ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

এবারের প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার বিজয়ীদের নাম প্রকাশ

প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কারের ৬ষ্ঠ আসরেত বিজয়ী লেখকদের নাম ঘোষণা করেছে প্রিয় বাংলা প্রকাশন। এ বছর মোট পাঁচজন লেখক এ পুরস্কার লাভ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রিয় বাংলা প্রকাশনের অফিসিয়াল ফেসবুক থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এবারের আসরের পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকগণ হচ্ছেন- সীমান্ত আকরাম, মোহাম্মদ অংকন, মাসুদ রানা আশিক, আলোক আজম এবং নূর আলম গন্ধী। এর মধ্যে সীমান্ত আকরাম “সংস্কৃতি ও নজরুল” শীর্ষক প্রবন্ধের পাণ্ডুলিপির জন্য, মোহাম্মদ অংকন “কঙ্কাল রহস্য” উপন্যাসের পাণ্ডুলিপির জন্য এবং মাসুদ রানা আশিক “মেরুদণ্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি” গল্পগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির জন্য প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও আলোক আজম “নিঃসঙ্গ বোধিবৃক্ষ” কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির জন্য এবং নূর আলম গন্ধী “ইচ্ছেডানা দূর অজানা” শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির জন্য এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

প্রকাশনা জগতে “প্রিয় বাংলা” একটি পরিচিত নাম। গত ছয় বছর ধরে নিয়মিতভাবে “পাণ্ডুলিপি পুরস্কার” আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে এ পুরস্কারটি সাহিত্যাঙ্গনে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং বহু লেখকদের আকাঙ্খিত পুরস্কারে পরিণত হয়েছে।

অন্যান্যবারের মতো এবারও মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন লেখককে বিজয়ী করা হয়েছে। বিজয়ী লেখকদের পাণ্ডুলিপিগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশ হবে প্রিয় বাংলার খরচে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক লেখক ৫০০০ টাকা করে লেখকসম্মানী পাবেন । পাশাপাশি সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ এবং আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দেয়া হবে।

দ্রুতই একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাহিত্যাঙ্গনের বিখ্যাত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিজয়ী সব লেখকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা সনদ এবং ক্রেস্ট তুলে দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।

এটি প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কারের ৬ষ্ঠ আসর। বিগত ৫ আসরে মোট ২৫জন লেখককে পুরস্কৃত করেছিল প্রিয় বাংলা। প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার সাধারণত তুলনামূলক নবীন লেখকদেরকেই প্রদান করা হয়। এর কারণ জানতে চাইলে প্রিয় বাংলার প্রকাশক এস এম জসিম ভূঁইয়া জানান, “বিখ্যাত লেখকদের বই তো সব প্রকাশকই প্রকাশ করেন। নতুনদের বই প্রকাশে অনীহা অনেকের। নবীনদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা ভালো লেখে, কিন্তু সুযোগের অভাবে নিজেদের প্রতিভার প্রকাশ করতে পারে না। সেসব সুযোগ বঞ্চিত লেখকদেরকে কিছুটা সুযোগ করে দিতেই আমাদের এই আয়োজন। আশাকরি এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কিছু লেখক নিজের অবস্থান গড়ে নিতে পারবে।”

গল্পকার মাসুদ রানা আশিক তার লেখালেখি ও পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়ে বলেন, লেখালিখিটা আমার ভালোলাগার জায়গা। সেই ভালোলাগা থেকে আমি লিখি। সময়ের চিত্রপট গল্পে রূপ দেই। সমাজের নকশীকাঁথায় বুনতে চাই আগামীর স্বপ্ন। নিয়মবন্দি জীবনে আনতে চাই স্বস্তির নি:শ্বাস। জীবনের জটিলতা দু’হাতে সরিয়ে আত্মার সৌন্দর্য ছড়াতে চাই। সেই চেষ্টাতেই আমার গল্পগুলো সাজিয়েছি। সমাজের অসংগতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। পান্ডুলিপির আটটি গল্প পড়ে মনে হবে, এটা তো আমার নিজেরই দেখা গল্প। এটা চারপাশে ঘটে যাওয়া সমাজেরই গল্প। গল্পগুলো পড়ে ভাবতে বাধ্য হবেন, এটাও সম্ভব! পান্ডুলিপি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়া অত্যন্ত আনন্দের। আমার এতদিনের লেখালেখির পথচলায় একটা সাফল্যের মুকুট। আপনাদের অনুপ্রেরণা দোয়া আমার সবসময়ের কাম্য।

আরেক বিজয়ী লেখক মোহাম্মদ অংকন এ প্রসঙ্গে বলেন, এটি আমার জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের খবর ও বড় প্রাপ্তি। আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন।

প্রিয় বাংলার এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাহিত্যসংশ্লিষ্ট অনেকেই। নতুন নতুন লেখক এবং পাঠক তৈরিতে এ আয়োজনটি কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে বলে অনেকের বিশ্বাস। পুরস্কারপ্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলো বই আকারে পাওয়া যাবে আগামী বইমেলায়।

Tag :
জনপ্রিয়

সামনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই”যেকোনো মূল্যে সমাবেশ সফল করতে হবে: ফখরুল।

