ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঢাকা উত্তর সিটির আবদারে আটকে পাতাল রেলের কাজ

মেট্রোরেলের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উল্টো আরেকটি প্রস্তাব দিয়েছে তারা। ডিএনসিসির প্রস্তাবে যে ‘আবদার’ জানানো হয়েছে তাকে অযৌক্তিক বলছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। এই টানাপোড়েনে আটকে গেছে পাতাল রেলের কাজ।

জুন মাসে এ কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চার মাস পেরিয়ে গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একই সঙ্গে এই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) অবসরে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও নতুন পিডি নিয়োগ হয়নি, এতে প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি হচ্ছে না।

পাতাল ও উড়াল মিলে মেট্রোরেল লাইন-১ এর মোট দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত পাতাল অংশের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। অন্যদিকে নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত নির্মাণ হবে উড়ালপথ, যার দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার। পাতাল পথে স্টেশন হবে ১২টি এবং উড়ালপথে থাকবে ৭টি। উভয় পথে মোট ১৯টি স্টেশন চূড়ান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালে পাতাল রেলের নির্মাণ কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে।

ইতিমধ্যেই পাতাল রেলের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ নকশায় যেভাবে ইউটিলিটি সরানোর প্রস্তাব দিয়েছে তাতে আপত্তি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

প্রকল্প সূত্র জানায়, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো পাতাল রেলের রুটেও মাটির নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন। পাতাল রেল কর্তৃপক্ষ ইউটিলিটি সেবার লাইন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নকশায় বিস্তারিত তুলে ধরেছে। তারা বলেছে, পাতাল পথে যেসব স্টেশন হবে সেখানে কয়েকটা কমন করিডর করে সব ইউটিলিটির লাইন একসঙ্গে রাখা হবে। তবে স্টেশনের বাইরে এমন করা হবে না।

আর এখানেই আপত্তি সিটি করপোরেশনের। তাদের আবদার শুধু স্টেশনেই না, পাতাল রেলের পুরো রুটেই ইউটিলিটি লাইনগুলো একসঙ্গে কংক্রিটের পাইপে কমন করিডরে করে দিতে হবে। তাদের বক্তব্য, এতে ইউটিলিটি সেবাগুলোর ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং বারবার রাস্তা খুঁড়তে হবে না। সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবে একমত নয় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেট্রোরেলে লাইন-১ এর একজন সহকারী প্রকৌশলী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি যে প্রস্তাব দিয়েছে তা করতে গেলে আমাদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু কাজ শেষ হবে না। তাতে খরচও বাড়বে। আমরা আমাদের প্রস্তাবমতো ব্যবস্থা শুধু স্টেশনগুলোতেই রাখতে পারি। সিটি করপোরেশন চাইলে বাকিটা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় করে নিতে পারে। মালিবাগ থেকে নদ্দা অংশে ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের প্রস্তাবে এখনো একমত হয়নি ডিএনসিসি। আমরা চেষ্টা করছি সমন্বয় করে বিষয়টি সমাধান করার।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের অভাব আছে, এটি নতুন নয়। এতে প্রকল্পের কাজে ব্যাঘাত ঘটে, নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয় না প্রকল্পের কাজ। সে ক্ষেত্রে কাজ শুরুর পরিকল্পনার আগেই তাদের মধ্যে সমন্বয় করা উচিত। তাহলে পরে জটিলতা হবে না।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের কোনো ঘাটতি নেই। যেটা করলে দুপক্ষের জন্যই উইন উইন সিচুয়েশন হবে সেভাবেই আমরা কাজ করছি। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করার আমরা সেটা করছি। তবে আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তায় ফুটপাতসহ অন্যান্য বিষয় ঠিক রেখেই তাদের নকশা করতে হবে।’

