ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

থমকে আছে মডেল মসজিদ নির্মাণ

নানা সঙ্কটের মুখোমুখি দেশের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প। বৈদেশিক সহায়তা না পাওয়া এবং করোনা মহামারির কারণে ভূমি অধিগ্রহণ করতে দেরি হওয়ায় প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের এক বছর পর। তবে নিজস্ব অর্থায়নে কাজ শুরু করা হলেও এখন নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসানের ভয়ে দেশের অধিকাংশ জায়গায় কাজ বন্ধ করে রেখেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।

ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতায় মসজিদের জন্য জায়গা বুঝিয়ে দিতে না পারা এবং নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার কারণে ঠিকাদাররা কাজ করতে না চাওয়ায় ৭৬টি মসজিদের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হচ্ছে। ফলে দুই দফা সময় বাড়িয়েও প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে গত বছরের জুনে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে। আরও ১০০টি মসজিদ হস্তান্তরের অপেক্ষায়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৫০টির কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২০১৭ সালে সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পুরনো রেট শিডিউলে এ প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরি ও অনুমোদন করায় প্রকল্প হাতে নেওয়ার সময় এর অনুমিত খরচ ছিল ৯ হাজার ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর ৯০ শতাংশ অনুদান হিসেবে সৌদি আরব থেকে আসার কথা ছিল। তবে এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরেও বৈদেশিক সহায়তা না পাওয়ায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করা যায়নি। পরে নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

২০১৮ সালের ২৬ জুন প্রকল্পের খরচ ৩৪০ কোটি টাকা কমিয়ে আট হাজার ৭২২ কোটি করা হয় এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির খরচ ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়। এতে মোট খরচ ধরা হয় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পটির নতুন মেয়াদকাল ধরা হয় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এই মেয়াদকালেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নজিবুর রহমান।

তিনি জানান, মহামারির কারণে ভূমি অধিগ্রহণ করতে দেরি হয়েছে। যার কারণে প্রকল্পে সময় বেশি লাগছে। দেরির কারণে ২০১৪ সালের খরচ অনুযায়ী তৈরি করা মূল বাজেট এখন আর কাজে আসছে না। ইতোমধ্যে শ্রম খরচ ও নির্মাণসামগ্রীর দাম ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে এই প্রাক্কলনে প্রকল্পের কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ঠিকাদাররা। এ কারণে ৭৬টি মসজিদের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হবে। ডলার সঙ্কটে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতিতে এখনও মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের বরাদ্দে কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। চলতি অর্থবছরে এক হাজার ২৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখে এ প্রকল্পের বরাদ্দের পুরোটা খরচের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্পের অর্থ পেতে খুব একটা সঙ্কট থাকবে না বলে আশা করছেন প্রকল্প পরিচালক।

এ ব্যাপারে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত দরের চেয়ে নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ কারণে রেট শিডিউল পুনঃবিচেনা করা হতে পারে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ৫০টি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের উদ্বোধন করেছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও দেড়শ মসজিদ উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এ মসজিদগুলোতে পাঠাগার এবং কুরআন শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়াও, যারা হজে যাবেন এবং ইমাম হতে চান তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

সামনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই”যেকোনো মূল্যে সমাবেশ সফল করতে হবে: ফখরুল।

থমকে আছে মডেল মসজিদ নির্মাণ

প্রকাশের সময় : ১০:০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

নানা সঙ্কটের মুখোমুখি দেশের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প। বৈদেশিক সহায়তা না পাওয়া এবং করোনা মহামারির কারণে ভূমি অধিগ্রহণ করতে দেরি হওয়ায় প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের এক বছর পর। তবে নিজস্ব অর্থায়নে কাজ শুরু করা হলেও এখন নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসানের ভয়ে দেশের অধিকাংশ জায়গায় কাজ বন্ধ করে রেখেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।

ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতায় মসজিদের জন্য জায়গা বুঝিয়ে দিতে না পারা এবং নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার কারণে ঠিকাদাররা কাজ করতে না চাওয়ায় ৭৬টি মসজিদের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হচ্ছে। ফলে দুই দফা সময় বাড়িয়েও প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে গত বছরের জুনে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে। আরও ১০০টি মসজিদ হস্তান্তরের অপেক্ষায়। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৫০টির কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২০১৭ সালে সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পুরনো রেট শিডিউলে এ প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরি ও অনুমোদন করায় প্রকল্প হাতে নেওয়ার সময় এর অনুমিত খরচ ছিল ৯ হাজার ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর ৯০ শতাংশ অনুদান হিসেবে সৌদি আরব থেকে আসার কথা ছিল। তবে এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরেও বৈদেশিক সহায়তা না পাওয়ায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করা যায়নি। পরে নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

২০১৮ সালের ২৬ জুন প্রকল্পের খরচ ৩৪০ কোটি টাকা কমিয়ে আট হাজার ৭২২ কোটি করা হয় এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির খরচ ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়। এতে মোট খরচ ধরা হয় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পটির নতুন মেয়াদকাল ধরা হয় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এই মেয়াদকালেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নজিবুর রহমান।

তিনি জানান, মহামারির কারণে ভূমি অধিগ্রহণ করতে দেরি হয়েছে। যার কারণে প্রকল্পে সময় বেশি লাগছে। দেরির কারণে ২০১৪ সালের খরচ অনুযায়ী তৈরি করা মূল বাজেট এখন আর কাজে আসছে না। ইতোমধ্যে শ্রম খরচ ও নির্মাণসামগ্রীর দাম ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে এই প্রাক্কলনে প্রকল্পের কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ঠিকাদাররা। এ কারণে ৭৬টি মসজিদের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হবে। ডলার সঙ্কটে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতিতে এখনও মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের বরাদ্দে কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। চলতি অর্থবছরে এক হাজার ২৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখে এ প্রকল্পের বরাদ্দের পুরোটা খরচের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্পের অর্থ পেতে খুব একটা সঙ্কট থাকবে না বলে আশা করছেন প্রকল্প পরিচালক।

এ ব্যাপারে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত দরের চেয়ে নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ কারণে রেট শিডিউল পুনঃবিচেনা করা হতে পারে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ৫০টি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের উদ্বোধন করেছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও দেড়শ মসজিদ উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এ মসজিদগুলোতে পাঠাগার এবং কুরআন শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়াও, যারা হজে যাবেন এবং ইমাম হতে চান তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে।