ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অস্বাভাবিক বজ্রপাত, নদীমাতৃক দেশই অভিশাপ

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখ সারির দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, বজ্রপাত ও খরাসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হয় এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটারের দেশটিকে। এসব বিষয়ে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও দিন দিন বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বাড়ছে। অন্যদিকে, সাধারণ জনগণ সচেতন না হওয়ায় প্রতি বছরই প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের মতো ঘটনা বাড়ছে। জলবায়ুর ভয়ংকর পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে জল টর্নেডোর ঘটনাও ঘটেছে। যা অস্থির বায়ুমণ্ডলের ইঙ্গিত দেয়। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, সেহেতু প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখ সারিতে রয়েছে দেশটি। এজন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ব বায়ুমণ্ডলকে শান্ত রাখতে উদ্যোগ নিতে হবে।

গেল এক দশকের মধ্যে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ২০১৬ সালে। ২০১৯ ও ২০২০ সালে কিছুটা কমলেও বাকি বছরগুলোতে তিনশোর ওপরে ছিল মৃত্যুর সংখ্যা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০১১ সালে ১৭৯ জন মারা গেছেন। ২০১২ সালে ২০১ জন, ২০১৩ সালে ১৮৫, ২০১৪ সালে ১৭০, ২০১৫ সালে ২২৬, ২০১৬ সালে ৩৯১, ২০১৭ সালে ৩০৭, ২০১৮ সালে ৩৫৯, ২০১৯ সালে ১৯৮, ২০২০ সালে ২৫৫ এবং ২০২১ সালে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৩১৪ জনের। গত ১০ বছরে দেশে শুধু বজ্রপাতেই মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৭৮৫ জনের।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানায়, ২০২২ সালে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ২৬৭ জনের এবং আহত হয়েছেন ৭৫ জন। চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৫টি জেলায় বজ্রপাতে এসব মানুষ মারা যান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হবিগঞ্জে ১৮ জন, সুনামগঞ্জে ১৭ জন এবং সিরাজগঞ্জে মারা যান ১৬ জন।

বজ্রপাত কমাতে হলে সবার আগে বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা কমাতে হবে বলে মনে করেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, বজ্রপাতের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী অস্থির বায়ুমণ্ডল। এজন্য বায়ুমণ্ডল শান্ত রাখতে বিশ্বনেতাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন বা বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা পৃথিবীতে অস্থির অবস্থা চলছে। তাপমাত্রা বাড়লে বায়ুমণ্ডল অস্থির হয়ে পড়ে। তখন এর স্বাভাবিক আচরণ থাকে না, অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। বায়ুমণ্ডল উষ্ণ হলে এবং সেখানে জলীয়বাষ্পের জোগান পেলে তৎক্ষণাৎ তা বায়ুমণ্ডলের উপরে উঠে যায়। তৈরি হয় এক ধরনের মেঘ। যেগুলোকে আমরা বজ্র মেঘ বলি। এ বজ্র মেঘ বজ্রপাতের জন্য দায়ী। এ ধরনের মেঘ সৃষ্টির প্রবণতা বাংলাদেশের মতো অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। এর কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের যেখানে-সেখানে জলভাগ আছে। ফলে মেঘগুলো বিচ্ছিন্নভাবে তৈরি হয়। ৫০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে এ মেঘ তৈরি হয়। উৎপত্তি ঘটে বজ্রপাতের।’

তিনি বলেন, যত দিন পর্যন্ত বিশ্ব উষ্ণায়ন থাকবে, তত দিন এটা অব্যাহত থাকবে। যেমন, শীতকালে বায়ুমণ্ডলে এ ধরনের চিত্র দেখা যায় না। কারণ, এ সময় বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত থাকে না। আমাদের অঞ্চলে বর্ষা ও গ্রীষ্মকালে জলভাগ থেকে জলীয় বাষ্প পেলেই বায়ুমণ্ডল অস্থির হয়ে উপরে উঠে যায়। পরে তা মেঘের সৃষ্টি করে এবং মেঘের কণাগুলো বড় হয়ে কঠিন আকার ধারণ করে। এগুলো নিজেদের মধ্যে ঘর্ষণের ফলে এক ধরনের আয়ন বা চার্জ জেনারেট করে। এ চার্জ যখন আকস্মিকভাবে অনেক বেশি পরিমাণে হয়, তখনই বজ্রপাতের মতো ঘটনা ঘটে। তার মানে, চলমান বিশ্বের উষ্ণায়ন প্রক্রিয়ার কারণে শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে।

