ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জয়ের চেয়ে যে ভুলগুলো বেশি ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে

প্রস্তুতির আবহেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি খেলছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আরেকটি সুযোগ বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে পেতে পারে। তবে সেখানে খুব বেশি কাটাছেঁড়ায় নাও যেতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। সিরিজের প্রথম ম্যাচে দুবাইয়ে বাংলাদেশকে ভালোই পরীক্ষা নিয়েছে স্বাগতিকেরা। পরশু রাতে ৭ রানে জেতা ম্যাচে তাই ইতিবাচক ব্যাপারের চেয়ে নিজেদের ভুল নিয়েই বেশি ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে।

টপ অর্ডার নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা, সেটি এখনো কমেনি বরং বেড়েছি। গত ম্যাচেও সেটা থেকে বের হতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে অবশ্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনো চলছে। ওপেনিংয়ে সর্বশেষ দুই ম্যাচে ‘মেক শিফট’ ওপেনারের পরিকল্পনা কাজে আসেনি। আজও বাংলাদেশ একই পথে হাঁটে কি না, সেটা দেখার বিষয়। চোট কাটিয়ে ফেরা নিয়মিত ওপেনার লিটন দাস খেলেছেন তিনে। তাঁকে আজ ওপেনারের ভূমিকায় দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। প্রথম ম্যাচে শুরুটা আশাজাগানিয়া হলেও তিনে নেমে ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন।

ব্যাটিং অর্ডারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা চার নম্বর পজিশন। মুশফিকুর রহিমের অবসর, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ না থাকায় আফিফ হোসেনের ওপরে উঠে আসা এক প্রকার নিশ্চিতই ছিল। লোয়ার মিডল অর্ডার থেকে গত ম্যাচে চারে ব্যাটিং করেছেন আফিফ। চাপের মুখে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে সেটার প্রতিদানও দিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। আজও সেটার পুনরাবৃত্তি চান আফিফ, ‘সব সময় চাপের মধ্যে ব্যাটিং করতে ভালো লাগে। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করতে চেয়েছিলাম, সফল হওয়ায় ভালো লাগছে। আশা করি, পরের ম্যাচেও রান করতে পারব।’ সিনিয়রদের না থাকাকেও বড় করে দেখতে রাজি নন আফিফ, ‘কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় না থাকলেও আমাদের ওপর বাড়তি চাপ নেই। আমাদের সব সময় সেরা একাদশই খেলাতে হবে।’

টি-টোয়েন্টিতে এখন অলআউট ক্রিকেট খেলছে বেশির ভাগ দল। উইকেট পড়ে চাপের মুখে থাকলেও পাল্টা আক্রমণকে সেরা উপায় হিসেবে দেখছে ইংল্যান্ড-ভারতের মতো দলগুলো। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে যে কাজটা করেছেন আফিফ। এটাই তাঁর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করা আফিফ বললেন, ‘লক্ষ্য থাকে উইকেট পড়ে গেলেও স্ট্রাইক রোটেট করি আর বাউন্ডারি বের করি। ম্যাচের পরিকল্পনা অনুযায়ী চেষ্টা করেছি।’

টি-টোয়েন্টিতে শেষ মুহূর্তে গিয়ে ম্যাচ হারার অভ্যাস নতুন নয় বাংলাদেশের। আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচটি সে দিক থেকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে সফরকারীরা। জয়টা যে দরকার ছিল সেটা মানছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চাপকে জয় করে দলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলেই দাবি তাঁর, ‘আমাদের একটা জয় খুব দরকার ছিল। গত কয়েকটা সিরিজে এবং এশিয়া কাপে আমরা কাছে গিয়ে হেরেছি। জিততে জিততে হেরে গেছি। কালকের (পরশু) পরিস্থিতিও ওরকমই ছিল। কিন্তু আমাদের বোলাররা খুব ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এটা সবার ভেতরে বিশ্বকাপের আগে আলাদা আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’

তবে যেসব ভুল করেও বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতেছে, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বড় দলগুলো ওই অবস্থা থেকে ঠিকই ম্যাচ বের করে নেবে। যে কাজটা অনভিজ্ঞতার কারণে পারেনি আমিরাত। ব্যাটিংয়ের মতো ফিল্ডিংয়ে বাজে আরেকটা দিনই গেছে প্রথম ম্যাচে। মিরাজ অবশ্য ভুল শুধরে নেওয়ার কথা বলছেন, ‘আমরা এখানে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি, বিশ্বকাপের ভালো প্রস্তুতির লক্ষ্য। আমরা এখানে গত দুই-তিন দিন অনুশীলন করেছি, একটা ম্যাচ খেলেছি। আমাদের ছোট ছোট যে ভুলগুলো ছিল, আগের চেয়ে ভুলের মাত্রা যেন কমিয়ে আনতে পারি, সেটাই আমরা চেষ্টা করছি।’

Tag :
জনপ্রিয়

নিরব-আরিয়ানা জামানের ‘স্পর্শ’

