ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আইসিটি পণ্য বিক্রিতে ধস!

করোনায় শুরু হওয়া সংকট কাটিয়ে প্রায় ওঠা গেলেও এখনো গতি ফেরেনি দেশের আইসিটি পণ্যের বাজারে। গত দেড় দশকে সবচেয়ে দ্রম্নত বর্ধনশীল এ খাতের বাজার এখনো ভুগছে ক্রেতা সংকটে। বহুমুখী জটিলতা ও পণ্যের অস্বাভাবিক দামে বেচা-কেনা ঠেকেছে প্রায় অর্ধেকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও দেশের বিদ্যমান মুদ্রা পরিস্থিতির কারণে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ে ব্যয় সংকোচন নীতিতে রয়েছে। ফলে পণ্যের চাহিদায় ব্যাপক পতন ঘটেছে। এর মধ্যেই সব ধরনের পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ধস নেমেছে বিক্রিতে।

দেশের বাজারে ডেস্কটপ কম্পিউটার ও ল্যাপটপের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এই দুটি পণ্যের পাশাপাশি সর্ভার, হার্ডডিস্ক, ক্যামেরা, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন এক্সেসরিসের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে যার প্রত্যেকটির বিক্রি কমে অর্ধেকে নেমেছে। বিক্রেতারা বলছেন, এক বছরেরও কম সময়ে এসব পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে বিক্রি কমেছে।

রাজধানীর আইসিটি পণ্যের সবচেয় বড় বাজার আইডিবি কম্পিউটার সিটির ফ্লোরা লিমিটেডের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মাদ রেজাউল হাসান জানান, বর্তমান সময়ের চাইতে করোনাকালেও বিক্রি ভালো ছিল। শুধু আইডিবি নয়, প্রতিষ্ঠানটির সারা দেশে প্রায় ৯০টির বেশি শো-রুমের চিত্র প্রায় একই। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি ৭০ ভাগের বেশি কমেছে।

এদিকে দেশে প্রচলিত আইসিটি পণ্যের অধিকাংশ ব্র্র্যান্ডেরই প্রধান আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফ্লোরা। তাদের তথ্যমতে, ৬ মাস আগেও কোর আই ৫ প্রসেসর ও ৪ জিবির্ যামের প্রচলিত যেকোর ব্র্যান্ডের দাম ছিল ৪৫ -৫০ হাজার টাকা। তা এখন ৬০-৬৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ৬০ হাজার টাকার কোর আই সেভেন প্রসেসরের ল্যাপটপের দাম দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। এছাড়াও সাধারণ কনফিগারেশনের, যেমন ডুয়েল কোর প্রসেসর ও ২ জিবির্ যামের ল্যাপটপ ২৪-২৮ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪২ হাজার টাকা।

অন্যদিকে ১৮.৫০ ইঞ্চি মনিটরের দাম প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১২ হাজার টাকা হয়েছে। এছাড়াও ৩০-৪০ শতাংশ দাম বেড়েছে মাদার বোর্ড, ডেস্কটপের কেসিন, ইউপিএস, কিবোর্ড, মাউস, হেডফোন, পোর্টেবল হার্ডডিস্ক, ডেস্কটপ হার্ডডিস্ক, সার্ভার,

প্রজেক্টরসহ সব ধরনের প্রিন্টারের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হোম কিংবা অফিস উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রিন্টারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫-১০ হাজার টাকা। একটা স্ট্যান্ডার্ড ক্যাপাসিটির সার্ভার আগে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ লাখ টাকায়। এমনকি ডেস্কটপের কেসিনের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকার ওপরে। ১২তম জেনারেশনের একটা মাদার বোর্ডের দাম বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার টাকা।