মেট্রোরেলের মালিক প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন সিদ্দিক বলেন, ‘তেমন বড় কোনো জটিলতা নেই। যখন যে কাজ হবে সেটির বিষয়ে করপোরেশনের অনুমতি নেয়া হবে। আশা করছি ইউটিলিটি নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না। মেট্রোরেল লাইন-৬ এর কাজ যখন করতে পেরেছি, তখন লাইন-১ এর কাজও হয়ে যাবে। আর পাতাল রেলের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বাকিটা সরকারের হাত।’

কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মাটির নিচে রেল ট্র্যাক যাবে রাস্তার প্রায় ১০ মিটার নিচ দিয়ে। দুটি টানেল বোরিং মেশিন প্রতিদিন সামনের দিকে মাটি কেটে এগোবে। বিমানবন্দর, কুড়িল, নতুন বাজার এবং কমলাপুরে বসবে এসব টানেল বোরিং মেশিন।

মেট্রোরেল লাইন-১ এর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাস থেকে টানেলের খনন শুরু হবে। এই কাজের জন্য এপ্রিল মাসে টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) আনা হবে। মোট ৯টি টানেল বোরিং মেশিন আসবে, এর মধ্যে চারটি দিয়ে কাজ শুরু করার কথা আছে। বিমানবন্দর রেলস্টেশন, টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত- এই তিনটি পাতাল স্টেশনে প্রথমে খনন কাজ একসঙ্গে শুরু হবে। তাই সবার আগে এই তিনটি স্টেশনেরই ইউটিলিটি সরানোর শুরু হবে। ইউটিলিটির কাজ শেষ করতেই চার মাস সময় লাগবে।

প্রতিটি পাতাল স্টেশন হবে তিনতলাবিশিষ্ট। টিকিট কাউন্টার ও অন্যান্য সুবিধা থাকবে প্রথম বেসমেন্টে এবং প্ল্যাটফর্ম থাকবে দ্বিতীয় বেসমেন্ট। তবে উড়াল স্টেশনের টিকিট কাউন্টার এবং প্ল্যাটফর্ম থাকবে তিন তলায়। যাত্রীদের চলাচলের জন্য উড়াল এবং পাতাল- দুই পথের স্টেশনেই থাকবে লিফট, সিঁড়ি এবং এস্কেলেটর সুবিধা। স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাস এবং অক্সিজেন আসতে থাকবে অতিরিক্ত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা।

মেট্রোরেলের লাইন-১ এর ডিপো নির্মাণ হবে নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জে। গত জুলাই মাসে এই ডিপো এলাকায় মূল নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পিছিয়ে দিয়ে আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়ার কথা ছিল মূল নির্মাণকাজ। তারপরও শুরু হয়নি কাজ।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক বলেন, ‘পাতাল রেলের ডিপোর কনস্ট্রাকশন কাজ অক্টোবর মাসে শুরু হবে। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কাজ উদ্বোধন করবেন। ডিপো নির্মাণের মধ্য দিয়ে পাতাল রেলের আনুষ্ঠানিক কনস্ট্রাকশন কাজ শুরু হবে। ডিপো নির্মাণ কাজের দরপত্র ও ঠিকাদার নিয়োগসহ যাবতীয় কাজ শেষ।’

এদিকে পুরো প্রকল্পটির কাজ ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে ৮টি প্যাকেজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে । আরো দুই থেকে তিনটি প্যাকেজের টেন্ডার কাজ এই মাসের মধ্যে শুরু হবে।

প্রকল্পটি শেষ হলে এই রুটে প্রতিদিন ৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট। পাতাল রেলের জন্য কেনা হবে ২৫টি ট্রেন। প্রতিটি ট্রেনে কোচ থাকবে ৮টি করে ৷ একেকটি ট্রেন সেটে একসঙ্গে ৩ হাজার ৮৮ জন যাত্রী পরিবহন করা যাবে।

পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং বাকিটা বাংলাদেশ সরকার।

Tag :

