ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে: নুর।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরকারকে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে এক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান তারা।

সমাবেশে গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক সানাউর রহমান তালুকদার, গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নুর, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্র মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, কোনো দলকে ক্ষমতা থেকে নামানো কিংবা ক্ষমতায় আনার জন্য নয়। দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। হামলা মামলা দিয়ে জনগণের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমরা এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকব।

 

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে গণতন্ত্র মঞ্চ উদ্যোগ নিয়ে এই সংবিধানকে নতুন করে বিনির্মাণ করবে। এই সংবিধান গত ৫০ বছরে ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। প্রতিটি সংশোধন ছিল শাসকদের সুবিধার জন্য।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চাই। বর্তমানে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে সেই পরিবারটি আর মধ্যবিত্ত থাকে না। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে গরিব হয়ে যায়। আমরা ক্ষমতায় গেলে সব গরিব মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেবো। আর আমাদের ক্ষমতায় আসতে হলে এই জালিম সরকারকে আগে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবি জানিয়ে মান্না বলেন, আমি এটা বলছি না যে, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাই না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তো লাগবেই। কিন্তু এই সরকার চলে গেলে যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমতায় দেবে তা হবে না। পরবর্তী নির্বাচনের ব্যবস্থাও করতে হবে।

আ স ম আব্দুর রব বলেন, সরকারের কেউ কেউ বলছে, ‌‘লাঠি নিয়ে সমাবেশে আসা যাবে না।’ আপনারা হেলমেট, স্ট্যাম্প, কুড়াল এগুলাকে তো দেখেন না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশকে বিক্রি করতে চাচ্ছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশে এখন এক ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসন চলছে। এই সরকার নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে যেকোনো কিছু করতে পারে। তারা মুখে অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে আর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নিজেরাই সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দেয়।

অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের দেশের আট বিভাগীয় শহর ও প্রতিটি জেলা শহরে গণতন্ত্র মঞ্চ সমাবেশ করবে বলে কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। জানান, ঢাকায় প্রতিটি থানায় থানায় সমাবেশ হবে, আগামী ৭ অক্টোবর কারওয়ান বাজারে সমাবেশের মধ্য দিয়ে সেটি শুরু হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

আগামী বছর থেকে বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে: নুর।

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরকারকে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে এক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান তারা।

সমাবেশে গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক সানাউর রহমান তালুকদার, গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নুর, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্র মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, কোনো দলকে ক্ষমতা থেকে নামানো কিংবা ক্ষমতায় আনার জন্য নয়। দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। হামলা মামলা দিয়ে জনগণের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমরা এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকব।

 

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে গণতন্ত্র মঞ্চ উদ্যোগ নিয়ে এই সংবিধানকে নতুন করে বিনির্মাণ করবে। এই সংবিধান গত ৫০ বছরে ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। প্রতিটি সংশোধন ছিল শাসকদের সুবিধার জন্য।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চাই। বর্তমানে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে সেই পরিবারটি আর মধ্যবিত্ত থাকে না। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে গরিব হয়ে যায়। আমরা ক্ষমতায় গেলে সব গরিব মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেবো। আর আমাদের ক্ষমতায় আসতে হলে এই জালিম সরকারকে আগে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবি জানিয়ে মান্না বলেন, আমি এটা বলছি না যে, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাই না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তো লাগবেই। কিন্তু এই সরকার চলে গেলে যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমতায় দেবে তা হবে না। পরবর্তী নির্বাচনের ব্যবস্থাও করতে হবে।

আ স ম আব্দুর রব বলেন, সরকারের কেউ কেউ বলছে, ‌‘লাঠি নিয়ে সমাবেশে আসা যাবে না।’ আপনারা হেলমেট, স্ট্যাম্প, কুড়াল এগুলাকে তো দেখেন না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশকে বিক্রি করতে চাচ্ছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশে এখন এক ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসন চলছে। এই সরকার নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে যেকোনো কিছু করতে পারে। তারা মুখে অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে আর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নিজেরাই সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দেয়।

অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের দেশের আট বিভাগীয় শহর ও প্রতিটি জেলা শহরে গণতন্ত্র মঞ্চ সমাবেশ করবে বলে কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। জানান, ঢাকায় প্রতিটি থানায় থানায় সমাবেশ হবে, আগামী ৭ অক্টোবর কারওয়ান বাজারে সমাবেশের মধ্য দিয়ে সেটি শুরু হবে।