অন্যদিকে চীনের তৈরি সাধারণ মানের একটি প্রজেক্টর আগে ১২ হাজার টাকায় পাওয়া গেলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬-২০ হাজার টাকায়। ২৪০০ টাকার ইউপিএস বিক্রি হচ্ছে ৩৮০০ টাকায়। ডেস্কটপের ১ টেরাবাইট হার্ডডিস্কের প্রায় দেড় হাজার টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকায়।

এসব পণ্যের আমদানিকারকরা জানান, করোনা পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন খাত ঘুরে দাঁড়ালেও চরম সংকট চলছে দেশের আইসিটি খাতে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি সংকটসহ দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এর জন্য দায়ী। তারা বলছেন, মানুষ এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে প্রযুক্তি পণ্যে ব্যয় করাটা তাদের জন্য কঠিন।

এইচপি, লেনোভো, আসুসসহ বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ ও আইসিটি পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা যায়যায়দিনকে জানান, আগে কন্টেইনার ভাড়া ছিল ৯৫০ ডলার, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫ হাজার ডলারে। এছাড়াও নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি আমদানিতে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে সীমিত আকারে আমদানি করতে হয়। এতে পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি পড়ে যায়।

অন্যদিকে করোনা মহামারির পর থেকেই বৈশ্বিক আইসিটি পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ও বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে প্রোডাকশন কমেছে প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ। তাই চাইলেও আগের মতো পণ্য আমদানি সম্ভব না। এছাড়াও এলসিতে শতভাগ মার্জিন, আমদানিতে কড়াকড়ি, ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ চলতি অর্থবছরে করহার ৭.৫ থেকে ১৫ শতাংশ করায় এ খাতের পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

আইসিটি পণ্যের চড়া দামের কারণে ব্যাহত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অটোমেশন প্রক্রিয়া। শুধু তাই নয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ নতুন উদ্যোক্তারা। কয়েক বছর আগে ওয়েব ডিজাইন ও লেভেলিং স্টিকার ফার্মের ব্যবসা শুরু করে মো. রওশন আলী জানান, মাত্র ১০টি কম্পিউটার ও ১টি স্টিকার প্রিন্টার দিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। সে সময়ে মাসে ২-৩ লাখ স্টিকার চাহিদা ছিল। কিন্ত এখন তা বেড়ে প্রায় ৭০-৮০ লাখ হয়েছে। কিন্তু আইসিটি পণ্যের চড়া দামের কারণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কিনতে পারছেন না তিনি।

রওশন বলেন, আগে যে দামে ১০টি কম্পিউটার কিনেছি এখন সে দামে ৩টি কম্পিউটার কেনা যাচ্ছে। শুধু তাই নয় দাম বেড়েছে স্টিকার প্রিন্টারসহ সব ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশের। চাহিদার কারণে ব্যাংক লোন নিয়ে চড়া দামে ৭টি কম্পিউটার তাকে কিনতে হয়েছে বলে জানান।

অন্যদিকে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপের চড়া দামে ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীদের পড়াশোনা, বিশেষ করে আইসিটি রিলেটেড অ্যাসাইনমেন্ট। শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তানসেন জানান, গবেষণাসহ অনলাইন ক্লাস ও ডাটা প্রসেসিংয়ে তার ভালো কনফিগারের একটা ল্যাপটপ প্রয়োজন। তাই আগের পুরনো ডেস্কটপ বিক্রি এবং বাড়ি থেকে ৩০ হাজার টাকা আনার পরও কোর আই ফাইভ প্রসেসরের কোনো ল্যাপটপ তিনি কিনতে পারছেন না।

তানসেন বলেন, ‘আপাতত ক্লাসমেটদের ল্যাপটপ দিয়ে কাজ চালাচ্ছি। কিন্তু ৮০ হাজার টাকা দিয়ে আমার মতো একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর পক্ষে ল্যাপটপ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অ্যাসাইনমেন্ট ও বিভিন্ন প্রজেক্ট তৈরির খরচসহ জীবন-যাপনের ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে বাড়তি টাকা জমানো হচ্ছে না। ‘

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

আইসিটি পণ্য বিক্রিতে ধস!

