ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লাঠি হাতে রাজপথে বিএনপি, লাভবান আওয়ামী লীগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চায়ের দাওয়াতে সাড়া না দিয়ে রাজপথে বিএনপির অবস্থানকে দলটির উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের চেষ্টা করছে। তাদের আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছে গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘‘বিএনপি যদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করতে আসে, তাহলে তাদের বাধা দেয়া হবে না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করলে চা খাওয়াব, বসাব, কথা বলতে চাইলে শুনব।’’ কিন্তু বিএনপি কি সেই পথে হাটছে? প্রশ্ন জনমনে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি লাঠি হাতে নিয়ে যে দাবির সপক্ষে রাজপথে আন্দোলন করার চেষ্টা করছে তাতে আওয়ামী লীগ বেশ ভালোভাবে লাভবান হচ্ছে। আর বিএনপির অবস্থা খাল কেটে কুমির আনার মতো। কারণ দলটির এখন সহিংস আন্দোলনের পথ অবলম্বন করছে। তাদের অতীতের এই ধরনের আন্দোলন কখনোই সফলতার মুখ দেখেনি বরং সহিংতার জন্য দলটি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবেই পরিচিত পেয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি তাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন কিন্তু তারপরও বিএনপির এই সহিংস আন্দোলন দলটিকে আবার জনবিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিএনপি সরকারকে চাপে ফেলতে আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনীতিক তৎপরতাও চালাচ্ছে। কূটনীতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তারা বিএনপির দাবিগুলোর ব্যাপারে অবগত আছেন। আর এব্যাপারে তারা আলোচনার টেবিলকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। বিএনপির প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সভাপতিও তাদের চায়ের দাওয়া দিয়েছেন। কিন্তু দলটি সেই পথে না গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে উসকে দিচ্ছেন এবং সভা সমাবেশগুলোতে লাঠিসোটা দিয়ে আসার জন্য নিদের্শ দিচ্ছেন।এভাবে বিএনপি নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এ ধরনের লাঠি মিছিল-সমাবেশে সরকার তো চাপে পড়ছেই না। বরং আওয়ামী লীগ এক অর্থে লাভবান হচ্ছে। কারণ আওয়ামী লীগ সব সময় অভিযোগ করে আসছে যে, বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলন না করে সহিংস করে থাকে। তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে জনমালের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটায়। তারা আলোচনায় বিশ্বাস করে না বরং লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার অপচেষ্টা করে। এধরনের একাধিক উদাহরণ বিএনপি রেখেছে। আর এ সমস্ত অভিযোগগুলো কূটনৈতিক পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির বিগত আন্দোলনগুলোতে।

২০১৩ সালে বেগম খালেদা জিয়াকে হরতাল অবরোধ প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা তাকে টেলিফোন করেছিলেন। গণভবনে নৈশভোজের দাওয়াত দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়ার বেঁধে দেওয়া দুদিনের সময়সীমার মধ্যেই তিনি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু হরতাল প্রত্যাহার করেননি বেগম জিয়া। শেখ হাসিনার নৈশভোজের দাওয়াতও তিনি গ্রহণ করেননি। এরপর ২০১৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের মুত্যু হলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে তাঁর গুলশান কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি শেখ হাসিনাকে। তিনি বাইরে প্রায় ৩৬ মিনিট অপেক্ষা করে ফিরে এসেছিলেন।

অতীতে পথ ধরে এবারও বিএনপি সহিংসতার পথেই হাটছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন। আর ক্ষমতাসীন দল সুযোগ পাচ্ছে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও, লাঠি মিছিলের চিত্র বহিবিশ্বে তুলে ধরতে। এর মধ্য দিয়ে বিএনপির সন্ত্রাসী চিত্র আবার বিশ্বের সামনে উন্মাচিত আর লাভবান হবে আওয়ামী লীগ।

Tag :
জনপ্রিয়

সামনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই”যেকোনো মূল্যে সমাবেশ সফল করতে হবে: ফখরুল।

