ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সূক্ষ্মভাবে চুরি, নিত্যনতুন কৌশলের প্রয়োগ

শহরে চোরের ছদ্মবেশ

মো. আজিজুল হক ফকির (৪৭)। তিনি একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। মাদারীপুরের শিরখাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। অথচ তিনিই কিনা পেশাদার চোর। নিয়মিত ঢাকায় এসে সংঘবদ্ধভাবে চুরি করেন। পুলিশের তথ্য অনুসারে, ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আজিজুল হক কেবল রাজধানীতে ৫০০টির অধিক জায়গায় চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন। অবশেষে মঙ্গলবার মিরপুরের বেনারসিপল্লিতে একটি শাড়ির দোকানে চুরির মালামালসহ তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীতে এমন চুরির ঘটনা ব্যাপক বেড়ে গেছে। বিভিন্ন পেশার আড়ালে বা ছদ্মবেশে চুরি করছে চোরচক্র। কথায় আছে ‘চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা, যদি না পড়ে ধরা’। আর এই ‘চুরি বিদ্যার’ চর্চা হচ্ছে ব্যাপকহারে। অর্থাৎ, সূক্ষ্মভাবে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে এবং ধরা পড়ার পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিনিয়তই চক্রের সদস্যরা ব্যবহার করছে নিত্যনতুন কৌশল। দিনের বেলায় কেউ ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা, কেউ অটোরিকশাচালক, কেউ মাছ বিক্রেতা আবার কেউ পুরনো জিনিসপত্র কেনার নামে শহরের অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মাঝেই সুযোগ পেলেই টার্গেট করা বাসাবাড়িতে ঢুকে ‘সর্বস্ব’ হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দিনে-রাতে এককভাবে বা সংঘবদ্ধভাবে চোরচক্রের সদস্যরা তৎপরতা চালাচ্ছে। দিনের বেলায় নানা পেশার ছদ্মবেশে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ‘রেকি’ করে। সুযোগ বুঝে রাতে বা দিনে চুরি করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এমন চার হাজার পেশাদার চোরের একটি তালিকা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চোরচক্রের চারজনকে গ্রেফতার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. ফারুক হোসেন বলেন, চুরির ঘটনা তদন্তে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি চোর ধরতে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে ডিএমপির। আটটি বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এবং ৫০টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চোর ধরতে ও চুরির ঘটনার মামলার আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। থানাগুলোকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি রাতে এবং ভোরের দিকে পেট্রলিং বাড়ানোসহ বাসাবাড়ি, দোকানপাটে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত রোববার রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর ‘কে’ ব্লকে ১৯ নম্বর রোডের এক সাংবাদিকের বাসায় সকাল ৯টায় চুরির ঘটনা ঘটে। বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে দরজার তালা ভেঙে সাত লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, পুরাতন জিনিসপত্র কেনার নামে কিছু লোকের আনাগোনা। গত ৩০ মার্চ কদমতলীর একটি বাসা থেকে নগদ টাকাসহ বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়। সেখানেও দেখা যায়, দুজন মাছ বিক্রেতা ছদ্মবেশে একটি বাসা থেকে চুরি করছে। তাদের ছবি প্রকাশ করে গ্রেফতারে সহায়তও চেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিএমপি অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত আট মাসে (জানুয়ারি- আগস্ট) চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে ১০৮০টি। চুরির মামলাগুলোর মধ্যে সিঁধেল চুরির ঘটনা ৫০০টি। গাড়ি চুরির ঘটনা আছে ৭১টি। বাকিগুলো অন্যান্য চুরি। এসব চুরির ঘটনায় প্রায় পাঁচ হাজার আসামিও গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের রেকর্ড বলছে, সম্প্রতি রাজধানীতে এমন চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। গত এক মাসে রাজধানীতে ৭৩টি চুরির মামলা হয়েছে। গত জুন ও জুলাই মাসে ১৩৫টি ও ১২১টি চুরির মামলা হয়েছে।

এসব চুরির ঘটনা থেকে বাদ যাননি পুলিশের সদর্যরাও। গত ২২ আগস্ট রাজধানীর ইস্কাটনে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মোজাম্মেল আহমেদের বাসা থেকে ৪৫ ভরি সোনা চুরির ঘটনা ঘটে। ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বাসার সাত তলায় গ্রিল কেটে চুরি করা হয় এসব অলংকার। চুরির ঘটনায় মোজাম্মেল আহমেদের মেয়ে বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়াও গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় হাইওয়ে পুলিশের এসপি মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। গত ১৮ আগস্ট প্রগতি সরণির কুড়িল মিয়াবাড়ি এলাকায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসহাক মিয়ার বাড়িতে দিনদুপুরে ঘটে চুরির ঘটনা। ভবনের নিচে ভাড়াটিয়ার দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় দুই চোর। সিসি ক্যামেরায় চোরদের শনাক্ত করতে পারলেও এখন পর্যন্ত তাদের আটক করতে পারেনি পুলিশ।

ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গত মাসে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ৭৩টি চুরির মামলা হয়েছে। বাস্তবচিত্র এর চেয়েও বেশি। অল্প চুরির ঘটনায় আইনি জটিলতা ভেবে ভুক্তভোগীরা মামলাই করেন না। চুরির ঘটনা কমাতে চোরের ডাটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকার চার হাজারের বেশি চোরের ডাটাবেস আমাদের কাছে আছে। তিনি আরও বলেন, যখনই কোনো একটি ঘটনা বাড়তে থাকে তখনই তা কমানোর জন্য চেষ্টা করে ডিএমপি। এখন আমরা বিশেষভাবে চুরির ঘটনা মনিটরিং করছি। এটা নিয়ে কাজ করছি। আমরা মনিটরিং করছিÑকে কীভাবে কোথায় চুরি করছে। কখনো দিনে, কখনো রাতে চুরি হচ্ছে। ফাঁকা বাসায় চুরি হচ্ছে। দিনের বেলা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বেশি চুরি হয়। আর রাতে ফাঁকা বাসায় কাউকে স্পর্শ না করেই চুরি হচ্ছে। দেখা যায়, চুরির ঘটনায় ধরা পড়লেও দ্রুত জামিন পাওয়া যায়। সে কারণে ইদানীং চুরির ঘটনায় অপরাধীরা বেশি ঝুঁকছে। এ ছাড়া অল্প চুরির ঘটনায় থানায় রিপোর্টও করেন না অনেক ভুক্তভোগী।

এ বিষয়ে সামাজিক অপরাধ বিশ্লেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ‘বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক অস্থিরতা, বেকারত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের কারণেই এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে। এসব ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতার প্রায়োজন। পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে সবার নিরাপত্তায় এগিয়ে আসতে হবে। খালি বাসা রেখে কোথাও না যাওয়া। অপরিচিত কারও দেখলে বা সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশকে খবর দেওয়া। এ ছাড়াও তালিকাভিত্তিক চোরচক্রকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এগিয়ে আসতে হবে।’

কেরানীগঞ্জ থেকে চোরচক্রের চার সদস্য গ্রেফতার : বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চোরচক্রের চারজনকে গ্রেফতার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। কেরানীগঞ্জের কুলচর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সংঘবদ্ধ এ চোরচক্রটি গত ৯ বছরে পাঁচ শতাধিক চুরি করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়াও গত মঙ্গলবার নিউমার্কেট এলাকার চাঁদনিচক মার্কেটের স্বর্ণের দোকানে চুরি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনসহ চোরচক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা রমনা বিভাগ। হাজারীবাগ, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয়

গোমস্তাপুরে অধ্যক্ষের অফিস ভাংচুর আহত-৪

সূক্ষ্মভাবে চুরি, নিত্যনতুন কৌশলের প্রয়োগ

শহরে চোরের ছদ্মবেশ

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

মো. আজিজুল হক ফকির (৪৭)। তিনি একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। মাদারীপুরের শিরখাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। অথচ তিনিই কিনা পেশাদার চোর। নিয়মিত ঢাকায় এসে সংঘবদ্ধভাবে চুরি করেন। পুলিশের তথ্য অনুসারে, ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আজিজুল হক কেবল রাজধানীতে ৫০০টির অধিক জায়গায় চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন। অবশেষে মঙ্গলবার মিরপুরের বেনারসিপল্লিতে একটি শাড়ির দোকানে চুরির মালামালসহ তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীতে এমন চুরির ঘটনা ব্যাপক বেড়ে গেছে। বিভিন্ন পেশার আড়ালে বা ছদ্মবেশে চুরি করছে চোরচক্র। কথায় আছে ‘চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা, যদি না পড়ে ধরা’। আর এই ‘চুরি বিদ্যার’ চর্চা হচ্ছে ব্যাপকহারে। অর্থাৎ, সূক্ষ্মভাবে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে এবং ধরা পড়ার পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিনিয়তই চক্রের সদস্যরা ব্যবহার করছে নিত্যনতুন কৌশল। দিনের বেলায় কেউ ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা, কেউ অটোরিকশাচালক, কেউ মাছ বিক্রেতা আবার কেউ পুরনো জিনিসপত্র কেনার নামে শহরের অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মাঝেই সুযোগ পেলেই টার্গেট করা বাসাবাড়িতে ঢুকে ‘সর্বস্ব’ হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দিনে-রাতে এককভাবে বা সংঘবদ্ধভাবে চোরচক্রের সদস্যরা তৎপরতা চালাচ্ছে। দিনের বেলায় নানা পেশার ছদ্মবেশে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ‘রেকি’ করে। সুযোগ বুঝে রাতে বা দিনে চুরি করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এমন চার হাজার পেশাদার চোরের একটি তালিকা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চোরচক্রের চারজনকে গ্রেফতার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. ফারুক হোসেন বলেন, চুরির ঘটনা তদন্তে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি চোর ধরতে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে ডিএমপির। আটটি বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এবং ৫০টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চোর ধরতে ও চুরির ঘটনার মামলার আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। থানাগুলোকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি রাতে এবং ভোরের দিকে পেট্রলিং বাড়ানোসহ বাসাবাড়ি, দোকানপাটে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত রোববার রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর ‘কে’ ব্লকে ১৯ নম্বর রোডের এক সাংবাদিকের বাসায় সকাল ৯টায় চুরির ঘটনা ঘটে। বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে দরজার তালা ভেঙে সাত লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, পুরাতন জিনিসপত্র কেনার নামে কিছু লোকের আনাগোনা। গত ৩০ মার্চ কদমতলীর একটি বাসা থেকে নগদ টাকাসহ বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়। সেখানেও দেখা যায়, দুজন মাছ বিক্রেতা ছদ্মবেশে একটি বাসা থেকে চুরি করছে। তাদের ছবি প্রকাশ করে গ্রেফতারে সহায়তও চেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিএমপি অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত আট মাসে (জানুয়ারি- আগস্ট) চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে ১০৮০টি। চুরির মামলাগুলোর মধ্যে সিঁধেল চুরির ঘটনা ৫০০টি। গাড়ি চুরির ঘটনা আছে ৭১টি। বাকিগুলো অন্যান্য চুরি। এসব চুরির ঘটনায় প্রায় পাঁচ হাজার আসামিও গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের রেকর্ড বলছে, সম্প্রতি রাজধানীতে এমন চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। গত এক মাসে রাজধানীতে ৭৩টি চুরির মামলা হয়েছে। গত জুন ও জুলাই মাসে ১৩৫টি ও ১২১টি চুরির মামলা হয়েছে।