আবহাওয়াবিদদের তথ্য মতে, জলভাগ যত কম থাকবে ততই বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা কম হবে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এখানে যেহেতু জলের পরিমাণ বেশি তাই এ দেশে বজ্রপাতের প্রবণতাও বেশি। এখানে পানির উৎস বেশি থাকায় সম্প্রতি কয়েকটি জল টর্নেডোও দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে আবদুল মান্নান বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আমাদের দেশের বিভিন্ন নদী থেকে খাড়াভাবে পানি উপরে উঠে যাচ্ছে। এটাকে আমরা জল টর্নেডো বলি। এটাও কিন্তু বজ্র মেঘ থেকে হয়। বাংলাদেশে জল টর্নেডো হওয়ার কারণ হচ্ছে, দেশের বায়ুমণ্ডল যে পরিমাণে উত্তপ্ত হচ্ছে তার মধ্যে জলীয়বাষ্পের পর্যাপ্ত জোগান আছে। জলীয়বাষ্পের পর্যাপ্ত জোগান থাকলে শান্ত আবহাওয়াতেও বজ্রপাতের মতো ঘটনার আশঙ্কা থাকে।’

‘বিশ্বের বেশির ভাগ অঞ্চলের জলভাগে পানির পরিমাণ কম। ফলে সেসব অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম। তার মানে, প্রধান দুটি কারণ হচ্ছে- তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি। এ দুই কারণই জল টর্নেডোর জন্য দায়ী।’

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় এখানে বজ্রপাত বেশি হচ্ছে। আগামীতে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীমাতৃক দেশ হওয়াতে আমাদের দেশে এটা বেশি হচ্ছে কি না— ঢাকা পোস্টের এমন প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ মান্নান বলেন, ‘অবশ্যই। বাংলাদেশের মতো এত খাল, বিল ও নদী বিশ্বের অন্য কোনো দেশে নেই। এত পানিও নেই। ফলে, আমাদের দেশে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এখানকার আবহাওয়ায় জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে। এটাও অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা যায়। বাংলাদেশের অবস্থান যদি ভুটানের উত্তর পাশে হতো তাহলে টর্নেডো বা বজ্রপাতের ঘটনা সেভাবে ঘটত না।’

ড. আবদুল মান্নান মনে করেন, তিনটি বিষয় আমলে নিলে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার কমে আসবে। পরিত্রাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানত তিনটি বিষয় আছে। প্রথমত, আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। দ্বিতীয়ত, বজ্রপাত যেহেতু সাময়িক ঘটনা, ওই সময়ে আমাদের বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। কালো মেঘ থেকে বজ্রপাত দেখলেই নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে। তৃতীয়ত, বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে এবং লোকজনকে সেটা মানতে হবে।’

‘পূর্বাভাস কিন্তু বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরকেই দিতে হবে। আমরা অচিরেই পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করব। হয়তো আগামী মাস থেকে দেওয়া যেতে পারে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশাল একটা সংকটে পড়েছে বিশ্ব। কয়েক বছর আগেও মার্চ-এপ্রিলে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি হতো। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সেই বজ্রপাত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে হচ্ছে। এটাই জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে জানান আবদুল মান্নান।

তার মতে, ‘আগে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটত। কিন্তু এখন হচ্ছে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে। এটা অস্বাভাবিক। অন্যান্য সময়ে সেপ্টেম্বরে হলেও এর তীব্রতা কম থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেপ্টেম্বরে বজ্রপাতের তীব্রতা অনেক বেশি। ফলে বোঝা যাচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপকভাবে হচ্ছে। সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে, শীতপ্রধান দেশগুলোতে এবার রেকর্ড পরিমাণে উষ্ণতা ছিল। অর্থাৎ জলবায়ুর পরিবর্তন বা বিশ্বের উষ্ণায়নটা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আবহাওয়ার অবস্থান ও কাঠামোগত পরিবর্তন হয়। বর্তমানে আমাদের সামনে জলবায়ু ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হচ্ছে।

বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়া বাংলাদেশে নাকি এটা কমার সম্ভাবনা কম। কারণ, বজ্রপাত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়াতে এটা কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। সুতরাং, প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেহেতু মানুষের হাত নেই, সেহেতু এটা কমার সম্ভাবনাও নেই— বলেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক ছানাউল হক মন্ডল।
আগে মার্চ ও এপ্রিলে বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি দেখা যেত। কিন্তু এখন বজ্রপাতের সময়টা পিছিয়েছে। যেহেতু এটা

তিনি বলেন, ‘অতীতের কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বজ্রপাতের প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে। আগের চেয়ে বজ্রপাতের ফ্রিকোয়েন্সি বেড়েছে। আগে মার্চ ও এপ্রিলে বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি দেখা যেত। কিন্তু এখন বজ্রপাতের সময়টা পিছিয়েছে। যেহেতু এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সেহেতু এটা কমার সম্ভাবনা কম। বজ্রপাত কমানোর চেষ্টা না করে কীভাবে এর ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।’

‘আসলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারও হাত নেই। আগে ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের অনেক ক্ষতি হতো। কিন্তু দেশের জনগণ আমাদের পূর্বাভাস গুরুত্বসহকারে নেওয়ায় এর ক্ষতির পরিমাণ কমে এসেছে। বজ্রপাত নিয়েও জনগণকে সচেতন হতে হবে। তারা সচেতন হলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমে আসবে। আমার জানা মতে, সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে।’

বজ্রপাতের ক্ষতির পরিমাণ কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে ১৫ জেলায় বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করছে, এতে বজ্রপাতের ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে।

এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (কাবিখা- ১) মো. নূরুজ্জামান বলেন, বজ্রপাতপ্রবণ ১৫টি জেলায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। ১৫ জেলার ১৩৫টি উপজেলাতে ৩৩৫টি লাইটনিং অ্যারেস্টার (বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি নামে সরকারের একটি প্রকল্প আছে, যেটা গ্রামে টিআর প্রকল্প নামে চিনে। এ কর্মসূচির টাকা দিয়েও বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন করা যাবে।

‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ফাঁকা মাঠে বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন করা। মানে কৃষককে রক্ষা করা। এছাড়া, কোনো কোনো স্থানে প্রতিষ্ঠানের ছাদে বা ফাঁকা মাঠে, বাজারের পাশেও এগুলো স্থাপন করা হয়েছে।’

বজ্রপাতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উঁচু জায়গায় আঘাত করা— উল্লেখ করে মো. নূরুজ্জামান বলেন, আমাদের ব্যবস্থাপনার ফলে বজ্রপাত ভূপৃষ্ঠের দিকে না এসে যন্ত্রটা যেখানে স্থাপন করা আছে সেখানে চলে যায়। আমাদের যন্ত্রটা বজ্রপাতের গতিপথ বদলে দেয়।

দক্ষিণ এশিয়ার খ্যাতনামা পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. আতিক রহমান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বজ্রপাতের তীব্রতা বাড়ছে। উপরে বৃষ্টির বিন্দু বিন্দু পানি জমে থাকে। বজ্রপাত হচ্ছে ওয়াটার পলিটিক্যাল (বিন্দু) ইলেকট্রিক্যালের চার্জ। ছোট ছোট বিন্দুগুলো যখন বৃষ্টি হয়ে পড়ে যায় তখন চার্জটা সরে যায়। তখনই আমরা বিদ্যুৎ চমকানো দেখাসহ শব্দ শুনতে পাই।’

বজ্রপাত থেকে পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বজ্রপাত সাধারণত খোলা জায়গায় একটু উঁচু পয়েন্টে আঘাত হানে। গ্রামে যখন কৃষকরা কাজ করেন, তখন তারা খোলা জায়গায় থাকেন। বজ্রপাত হলে তারা আকাশের দিকে তাকান। এছাড়া, যেহেতু কৃষকের হাতে কাস্তে থাকে সেজন্য বজ্রপাত কৃষকের হাতের মেটালটা আকর্ষণ করে। যার প্রভাবে তারা হতাহত হন। বৃষ্টিপাতের সময় বজ্রপাত হলে অবশ্যই কোনো শেল্টারে (আশ্রয়স্থল) অবস্থান নিতে হবে। সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৃষ্টির সময় বাইরে অবস্থান না করাই উত্তম।’

