ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন চাকার যান

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইজিবাইক, অটোরিকশা, নসিমন ও ভটভটিসহ বিভিন্ন নামের তিন চাকার নিষিদ্ধ যান। অপরদিকে, মহাসড়কের কাঁচপুর, টিপরদী ও মোগরাপাড়া অংশে ফুট ওভারব্রিজ থাকলেও অধিকাংশ সময় মানুষ সেটা ব্যবহার করে না। এ ছাড়া মদনপুরে একটি নির্মাণাধীন রয়েছে। কিন্তু কেওডালা, লাঙ্গলবন্দ, দড়িকান্দি, সোনাখালী, পিরোজপুর ও আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ মহাসড়ক পারাপার হচ্ছে। যার ফলে কয়েক দিন পরপর ঘটছে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা। চলতি বছর সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত এ মহাসড়কে প্রায় ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। যারা আহত হয়ে বেঁচে আছেন, পঙ্গুত্ববরণ করে তারা অসহায় জীবনযাপন করছেন।

সরেজমিন মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের কাঁচপুর, মদনপুর, কেওডালা, দড়িকান্দি, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও মেঘনা সেতু এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে দেখা যায় সেখানে অবাধে চলছে ইজিবাইক, অটোরিকশা, নসিমন ও ভটভটি। অনেক সময় উল্টোপথেও চলছে এসব যানবাহন।

এই ১৬ কিলোমিটার এলাকায় দেখা গেছে, কোনো ধরনের ট্রাফিক আইন মানার বালাই নেই। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে উল্টোপথে চলাচল করছে ফিটনেসবিহীন ও মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন ইজিবাইক, নসিমন, ভটভটি ও অটোরিকশা। এসব চলছে মহাসড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বে নিয়োজিত কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের সামনে দিয়ে।

মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ও বন্দরগামী যেসব পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি মদনপুর-জয়দেবপুর (ঢাকা বাইপাস) সড়কে উল্টোপথে চলছে নিষিদ্ধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা। এ কারণে অনেক সময় মহাসড়কের দুপাশে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। মহাসড়কের ওপর এসব নিষিদ্ধ যানের রীতিমতো স্ট্যান্ড রয়েছে। মোগরাপাড়া এলাকায় পথচারী ব্রিজের মাত্র ৩০ গজ দূর দিয়ে পুলিশের সামনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারী শিশুরা সড়ক পারাপার হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই মোগরাপাড়া এলাকায় এভাবে সড়ক পারাপারে এবং উল্টোপথে নিষিদ্ধ যানের চলাচলে যানজটের সৃষ্টি হয়। হাইওয়ে পুলিশের এক সদস্য জানান, নিষেধ করেও অবৈধ যানবাহন কোনোভাবেই বন্ধ রাখতে পারছি না। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকর্মী এসব যানবাহন থেকে চাঁদা নিয়ে থাকেন। এভাবেই তারা মহাসড়কে নিষিদ্ধযান চলাচল করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আর মানুষ সচেতন না হওয়ার ফুট ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও নিচ দিয়ে লাফিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছে। এসব কারণে প্রায় ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।

সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ইজিবাইক ও অটোরিকশা মালিক সমিতির নেতারা জানান, সোনারগাঁ উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার অটোরিকশা, ইজিবাইক, নসিমন ও ভটভটি চলাচল করে। মহাসড়ক দিয়ে এসব যানবাহন চলাচল করতে পুলিশকে তাদের প্রতি যানবাহন বাবদ মাসোহারা দিতে হয়। তাছাড়া একটি শ্রমিক সংগঠনকে আলাদা চাঁদা দিতে হয়। এসব চাঁদা দিয়েই তারা মহাসড়ক ব্যবহার করার সুযোগ পান।

ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী তিশা পরিবহনের চালক আব্দুল কাদের জানান, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে কীভাবে নিষিদ্ধ যানবাহন চলে, তা সবাই ভালো করেই জানে। মহাসড়কে কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রধান কারণ এসব নিষিদ্ধ যানবাহন। এসব যানবাহন বেশির ভাগ সময়ই উল্টোপথে চলাচল করে।

সোনারগাঁ থানা ও কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় গত এক বছরে ৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ২৭ জনের প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়েছেন।

সোনারগাঁ নাগরিক কমিটির সদস্য ও লেখক জামান ভূঁইয়া জানান, মানুষ সচেতন না হওয়ায় মহাসড়কের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করেন না। তাছাড়া পুলিশের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নিষিদ্ধ যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করছে। এতে মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীর হোসেন জানান, যানজট নিরসনে ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতার লক্ষ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পথচারী ও চালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু নিষিদ্ধ যানবাহন হয়তো চলাচল করে। আমরা এসব নিষিদ্ধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

Tag :
জনপ্রিয়

সামনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই”যেকোনো মূল্যে সমাবেশ সফল করতে হবে: ফখরুল।

দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন চাকার যান

প্রকাশের সময় : ১০:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইজিবাইক, অটোরিকশা, নসিমন ও ভটভটিসহ বিভিন্ন নামের তিন চাকার নিষিদ্ধ যান। অপরদিকে, মহাসড়কের কাঁচপুর, টিপরদী ও মোগরাপাড়া অংশে ফুট ওভারব্রিজ থাকলেও অধিকাংশ সময় মানুষ সেটা ব্যবহার করে না। এ ছাড়া মদনপুরে একটি নির্মাণাধীন রয়েছে। কিন্তু কেওডালা, লাঙ্গলবন্দ, দড়িকান্দি, সোনাখালী, পিরোজপুর ও আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ মহাসড়ক পারাপার হচ্ছে। যার ফলে কয়েক দিন পরপর ঘটছে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা। চলতি বছর সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত এ মহাসড়কে প্রায় ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। যারা আহত হয়ে বেঁচে আছেন, পঙ্গুত্ববরণ করে তারা অসহায় জীবনযাপন করছেন।

সরেজমিন মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের কাঁচপুর, মদনপুর, কেওডালা, দড়িকান্দি, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও মেঘনা সেতু এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে দেখা যায় সেখানে অবাধে চলছে ইজিবাইক, অটোরিকশা, নসিমন ও ভটভটি। অনেক সময় উল্টোপথেও চলছে এসব যানবাহন।

এই ১৬ কিলোমিটার এলাকায় দেখা গেছে, কোনো ধরনের ট্রাফিক আইন মানার বালাই নেই। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে উল্টোপথে চলাচল করছে ফিটনেসবিহীন ও মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন ইজিবাইক, নসিমন, ভটভটি ও অটোরিকশা। এসব চলছে মহাসড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বে নিয়োজিত কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের সামনে দিয়ে।

মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ও বন্দরগামী যেসব পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি মদনপুর-জয়দেবপুর (ঢাকা বাইপাস) সড়কে উল্টোপথে চলছে নিষিদ্ধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা। এ কারণে অনেক সময় মহাসড়কের দুপাশে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। মহাসড়কের ওপর এসব নিষিদ্ধ যানের রীতিমতো স্ট্যান্ড রয়েছে। মোগরাপাড়া এলাকায় পথচারী ব্রিজের মাত্র ৩০ গজ দূর দিয়ে পুলিশের সামনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারী শিশুরা সড়ক পারাপার হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই মোগরাপাড়া এলাকায় এভাবে সড়ক পারাপারে এবং উল্টোপথে নিষিদ্ধ যানের চলাচলে যানজটের সৃষ্টি হয়। হাইওয়ে পুলিশের এক সদস্য জানান, নিষেধ করেও অবৈধ যানবাহন কোনোভাবেই বন্ধ রাখতে পারছি না। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকর্মী এসব যানবাহন থেকে চাঁদা নিয়ে থাকেন। এভাবেই তারা মহাসড়কে নিষিদ্ধযান চলাচল করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আর মানুষ সচেতন না হওয়ার ফুট ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও নিচ দিয়ে লাফিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছে। এসব কারণে প্রায় ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।

সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ইজিবাইক ও অটোরিকশা মালিক সমিতির নেতারা জানান, সোনারগাঁ উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার অটোরিকশা, ইজিবাইক, নসিমন ও ভটভটি চলাচল করে। মহাসড়ক দিয়ে এসব যানবাহন চলাচল করতে পুলিশকে তাদের প্রতি যানবাহন বাবদ মাসোহারা দিতে হয়। তাছাড়া একটি শ্রমিক সংগঠনকে আলাদা চাঁদা দিতে হয়। এসব চাঁদা দিয়েই তারা মহাসড়ক ব্যবহার করার সুযোগ পান।

ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী তিশা পরিবহনের চালক আব্দুল কাদের জানান, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে কীভাবে নিষিদ্ধ যানবাহন চলে, তা সবাই ভালো করেই জানে। মহাসড়কে কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রধান কারণ এসব নিষিদ্ধ যানবাহন। এসব যানবাহন বেশির ভাগ সময়ই উল্টোপথে চলাচল করে।

সোনারগাঁ থানা ও কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় গত এক বছরে ৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ২৭ জনের প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়েছেন।

সোনারগাঁ নাগরিক কমিটির সদস্য ও লেখক জামান ভূঁইয়া জানান, মানুষ সচেতন না হওয়ায় মহাসড়কের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করেন না। তাছাড়া পুলিশের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নিষিদ্ধ যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করছে। এতে মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীর হোসেন জানান, যানজট নিরসনে ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতার লক্ষ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পথচারী ও চালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু নিষিদ্ধ যানবাহন হয়তো চলাচল করে। আমরা এসব নিষিদ্ধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।