ভ্রাম্যমান আদালতে গাঁজা সেবনকারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড

ঢাকা উত্তর সিটির আবদারে আটকে পাতাল রেলের কাজ

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

মেট্রোরেলের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উল্টো আরেকটি প্রস্তাব দিয়েছে তারা। ডিএনসিসির প্রস্তাবে যে ‘আবদার’ জানানো হয়েছে তাকে অযৌক্তিক বলছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। এই টানাপোড়েনে আটকে গেছে পাতাল রেলের কাজ।

জুন মাসে এ কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চার মাস পেরিয়ে গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একই সঙ্গে এই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) অবসরে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও নতুন পিডি নিয়োগ হয়নি, এতে প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি হচ্ছে না।

পাতাল ও উড়াল মিলে মেট্রোরেল লাইন-১ এর মোট দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত পাতাল অংশের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। অন্যদিকে নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত নির্মাণ হবে উড়ালপথ, যার দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার। পাতাল পথে স্টেশন হবে ১২টি এবং উড়ালপথে থাকবে ৭টি। উভয় পথে মোট ১৯টি স্টেশন চূড়ান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালে পাতাল রেলের নির্মাণ কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে।

ইতিমধ্যেই পাতাল রেলের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ নকশায় যেভাবে ইউটিলিটি সরানোর প্রস্তাব দিয়েছে তাতে আপত্তি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

প্রকল্প সূত্র জানায়, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো পাতাল রেলের রুটেও মাটির নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন। পাতাল রেল কর্তৃপক্ষ ইউটিলিটি সেবার লাইন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নকশায় বিস্তারিত তুলে ধরেছে। তারা বলেছে, পাতাল পথে যেসব স্টেশন হবে সেখানে কয়েকটা কমন করিডর করে সব ইউটিলিটির লাইন একসঙ্গে রাখা হবে। তবে স্টেশনের বাইরে এমন করা হবে না।

আর এখানেই আপত্তি সিটি করপোরেশনের। তাদের আবদার শুধু স্টেশনেই না, পাতাল রেলের পুরো রুটেই ইউটিলিটি লাইনগুলো একসঙ্গে কংক্রিটের পাইপে কমন করিডরে করে দিতে হবে। তাদের বক্তব্য, এতে ইউটিলিটি সেবাগুলোর ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং বারবার রাস্তা খুঁড়তে হবে না। সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবে একমত নয় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেট্রোরেলে লাইন-১ এর একজন সহকারী প্রকৌশলী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি যে প্রস্তাব দিয়েছে তা করতে গেলে আমাদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু কাজ শেষ হবে না। তাতে খরচও বাড়বে। আমরা আমাদের প্রস্তাবমতো ব্যবস্থা শুধু স্টেশনগুলোতেই রাখতে পারি। সিটি করপোরেশন চাইলে বাকিটা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় করে নিতে পারে। মালিবাগ থেকে নদ্দা অংশে ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের প্রস্তাবে এখনো একমত হয়নি ডিএনসিসি। আমরা চেষ্টা করছি সমন্বয় করে বিষয়টি সমাধান করার।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের অভাব আছে, এটি নতুন নয়। এতে প্রকল্পের কাজে ব্যাঘাত ঘটে, নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয় না প্রকল্পের কাজ। সে ক্ষেত্রে কাজ শুরুর পরিকল্পনার আগেই তাদের মধ্যে সমন্বয় করা উচিত। তাহলে পরে জটিলতা হবে না।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের কোনো ঘাটতি নেই। যেটা করলে দুপক্ষের জন্যই উইন উইন সিচুয়েশন হবে সেভাবেই আমরা কাজ করছি। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করার আমরা সেটা করছি। তবে আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তায় ফুটপাতসহ অন্যান্য বিষয় ঠিক রেখেই তাদের নকশা করতে হবে।’