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

করোনায় শুরু হওয়া সংকট কাটিয়ে প্রায় ওঠা গেলেও এখনো গতি ফেরেনি দেশের আইসিটি পণ্যের বাজারে। গত দেড় দশকে সবচেয়ে দ্রম্নত বর্ধনশীল এ খাতের বাজার এখনো ভুগছে ক্রেতা সংকটে। বহুমুখী জটিলতা ও পণ্যের অস্বাভাবিক দামে বেচা-কেনা ঠেকেছে প্রায় অর্ধেকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও দেশের বিদ্যমান মুদ্রা পরিস্থিতির কারণে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ে ব্যয় সংকোচন নীতিতে রয়েছে। ফলে পণ্যের চাহিদায় ব্যাপক পতন ঘটেছে। এর মধ্যেই সব ধরনের পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ধস নেমেছে বিক্রিতে।

দেশের বাজারে ডেস্কটপ কম্পিউটার ও ল্যাপটপের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এই দুটি পণ্যের পাশাপাশি সর্ভার, হার্ডডিস্ক, ক্যামেরা, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন এক্সেসরিসের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে যার প্রত্যেকটির বিক্রি কমে অর্ধেকে নেমেছে। বিক্রেতারা বলছেন, এক বছরেরও কম সময়ে এসব পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে বিক্রি কমেছে।

রাজধানীর আইসিটি পণ্যের সবচেয় বড় বাজার আইডিবি কম্পিউটার সিটির ফ্লোরা লিমিটেডের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মাদ রেজাউল হাসান জানান, বর্তমান সময়ের চাইতে করোনাকালেও বিক্রি ভালো ছিল। শুধু আইডিবি নয়, প্রতিষ্ঠানটির সারা দেশে প্রায় ৯০টির বেশি শো-রুমের চিত্র প্রায় একই। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি ৭০ ভাগের বেশি কমেছে।

এদিকে দেশে প্রচলিত আইসিটি পণ্যের অধিকাংশ ব্র্র্যান্ডেরই প্রধান আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফ্লোরা। তাদের তথ্যমতে, ৬ মাস আগেও কোর আই ৫ প্রসেসর ও ৪ জিবির্ যামের প্রচলিত যেকোর ব্র্যান্ডের দাম ছিল ৪৫ -৫০ হাজার টাকা। তা এখন ৬০-৬৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ৬০ হাজার টাকার কোর আই সেভেন প্রসেসরের ল্যাপটপের দাম দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। এছাড়াও সাধারণ কনফিগারেশনের, যেমন ডুয়েল কোর প্রসেসর ও ২ জিবির্ যামের ল্যাপটপ ২৪-২৮ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪২ হাজার টাকা।

অন্যদিকে ১৮.৫০ ইঞ্চি মনিটরের দাম প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১২ হাজার টাকা হয়েছে। এছাড়াও ৩০-৪০ শতাংশ দাম বেড়েছে মাদার বোর্ড, ডেস্কটপের কেসিন, ইউপিএস, কিবোর্ড, মাউস, হেডফোন, পোর্টেবল হার্ডডিস্ক, ডেস্কটপ হার্ডডিস্ক, সার্ভার,

প্রজেক্টরসহ সব ধরনের প্রিন্টারের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হোম কিংবা অফিস উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রিন্টারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫-১০ হাজার টাকা। একটা স্ট্যান্ডার্ড ক্যাপাসিটির সার্ভার আগে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ লাখ টাকায়। এমনকি ডেস্কটপের কেসিনের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকার ওপরে। ১২তম জেনারেশনের একটা মাদার বোর্ডের দাম বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার টাকা।