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

অস্বাভাবিক বজ্রপাত, নদীমাতৃক দেশই অভিশাপ

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৩:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখ সারির দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, বজ্রপাত ও খরাসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হয় এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটারের দেশটিকে। এসব বিষয়ে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও দিন দিন বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বাড়ছে। অন্যদিকে, সাধারণ জনগণ সচেতন না হওয়ায় প্রতি বছরই প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের মতো ঘটনা বাড়ছে। জলবায়ুর ভয়ংকর পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে জল টর্নেডোর ঘটনাও ঘটেছে। যা অস্থির বায়ুমণ্ডলের ইঙ্গিত দেয়। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, সেহেতু প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখ সারিতে রয়েছে দেশটি। এজন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ব বায়ুমণ্ডলকে শান্ত রাখতে উদ্যোগ নিতে হবে।

গেল এক দশকের মধ্যে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ২০১৬ সালে। ২০১৯ ও ২০২০ সালে কিছুটা কমলেও বাকি বছরগুলোতে তিনশোর ওপরে ছিল মৃত্যুর সংখ্যা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০১১ সালে ১৭৯ জন মারা গেছেন। ২০১২ সালে ২০১ জন, ২০১৩ সালে ১৮৫, ২০১৪ সালে ১৭০, ২০১৫ সালে ২২৬, ২০১৬ সালে ৩৯১, ২০১৭ সালে ৩০৭, ২০১৮ সালে ৩৫৯, ২০১৯ সালে ১৯৮, ২০২০ সালে ২৫৫ এবং ২০২১ সালে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৩১৪ জনের। গত ১০ বছরে দেশে শুধু বজ্রপাতেই মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৭৮৫ জনের।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানায়, ২০২২ সালে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ২৬৭ জনের এবং আহত হয়েছেন ৭৫ জন। চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৫টি জেলায় বজ্রপাতে এসব মানুষ মারা যান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হবিগঞ্জে ১৮ জন, সুনামগঞ্জে ১৭ জন এবং সিরাজগঞ্জে মারা যান ১৬ জন।

বজ্রপাত কমাতে হলে সবার আগে বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা কমাতে হবে বলে মনে করেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, বজ্রপাতের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী অস্থির বায়ুমণ্ডল। এজন্য বায়ুমণ্ডল শান্ত রাখতে বিশ্বনেতাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন বা বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা পৃথিবীতে অস্থির অবস্থা চলছে। তাপমাত্রা বাড়লে বায়ুমণ্ডল অস্থির হয়ে পড়ে। তখন এর স্বাভাবিক আচরণ থাকে না, অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। বায়ুমণ্ডল উষ্ণ হলে এবং সেখানে জলীয়বাষ্পের জোগান পেলে তৎক্ষণাৎ তা বায়ুমণ্ডলের উপরে উঠে যায়। তৈরি হয় এক ধরনের মেঘ। যেগুলোকে আমরা বজ্র মেঘ বলি। এ বজ্র মেঘ বজ্রপাতের জন্য দায়ী। এ ধরনের মেঘ সৃষ্টির প্রবণতা বাংলাদেশের মতো অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। এর কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের যেখানে-সেখানে জলভাগ আছে। ফলে মেঘগুলো বিচ্ছিন্নভাবে তৈরি হয়। ৫০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে এ মেঘ তৈরি হয়। উৎপত্তি ঘটে বজ্রপাতের।’

তিনি বলেন, যত দিন পর্যন্ত বিশ্ব উষ্ণায়ন থাকবে, তত দিন এটা অব্যাহত থাকবে। যেমন, শীতকালে বায়ুমণ্ডলে এ ধরনের চিত্র দেখা যায় না। কারণ, এ সময় বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত থাকে না। আমাদের অঞ্চলে বর্ষা ও গ্রীষ্মকালে জলভাগ থেকে জলীয় বাষ্প পেলেই বায়ুমণ্ডল অস্থির হয়ে উপরে উঠে যায়। পরে তা মেঘের সৃষ্টি করে এবং মেঘের কণাগুলো বড় হয়ে কঠিন আকার ধারণ করে। এগুলো নিজেদের মধ্যে ঘর্ষণের ফলে এক ধরনের আয়ন বা চার্জ জেনারেট করে। এ চার্জ যখন আকস্মিকভাবে অনেক বেশি পরিমাণে হয়, তখনই বজ্রপাতের মতো ঘটনা ঘটে। তার মানে, চলমান বিশ্বের উষ্ণায়ন প্রক্রিয়ার কারণে শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে।