লাঠি হাতে রাজপথে বিএনপি, লাভবান আওয়ামী লীগ

প্রকাশের সময় : ১০:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চায়ের দাওয়াতে সাড়া না দিয়ে রাজপথে বিএনপির অবস্থানকে দলটির উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের চেষ্টা করছে। তাদের আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছে গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘‘বিএনপি যদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করতে আসে, তাহলে তাদের বাধা দেয়া হবে না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করলে চা খাওয়াব, বসাব, কথা বলতে চাইলে শুনব।’’ কিন্তু বিএনপি কি সেই পথে হাটছে? প্রশ্ন জনমনে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি লাঠি হাতে নিয়ে যে দাবির সপক্ষে রাজপথে আন্দোলন করার চেষ্টা করছে তাতে আওয়ামী লীগ বেশ ভালোভাবে লাভবান হচ্ছে। আর বিএনপির অবস্থা খাল কেটে কুমির আনার মতো। কারণ দলটির এখন সহিংস আন্দোলনের পথ অবলম্বন করছে। তাদের অতীতের এই ধরনের আন্দোলন কখনোই সফলতার মুখ দেখেনি বরং সহিংতার জন্য দলটি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবেই পরিচিত পেয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি তাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন কিন্তু তারপরও বিএনপির এই সহিংস আন্দোলন দলটিকে আবার জনবিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিএনপি সরকারকে চাপে ফেলতে আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনীতিক তৎপরতাও চালাচ্ছে। কূটনীতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তারা বিএনপির দাবিগুলোর ব্যাপারে অবগত আছেন। আর এব্যাপারে তারা আলোচনার টেবিলকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। বিএনপির প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সভাপতিও তাদের চায়ের দাওয়া দিয়েছেন। কিন্তু দলটি সেই পথে না গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে উসকে দিচ্ছেন এবং সভা সমাবেশগুলোতে লাঠিসোটা দিয়ে আসার জন্য নিদের্শ দিচ্ছেন।এভাবে বিএনপি নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এ ধরনের লাঠি মিছিল-সমাবেশে সরকার তো চাপে পড়ছেই না। বরং আওয়ামী লীগ এক অর্থে লাভবান হচ্ছে। কারণ আওয়ামী লীগ সব সময় অভিযোগ করে আসছে যে, বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলন না করে সহিংস করে থাকে। তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে জনমালের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটায়। তারা আলোচনায় বিশ্বাস করে না বরং লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার অপচেষ্টা করে। এধরনের একাধিক উদাহরণ বিএনপি রেখেছে। আর এ সমস্ত অভিযোগগুলো কূটনৈতিক পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির বিগত আন্দোলনগুলোতে।

২০১৩ সালে বেগম খালেদা জিয়াকে হরতাল অবরোধ প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা তাকে টেলিফোন করেছিলেন। গণভবনে নৈশভোজের দাওয়াত দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়ার বেঁধে দেওয়া দুদিনের সময়সীমার মধ্যেই তিনি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু হরতাল প্রত্যাহার করেননি বেগম জিয়া। শেখ হাসিনার নৈশভোজের দাওয়াতও তিনি গ্রহণ করেননি। এরপর ২০১৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের মুত্যু হলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে তাঁর গুলশান কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি শেখ হাসিনাকে। তিনি বাইরে প্রায় ৩৬ মিনিট অপেক্ষা করে ফিরে এসেছিলেন।

অতীতে পথ ধরে এবারও বিএনপি সহিংসতার পথেই হাটছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন। আর ক্ষমতাসীন দল সুযোগ পাচ্ছে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও, লাঠি মিছিলের চিত্র বহিবিশ্বে তুলে ধরতে। এর মধ্য দিয়ে বিএনপির সন্ত্রাসী চিত্র আবার বিশ্বের সামনে উন্মাচিত আর লাভবান হবে আওয়ামী লীগ।