অন্যদিকে চীনের তৈরি সাধারণ মানের একটি প্রজেক্টর আগে ১২ হাজার টাকায় পাওয়া গেলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬-২০ হাজার টাকায়। ২৪০০ টাকার ইউপিএস বিক্রি হচ্ছে ৩৮০০ টাকায়। ডেস্কটপের ১ টেরাবাইট হার্ডডিস্কের প্রায় দেড় হাজার টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকায়।

এসব পণ্যের আমদানিকারকরা জানান, করোনা পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন খাত ঘুরে দাঁড়ালেও চরম সংকট চলছে দেশের আইসিটি খাতে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি সংকটসহ দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এর জন্য দায়ী। তারা বলছেন, মানুষ এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে প্রযুক্তি পণ্যে ব্যয় করাটা তাদের জন্য কঠিন।

এইচপি, লেনোভো, আসুসসহ বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ ও আইসিটি পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা যায়যায়দিনকে জানান, আগে কন্টেইনার ভাড়া ছিল ৯৫০ ডলার, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫ হাজার ডলারে। এছাড়াও নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি আমদানিতে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে সীমিত আকারে আমদানি করতে হয়। এতে পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি পড়ে যায়।

অন্যদিকে করোনা মহামারির পর থেকেই বৈশ্বিক আইসিটি পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ও বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে প্রোডাকশন কমেছে প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ। তাই চাইলেও আগের মতো পণ্য আমদানি সম্ভব না। এছাড়াও এলসিতে শতভাগ মার্জিন, আমদানিতে কড়াকড়ি, ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ চলতি অর্থবছরে করহার ৭.৫ থেকে ১৫ শতাংশ করায় এ খাতের পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

আইসিটি পণ্যের চড়া দামের কারণে ব্যাহত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অটোমেশন প্রক্রিয়া। শুধু তাই নয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ নতুন উদ্যোক্তারা। কয়েক বছর আগে ওয়েব ডিজাইন ও লেভেলিং স্টিকার ফার্মের ব্যবসা শুরু করে মো. রওশন আলী জানান, মাত্র ১০টি কম্পিউটার ও ১টি স্টিকার প্রিন্টার দিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। সে সময়ে মাসে ২-৩ লাখ স্টিকার চাহিদা ছিল। কিন্ত এখন তা বেড়ে প্রায় ৭০-৮০ লাখ হয়েছে। কিন্তু আইসিটি পণ্যের চড়া দামের কারণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কিনতে পারছেন না তিনি।

রওশন বলেন, আগে যে দামে ১০টি কম্পিউটার কিনেছি এখন সে দামে ৩টি কম্পিউটার কেনা যাচ্ছে। শুধু তাই নয় দাম বেড়েছে স্টিকার প্রিন্টারসহ সব ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশের। চাহিদার কারণে ব্যাংক লোন নিয়ে চড়া দামে ৭টি কম্পিউটার তাকে কিনতে হয়েছে বলে জানান।

অন্যদিকে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপের চড়া দামে ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীদের পড়াশোনা, বিশেষ করে আইসিটি রিলেটেড অ্যাসাইনমেন্ট। শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তানসেন জানান, গবেষণাসহ অনলাইন ক্লাস ও ডাটা প্রসেসিংয়ে তার ভালো কনফিগারের একটা ল্যাপটপ প্রয়োজন। তাই আগের পুরনো ডেস্কটপ বিক্রি এবং বাড়ি থেকে ৩০ হাজার টাকা আনার পরও কোর আই ফাইভ প্রসেসরের কোনো ল্যাপটপ তিনি কিনতে পারছেন না।

তানসেন বলেন, ‘আপাতত ক্লাসমেটদের ল্যাপটপ দিয়ে কাজ চালাচ্ছি। কিন্তু ৮০ হাজার টাকা দিয়ে আমার মতো একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর পক্ষে ল্যাপটপ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অ্যাসাইনমেন্ট ও বিভিন্ন প্রজেক্ট তৈরির খরচসহ জীবন-যাপনের ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে বাড়তি টাকা জমানো হচ্ছে না। ‘