আবহাওয়াবিদদের তথ্য মতে, জলভাগ যত কম থাকবে ততই বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা কম হবে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এখানে যেহেতু জলের পরিমাণ বেশি তাই এ দেশে বজ্রপাতের প্রবণতাও বেশি। এখানে পানির উৎস বেশি থাকায় সম্প্রতি কয়েকটি জল টর্নেডোও দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে আবদুল মান্নান বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আমাদের দেশের বিভিন্ন নদী থেকে খাড়াভাবে পানি উপরে উঠে যাচ্ছে। এটাকে আমরা জল টর্নেডো বলি। এটাও কিন্তু বজ্র মেঘ থেকে হয়। বাংলাদেশে জল টর্নেডো হওয়ার কারণ হচ্ছে, দেশের বায়ুমণ্ডল যে পরিমাণে উত্তপ্ত হচ্ছে তার মধ্যে জলীয়বাষ্পের পর্যাপ্ত জোগান আছে। জলীয়বাষ্পের পর্যাপ্ত জোগান থাকলে শান্ত আবহাওয়াতেও বজ্রপাতের মতো ঘটনার আশঙ্কা থাকে।’

‘বিশ্বের বেশির ভাগ অঞ্চলের জলভাগে পানির পরিমাণ কম। ফলে সেসব অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম। তার মানে, প্রধান দুটি কারণ হচ্ছে- তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি। এ দুই কারণই জল টর্নেডোর জন্য দায়ী।’

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় এখানে বজ্রপাত বেশি হচ্ছে। আগামীতে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নদীমাতৃক দেশ হওয়াতে আমাদের দেশে এটা বেশি হচ্ছে কি না— ঢাকা পোস্টের এমন প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ মান্নান বলেন, ‘অবশ্যই। বাংলাদেশের মতো এত খাল, বিল ও নদী বিশ্বের অন্য কোনো দেশে নেই। এত পানিও নেই। ফলে, আমাদের দেশে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এখানকার আবহাওয়ায় জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে। এটাও অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা যায়। বাংলাদেশের অবস্থান যদি ভুটানের উত্তর পাশে হতো তাহলে টর্নেডো বা বজ্রপাতের ঘটনা সেভাবে ঘটত না।’

ড. আবদুল মান্নান মনে করেন, তিনটি বিষয় আমলে নিলে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার কমে আসবে। পরিত্রাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানত তিনটি বিষয় আছে। প্রথমত, আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। দ্বিতীয়ত, বজ্রপাত যেহেতু সাময়িক ঘটনা, ওই সময়ে আমাদের বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। কালো মেঘ থেকে বজ্রপাত দেখলেই নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে। তৃতীয়ত, বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে এবং লোকজনকে সেটা মানতে হবে।’

‘পূর্বাভাস কিন্তু বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরকেই দিতে হবে। আমরা অচিরেই পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করব। হয়তো আগামী মাস থেকে দেওয়া যেতে পারে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশাল একটা সংকটে পড়েছে বিশ্ব। কয়েক বছর আগেও মার্চ-এপ্রিলে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি হতো। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সেই বজ্রপাত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে হচ্ছে। এটাই জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে জানান আবদুল মান্নান।

তার মতে, ‘আগে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটত। কিন্তু এখন হচ্ছে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে। এটা অস্বাভাবিক। অন্যান্য সময়ে সেপ্টেম্বরে হলেও এর তীব্রতা কম থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেপ্টেম্বরে বজ্রপাতের তীব্রতা অনেক বেশি। ফলে বোঝা যাচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপকভাবে হচ্ছে। সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে, শীতপ্রধান দেশগুলোতে এবার রেকর্ড পরিমাণে উষ্ণতা ছিল। অর্থাৎ জলবায়ুর পরিবর্তন বা বিশ্বের উষ্ণায়নটা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আবহাওয়ার অবস্থান ও কাঠামোগত পরিবর্তন হয়। বর্তমানে আমাদের সামনে জলবায়ু ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হচ্ছে।

বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়া বাংলাদেশে নাকি এটা কমার সম্ভাবনা কম। কারণ, বজ্রপাত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়াতে এটা কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। সুতরাং, প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেহেতু মানুষের হাত নেই, সেহেতু এটা কমার সম্ভাবনাও নেই— বলেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক ছানাউল হক মন্ডল।
আগে মার্চ ও এপ্রিলে বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি দেখা যেত। কিন্তু এখন বজ্রপাতের সময়টা পিছিয়েছে। যেহেতু এটা

তিনি বলেন, ‘অতীতের কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বজ্রপাতের প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে। আগের চেয়ে বজ্রপাতের ফ্রিকোয়েন্সি বেড়েছে। আগে মার্চ ও এপ্রিলে বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি দেখা যেত। কিন্তু এখন বজ্রপাতের সময়টা পিছিয়েছে। যেহেতু এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সেহেতু এটা কমার সম্ভাবনা কম। বজ্রপাত কমানোর চেষ্টা না করে কীভাবে এর ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।’

‘আসলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারও হাত নেই। আগে ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের অনেক ক্ষতি হতো। কিন্তু দেশের জনগণ আমাদের পূর্বাভাস গুরুত্বসহকারে নেওয়ায় এর ক্ষতির পরিমাণ কমে এসেছে। বজ্রপাত নিয়েও জনগণকে সচেতন হতে হবে। তারা সচেতন হলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমে আসবে। আমার জানা মতে, সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে।’

বজ্রপাতের ক্ষতির পরিমাণ কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে ১৫ জেলায় বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করছে, এতে বজ্রপাতের ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে।

এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (কাবিখা- ১) মো. নূরুজ্জামান বলেন, বজ্রপাতপ্রবণ ১৫টি জেলায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। ১৫ জেলার ১৩৫টি উপজেলাতে ৩৩৫টি লাইটনিং অ্যারেস্টার (বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি নামে সরকারের একটি প্রকল্প আছে, যেটা গ্রামে টিআর প্রকল্প নামে চিনে। এ কর্মসূচির টাকা দিয়েও বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন করা যাবে।

‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ফাঁকা মাঠে বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন করা। মানে কৃষককে রক্ষা করা। এছাড়া, কোনো কোনো স্থানে প্রতিষ্ঠানের ছাদে বা ফাঁকা মাঠে, বাজারের পাশেও এগুলো স্থাপন করা হয়েছে।’

বজ্রপাতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উঁচু জায়গায় আঘাত করা— উল্লেখ করে মো. নূরুজ্জামান বলেন, আমাদের ব্যবস্থাপনার ফলে বজ্রপাত ভূপৃষ্ঠের দিকে না এসে যন্ত্রটা যেখানে স্থাপন করা আছে সেখানে চলে যায়। আমাদের যন্ত্রটা বজ্রপাতের গতিপথ বদলে দেয়।

দক্ষিণ এশিয়ার খ্যাতনামা পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. আতিক রহমান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বজ্রপাতের তীব্রতা বাড়ছে। উপরে বৃষ্টির বিন্দু বিন্দু পানি জমে থাকে। বজ্রপাত হচ্ছে ওয়াটার পলিটিক্যাল (বিন্দু) ইলেকট্রিক্যালের চার্জ। ছোট ছোট বিন্দুগুলো যখন বৃষ্টি হয়ে পড়ে যায় তখন চার্জটা সরে যায়। তখনই আমরা বিদ্যুৎ চমকানো দেখাসহ শব্দ শুনতে পাই।’

বজ্রপাত থেকে পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বজ্রপাত সাধারণত খোলা জায়গায় একটু উঁচু পয়েন্টে আঘাত হানে। গ্রামে যখন কৃষকরা কাজ করেন, তখন তারা খোলা জায়গায় থাকেন। বজ্রপাত হলে তারা আকাশের দিকে তাকান। এছাড়া, যেহেতু কৃষকের হাতে কাস্তে থাকে সেজন্য বজ্রপাত কৃষকের হাতের মেটালটা আকর্ষণ করে। যার প্রভাবে তারা হতাহত হন। বৃষ্টিপাতের সময় বজ্রপাত হলে অবশ্যই কোনো শেল্টারে (আশ্রয়স্থল) অবস্থান নিতে হবে। সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৃষ্টির সময় বাইরে অবস্থান না করাই উত্তম।’