থাকলেও শেরপুরে হয়নি। সূত্রের দাবী দূর্নীতি করতেই চালু রাখা হয়েছে ম‌্যান্যুয়াল পদ্ধতি ।

জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ জসিম উদ্দিনের দাবী তার আমলে কোন দু‌র্নিতি হয় নাই।ইজিপি করার বিষয়ে তিনি কোন আবেদন করেন নাই। তবে কমিটির সাথে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ অনুপম ভট্রাচার্য বলেছেন, জেলা হাসপতালের দায়িত্ব আমার না। তবে অন্যান্য উপজেলায় সামনের টেন্ডার ইজিপিতে করার বিষয়ে জোর চেষ্টা থাকবে। স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন, ইজিপি বাধ্যতামুলক। শেরপুরে কোন দুর্বলতার কারণে ই-জিপি হচ্ছে না খতিয়ে দেখা হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

দুর্বিপাক-দুর্যোগ সবক্ষেত্রেই সেনাবাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করছে: প্রধানমন্ত্রী।

ডিজিটাল যুগে এনালগ সিস্টেম,সরকারি নির্দেশনা মানছে না শেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ

প্রকাশের সময় : ০৫:০১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

মোঃ ফজলুল ক‌রিম , শেরপুর প্রতিনিধি:

তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। কাজে এসেছে সচ্ছতা ও নিরাপত্তা। তবে
ডিজিটাল যুগে এনালগ সিস্টেমে টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু রেখে হাসির খোরাকে পরিনত হয়েছে শেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ। আইনে সরকারি (টেন্ডার) ক্রয়ের ক্ষেত্রে দূর্নীতি, অনিয়ম বন্ধ করার জন্য আধুনিক ই-জিপি (ই-গভমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) বাধ্যতা মূলক। গত ৪ অক্টোবর-২০২০ দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের সকল প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এক চিঠিতে (স্মারক স্বাস্থ্য/অধিঃ/হিসাব/বিবিধ-৬/২০১৫-১০১৬/৭৫১) ই-জিপিতে টেন্ডার আহবান করার নির্দেশ দেয়। কিন্ত রহস্য জনক কারণে শেরপুরে ম‌্যান্যুয়াল পদ্ধতিতেই হচ্ছে টেন্ডার, মানা হচ্ছে না সরকারি আদেশ।

ই-টেন্ডার সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সহয়তা নিতে প্রস্তত সরকারের সিপিটিইউ (কেন্দ্রীয় সংগ্রহ প্রযুক্তি ইউনিট)। এখানে আবেদন করলেই প্রশিক্ষণসহ ই-টেন্ডার সংক্রান্ত সকল সহযোগীতা দেওয়া হয় বলে জানা যায়। তবে সেই পদ্ধতি চালুর জন্য এখন পর্যন্ত শেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ আবেদনই করেনি। এবারও জেলা হাসপাতালের ঔষধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দুই কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হয়েছে সেই সনাতন পদ্ধতিতে। মেন্যুয়াল টেন্ডারে বারবার জটিলতার কারণে জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসন বারবার ই-টেন্ডারে যাবেন বলে আসলেও সেই সনাতন পদ্ধতিতেই নিস্পত্তির অপেক্ষা জেলা হাসপাতালের এই দুই কোটি টাকার টেন্ডার। গেল ১৯ তারিখে খোলা হয়েছে টেন্ডার বক্স।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, এই টেন্ডারে অনেকেই অংশ গ্রহন করতে পারেনি। সদ্য সমাপ্ত হওয়া ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদী হাসপাতালের টেন্ডার ড্রপিং হয়েছে একই ভাবে। অভিযোগ আছে এখানের টেন্ডারে ড্রপিং করতে আসা ঠিকাদাররা টেন্ডারবাজদের দাপটে অংশ নিতে পারেনি। চুপিসারে কজন ড্রপিং করলেও অভিযোগ রয়েছে টেন্ডার বাক্স থেকে সিডিউল গায়েব করে নির্ধারিত ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয় ওই চক্র।

জানা গেছে, অনেক আগে থেকেই শেরপুর জেলার একটি শক্তিশালি টেন্ডার গ্রুপ সক্রিয়। এই গ্রুপে আছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কজন কর্মকর্তা কর্মচারি। স্বাস্থ্য বিভাগ ইজিপির করার সিদ্ধান্ত নিলেও ওই চক্রের কারণে বিষয়টি আগায়নি। গেল বছর জেলার অন্তত তিনটি উপজেলায় টেন্ডার ছিনতাই‌য়ের ঘটনা ঘটে। প্রতি বছর টেন্ডার নিয়ে মামলা মোকদ্দমা দেন দরবার আপোষ মীমাংসাও কম হয়নি। তবুও সরকারি এই বিভাগটি ই-টেন্ডার যাচ্ছে না। জেলার সকল প্রকৌশল ও ক্রয়ে ই-টেন্ডার চালু থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগে হয়নি। ই-টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা সহজইে চিহ্নিত করা যাবে। আর টেন্ডার সংক্রান্ত সকল বিষয়ই জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে। ই-জিপিতে কাজ বাতিল দূর্নীতি বা অনিয়মে ব্যক্তির কোন ক্ষমতা নেই। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবার এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টেন্ডারে দুনীতির বিষয়টি ব্যাপক ভাবে চাউর রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এখানে গতানুগতিক টেন্ডারে নির্ধারিত সর্ব নিম্ন দরদাতা কাজ পাওয়ার পর অফিস ম্যানেজ করে পন্যের দরদাম ও পরিমান ঘষেমেজে পরিবর্তন করে প্রতি বছর সরকারের অর্থ আত্মসাৎ করছে। দেশের অধিকাংশ হাসপাতালে ই-টেন্ডার চালু থাকলেও শেরপুরে হয়নি। সূত্রের দাবী দূর্নীতি করতেই চালু রাখা হয়েছে ম‌্যান্যুয়াল পদ্ধতি ।

জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ জসিম উদ্দিনের দাবী তার আমলে কোন দু‌র্নিতি হয় নাই।ইজিপি করার বিষয়ে তিনি কোন আবেদন করেন নাই। তবে কমিটির সাথে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ অনুপম ভট্রাচার্য বলেছেন, জেলা হাসপতালের দায়িত্ব আমার না। তবে অন্যান্য উপজেলায় সামনের টেন্ডার ইজিপিতে করার বিষয়ে জোর চেষ্টা থাকবে। স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন, ইজিপি বাধ্যতামুলক। শেরপুরে কোন দুর্বলতার কারণে ই-জিপি হচ্ছে না খতিয়ে দেখা হবে।