মেট্রোরেলের মালিক প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন সিদ্দিক বলেন, ‘তেমন বড় কোনো জটিলতা নেই। যখন যে কাজ হবে সেটির বিষয়ে করপোরেশনের অনুমতি নেয়া হবে। আশা করছি ইউটিলিটি নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না। মেট্রোরেল লাইন-৬ এর কাজ যখন করতে পেরেছি, তখন লাইন-১ এর কাজও হয়ে যাবে। আর পাতাল রেলের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বাকিটা সরকারের হাত।’

কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মাটির নিচে রেল ট্র্যাক যাবে রাস্তার প্রায় ১০ মিটার নিচ দিয়ে। দুটি টানেল বোরিং মেশিন প্রতিদিন সামনের দিকে মাটি কেটে এগোবে। বিমানবন্দর, কুড়িল, নতুন বাজার এবং কমলাপুরে বসবে এসব টানেল বোরিং মেশিন।

মেট্রোরেল লাইন-১ এর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাস থেকে টানেলের খনন শুরু হবে। এই কাজের জন্য এপ্রিল মাসে টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) আনা হবে। মোট ৯টি টানেল বোরিং মেশিন আসবে, এর মধ্যে চারটি দিয়ে কাজ শুরু করার কথা আছে। বিমানবন্দর রেলস্টেশন, টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত- এই তিনটি পাতাল স্টেশনে প্রথমে খনন কাজ একসঙ্গে শুরু হবে। তাই সবার আগে এই তিনটি স্টেশনেরই ইউটিলিটি সরানোর শুরু হবে। ইউটিলিটির কাজ শেষ করতেই চার মাস সময় লাগবে।

প্রতিটি পাতাল স্টেশন হবে তিনতলাবিশিষ্ট। টিকিট কাউন্টার ও অন্যান্য সুবিধা থাকবে প্রথম বেসমেন্টে এবং প্ল্যাটফর্ম থাকবে দ্বিতীয় বেসমেন্ট। তবে উড়াল স্টেশনের টিকিট কাউন্টার এবং প্ল্যাটফর্ম থাকবে তিন তলায়। যাত্রীদের চলাচলের জন্য উড়াল এবং পাতাল- দুই পথের স্টেশনেই থাকবে লিফট, সিঁড়ি এবং এস্কেলেটর সুবিধা। স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাস এবং অক্সিজেন আসতে থাকবে অতিরিক্ত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা।

মেট্রোরেলের লাইন-১ এর ডিপো নির্মাণ হবে নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জে। গত জুলাই মাসে এই ডিপো এলাকায় মূল নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পিছিয়ে দিয়ে আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়ার কথা ছিল মূল নির্মাণকাজ। তারপরও শুরু হয়নি কাজ।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক বলেন, ‘পাতাল রেলের ডিপোর কনস্ট্রাকশন কাজ অক্টোবর মাসে শুরু হবে। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কাজ উদ্বোধন করবেন। ডিপো নির্মাণের মধ্য দিয়ে পাতাল রেলের আনুষ্ঠানিক কনস্ট্রাকশন কাজ শুরু হবে। ডিপো নির্মাণ কাজের দরপত্র ও ঠিকাদার নিয়োগসহ যাবতীয় কাজ শেষ।’

এদিকে পুরো প্রকল্পটির কাজ ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে ৮টি প্যাকেজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে । আরো দুই থেকে তিনটি প্যাকেজের টেন্ডার কাজ এই মাসের মধ্যে শুরু হবে।

প্রকল্পটি শেষ হলে এই রুটে প্রতিদিন ৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট। পাতাল রেলের জন্য কেনা হবে ২৫টি ট্রেন। প্রতিটি ট্রেনে কোচ থাকবে ৮টি করে ৷ একেকটি ট্রেন সেটে একসঙ্গে ৩ হাজার ৮৮ জন যাত্রী পরিবহন করা যাবে।

পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং বাকিটা বাংলাদেশ সরকার।