জয়ের চেয়ে যে ভুলগুলো বেশি ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে

প্রকাশের সময় : ০৮:৩১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রস্তুতির আবহেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি খেলছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আরেকটি সুযোগ বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে পেতে পারে। তবে সেখানে খুব বেশি কাটাছেঁড়ায় নাও যেতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। সিরিজের প্রথম ম্যাচে দুবাইয়ে বাংলাদেশকে ভালোই পরীক্ষা নিয়েছে স্বাগতিকেরা। পরশু রাতে ৭ রানে জেতা ম্যাচে তাই ইতিবাচক ব্যাপারের চেয়ে নিজেদের ভুল নিয়েই বেশি ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে।

টপ অর্ডার নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা, সেটি এখনো কমেনি বরং বেড়েছি। গত ম্যাচেও সেটা থেকে বের হতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে অবশ্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনো চলছে। ওপেনিংয়ে সর্বশেষ দুই ম্যাচে ‘মেক শিফট’ ওপেনারের পরিকল্পনা কাজে আসেনি। আজও বাংলাদেশ একই পথে হাঁটে কি না, সেটা দেখার বিষয়। চোট কাটিয়ে ফেরা নিয়মিত ওপেনার লিটন দাস খেলেছেন তিনে। তাঁকে আজ ওপেনারের ভূমিকায় দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। প্রথম ম্যাচে শুরুটা আশাজাগানিয়া হলেও তিনে নেমে ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন।

ব্যাটিং অর্ডারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা চার নম্বর পজিশন। মুশফিকুর রহিমের অবসর, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ না থাকায় আফিফ হোসেনের ওপরে উঠে আসা এক প্রকার নিশ্চিতই ছিল। লোয়ার মিডল অর্ডার থেকে গত ম্যাচে চারে ব্যাটিং করেছেন আফিফ। চাপের মুখে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে সেটার প্রতিদানও দিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। আজও সেটার পুনরাবৃত্তি চান আফিফ, ‘সব সময় চাপের মধ্যে ব্যাটিং করতে ভালো লাগে। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করতে চেয়েছিলাম, সফল হওয়ায় ভালো লাগছে। আশা করি, পরের ম্যাচেও রান করতে পারব।’ সিনিয়রদের না থাকাকেও বড় করে দেখতে রাজি নন আফিফ, ‘কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় না থাকলেও আমাদের ওপর বাড়তি চাপ নেই। আমাদের সব সময় সেরা একাদশই খেলাতে হবে।’

টি-টোয়েন্টিতে এখন অলআউট ক্রিকেট খেলছে বেশির ভাগ দল। উইকেট পড়ে চাপের মুখে থাকলেও পাল্টা আক্রমণকে সেরা উপায় হিসেবে দেখছে ইংল্যান্ড-ভারতের মতো দলগুলো। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে যে কাজটা করেছেন আফিফ। এটাই তাঁর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করা আফিফ বললেন, ‘লক্ষ্য থাকে উইকেট পড়ে গেলেও স্ট্রাইক রোটেট করি আর বাউন্ডারি বের করি। ম্যাচের পরিকল্পনা অনুযায়ী চেষ্টা করেছি।’

টি-টোয়েন্টিতে শেষ মুহূর্তে গিয়ে ম্যাচ হারার অভ্যাস নতুন নয় বাংলাদেশের। আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচটি সে দিক থেকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে সফরকারীরা। জয়টা যে দরকার ছিল সেটা মানছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চাপকে জয় করে দলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলেই দাবি তাঁর, ‘আমাদের একটা জয় খুব দরকার ছিল। গত কয়েকটা সিরিজে এবং এশিয়া কাপে আমরা কাছে গিয়ে হেরেছি। জিততে জিততে হেরে গেছি। কালকের (পরশু) পরিস্থিতিও ওরকমই ছিল। কিন্তু আমাদের বোলাররা খুব ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এটা সবার ভেতরে বিশ্বকাপের আগে আলাদা আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’

তবে যেসব ভুল করেও বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতেছে, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বড় দলগুলো ওই অবস্থা থেকে ঠিকই ম্যাচ বের করে নেবে। যে কাজটা অনভিজ্ঞতার কারণে পারেনি আমিরাত। ব্যাটিংয়ের মতো ফিল্ডিংয়ে বাজে আরেকটা দিনই গেছে প্রথম ম্যাচে। মিরাজ অবশ্য ভুল শুধরে নেওয়ার কথা বলছেন, ‘আমরা এখানে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি, বিশ্বকাপের ভালো প্রস্তুতির লক্ষ্য। আমরা এখানে গত দুই-তিন দিন অনুশীলন করেছি, একটা ম্যাচ খেলেছি। আমাদের ছোট ছোট যে ভুলগুলো ছিল, আগের চেয়ে ভুলের মাত্রা যেন কমিয়ে আনতে পারি, সেটাই আমরা চেষ্টা করছি।’