এসব চুরির ঘটনা থেকে বাদ যাননি পুলিশের সদর্যরাও। গত ২২ আগস্ট রাজধানীর ইস্কাটনে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মোজাম্মেল আহমেদের বাসা থেকে ৪৫ ভরি সোনা চুরির ঘটনা ঘটে। ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বাসার সাত তলায় গ্রিল কেটে চুরি করা হয় এসব অলংকার। চুরির ঘটনায় মোজাম্মেল আহমেদের মেয়ে বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়াও গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় হাইওয়ে পুলিশের এসপি মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। গত ১৮ আগস্ট প্রগতি সরণির কুড়িল মিয়াবাড়ি এলাকায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসহাক মিয়ার বাড়িতে দিনদুপুরে ঘটে চুরির ঘটনা। ভবনের নিচে ভাড়াটিয়ার দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় দুই চোর। সিসি ক্যামেরায় চোরদের শনাক্ত করতে পারলেও এখন পর্যন্ত তাদের আটক করতে পারেনি পুলিশ।

ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, গত মাসে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ৭৩টি চুরির মামলা হয়েছে। বাস্তবচিত্র এর চেয়েও বেশি। অল্প চুরির ঘটনায় আইনি জটিলতা ভেবে ভুক্তভোগীরা মামলাই করেন না। চুরির ঘটনা কমাতে চোরের ডাটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকার চার হাজারের বেশি চোরের ডাটাবেস আমাদের কাছে আছে। তিনি আরও বলেন, যখনই কোনো একটি ঘটনা বাড়তে থাকে তখনই তা কমানোর জন্য চেষ্টা করে ডিএমপি। এখন আমরা বিশেষভাবে চুরির ঘটনা মনিটরিং করছি। এটা নিয়ে কাজ করছি। আমরা মনিটরিং করছিÑকে কীভাবে কোথায় চুরি করছে। কখনো দিনে, কখনো রাতে চুরি হচ্ছে। ফাঁকা বাসায় চুরি হচ্ছে। দিনের বেলা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বেশি চুরি হয়। আর রাতে ফাঁকা বাসায় কাউকে স্পর্শ না করেই চুরি হচ্ছে। দেখা যায়, চুরির ঘটনায় ধরা পড়লেও দ্রুত জামিন পাওয়া যায়। সে কারণে ইদানীং চুরির ঘটনায় অপরাধীরা বেশি ঝুঁকছে। এ ছাড়া অল্প চুরির ঘটনায় থানায় রিপোর্টও করেন না অনেক ভুক্তভোগী।

এ বিষয়ে সামাজিক অপরাধ বিশ্লেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ‘বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক অস্থিরতা, বেকারত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের কারণেই এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে। এসব ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতার প্রায়োজন। পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে সবার নিরাপত্তায় এগিয়ে আসতে হবে। খালি বাসা রেখে কোথাও না যাওয়া। অপরিচিত কারও দেখলে বা সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশকে খবর দেওয়া। এ ছাড়াও তালিকাভিত্তিক চোরচক্রকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এগিয়ে আসতে হবে।’

কেরানীগঞ্জ থেকে চোরচক্রের চার সদস্য গ্রেফতার : বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চোরচক্রের চারজনকে গ্রেফতার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। কেরানীগঞ্জের কুলচর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সংঘবদ্ধ এ চোরচক্রটি গত ৯ বছরে পাঁচ শতাধিক চুরি করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়াও গত মঙ্গলবার নিউমার্কেট এলাকার চাঁদনিচক মার্কেটের স্বর্ণের দোকানে চুরি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনসহ চোরচক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা রমনা বিভাগ। হাজারীবাগ, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।