এবারের প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার বিজয়ীদের নাম প্রকাশ

প্রকাশের সময় : ০১:১১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কারের ৬ষ্ঠ আসরেত বিজয়ী লেখকদের নাম ঘোষণা করেছে প্রিয় বাংলা প্রকাশন। এ বছর মোট পাঁচজন লেখক এ পুরস্কার লাভ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রিয় বাংলা প্রকাশনের অফিসিয়াল ফেসবুক থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এবারের আসরের পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকগণ হচ্ছেন- সীমান্ত আকরাম, মোহাম্মদ অংকন, মাসুদ রানা আশিক, আলোক আজম এবং নূর আলম গন্ধী। এর মধ্যে সীমান্ত আকরাম “সংস্কৃতি ও নজরুল” শীর্ষক প্রবন্ধের পাণ্ডুলিপির জন্য, মোহাম্মদ অংকন “কঙ্কাল রহস্য” উপন্যাসের পাণ্ডুলিপির জন্য এবং মাসুদ রানা আশিক “মেরুদণ্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি” গল্পগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির জন্য প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও আলোক আজম “নিঃসঙ্গ বোধিবৃক্ষ” কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির জন্য এবং নূর আলম গন্ধী “ইচ্ছেডানা দূর অজানা” শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থের পাণ্ডুলিপির জন্য এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

প্রকাশনা জগতে “প্রিয় বাংলা” একটি পরিচিত নাম। গত ছয় বছর ধরে নিয়মিতভাবে “পাণ্ডুলিপি পুরস্কার” আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে এ পুরস্কারটি সাহিত্যাঙ্গনে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং বহু লেখকদের আকাঙ্খিত পুরস্কারে পরিণত হয়েছে।

অন্যান্যবারের মতো এবারও মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন লেখককে বিজয়ী করা হয়েছে। বিজয়ী লেখকদের পাণ্ডুলিপিগুলো গ্রন্থাকারে প্রকাশ হবে প্রিয় বাংলার খরচে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক লেখক ৫০০০ টাকা করে লেখকসম্মানী পাবেন । পাশাপাশি সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ এবং আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দেয়া হবে।

দ্রুতই একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাহিত্যাঙ্গনের বিখ্যাত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিজয়ী সব লেখকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা সনদ এবং ক্রেস্ট তুলে দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।

এটি প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কারের ৬ষ্ঠ আসর। বিগত ৫ আসরে মোট ২৫জন লেখককে পুরস্কৃত করেছিল প্রিয় বাংলা। প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার সাধারণত তুলনামূলক নবীন লেখকদেরকেই প্রদান করা হয়। এর কারণ জানতে চাইলে প্রিয় বাংলার প্রকাশক এস এম জসিম ভূঁইয়া জানান, “বিখ্যাত লেখকদের বই তো সব প্রকাশকই প্রকাশ করেন। নতুনদের বই প্রকাশে অনীহা অনেকের। নবীনদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা ভালো লেখে, কিন্তু সুযোগের অভাবে নিজেদের প্রতিভার প্রকাশ করতে পারে না। সেসব সুযোগ বঞ্চিত লেখকদেরকে কিছুটা সুযোগ করে দিতেই আমাদের এই আয়োজন। আশাকরি এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কিছু লেখক নিজের অবস্থান গড়ে নিতে পারবে।”

গল্পকার মাসুদ রানা আশিক তার লেখালেখি ও পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়ে বলেন, লেখালিখিটা আমার ভালোলাগার জায়গা। সেই ভালোলাগা থেকে আমি লিখি। সময়ের চিত্রপট গল্পে রূপ দেই। সমাজের নকশীকাঁথায় বুনতে চাই আগামীর স্বপ্ন। নিয়মবন্দি জীবনে আনতে চাই স্বস্তির নি:শ্বাস। জীবনের জটিলতা দু’হাতে সরিয়ে আত্মার সৌন্দর্য ছড়াতে চাই। সেই চেষ্টাতেই আমার গল্পগুলো সাজিয়েছি। সমাজের অসংগতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। পান্ডুলিপির আটটি গল্প পড়ে মনে হবে, এটা তো আমার নিজেরই দেখা গল্প। এটা চারপাশে ঘটে যাওয়া সমাজেরই গল্প। গল্পগুলো পড়ে ভাবতে বাধ্য হবেন, এটাও সম্ভব! পান্ডুলিপি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়া অত্যন্ত আনন্দের। আমার এতদিনের লেখালেখির পথচলায় একটা সাফল্যের মুকুট। আপনাদের অনুপ্রেরণা দোয়া আমার সবসময়ের কাম্য।

আরেক বিজয়ী লেখক মোহাম্মদ অংকন এ প্রসঙ্গে বলেন, এটি আমার জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের খবর ও বড় প্রাপ্তি। আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন।

প্রিয় বাংলার এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাহিত্যসংশ্লিষ্ট অনেকেই। নতুন নতুন লেখক এবং পাঠক তৈরিতে এ আয়োজনটি কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে বলে অনেকের বিশ্বাস। পুরস্কারপ্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলো বই আকারে পাওয়া যাবে আগামী বইমেলায়।