ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিন্ডিকেটসহ নানা বিড়ম্বনায় ধুঁকছে ট্যুরিজম খাত

প্রতি বছর পর্যটন দিবস আসে পর্যটন দিবস যায়। কিন্তু দেশের ট্যুরিজম খাতে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট আর পদে পদে পর্যটকদের নানা বিড়ম্বনার কোনো পরিবর্তন হয় না। আবিদ, হাবীব ও সাইফ। ঢাকা থেকে তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে যান চট্টগ্রাম মীরসরাইয়ের একটি ঝরনায়। ট্রেইলগুলো বন বিভাগ থেকে সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক ঝরনা হলেও ঢুকতে জনপ্রতি চাঁদা গুনতে হয়েছে তাদের। বিনিময়ে তারা কোনো সেবা পাননি বলে অভিযোগ। এমনকি ঝিরিপথে ঢুকে ঝরনায় যেতে তাদের যে তিন ঘণ্টা হাঁটতে হয়েছে, এ পুরো পথে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পরিবেশ ধ্বংসকারী অপচনশীল বর্জ্য। ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর এসব পলিথিন বা অপচনশীল বর্জ্য সম্পর্কে সচেতনতামূলক দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপও তারা দেখেননি। সবচেয়ে বিড়ম্বনায় ফেলেছে তাদের আশেপাশের কোথাও শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায়। বিশেষ করে, যখন কোনো নারী বন্ধু ঘুরতে যান, তখন আরও বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয় অনেককেই।

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ১৯৮০ সাল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন হয়ে আসছে। এ বছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের ‘হোস্ট কান্ট্রি’ ইন্দোনেশিয়া। দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছেÑআন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে সেতুবন্ধ গড়ে তোলা। এ ছাড়া পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।

এবার বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘রিথিঙ্কিং ট্যুরিজম’ বা নব ভাবনায় পর্যটন। দিবসকে ঘিরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বাপক)।

আলাপকালে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের উপব্যবস্থাপক (বিপণন) শেখ মেহদি হাসান বলেন, ‘১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে এই প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি। কারণ তিনি বাংলাদেশ স্বাধীনের পরপরই এ রকম একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। এটি তার দূরদর্শিতার পরিচায়ক।’

পর্যটন স্পটগুলো দূষিত হওয়া নিয়ে কর্পোরেশনের কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরিবেশদূষণ নিয়ে আমাদের বেশ কিছু উদ্যোগ আছে। কিন্তু সবার আগে যেটা প্রয়োজন সেটা হলো আমাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হওয়া। আমাদের শিক্ষা কাজে লাগানো। এটা একটা বড় বিষয়। নিজেরা নিজেরা যদি আমরা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার অভ্যাস না বদলাই, তাহলে এটা পরিবর্তন হতে আরও সময় লাগবে।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে ইকো ট্যুরিজম নীতি গ্রহণ করলেই কেবল প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশে নৈতিক এবং টেকসই পর্যটনশিল্প গড়ে উঠতে পারে। ইকো ট্যুরিজমের মূলনীতিতে প্রকৃতি ও মানবগোষ্ঠীকে যথাসম্ভব কম প্রভাবিত বা অনুরণিত করে পর্যটন নিশ্চিত করা হয়। তারা বলেন, জলাভূমির বাস্তুতন্ত্রকে মারাত্মক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে প্লাস্টিকসামগ্রী যত্রতত্র ফেলা থেকে আইন করেই হোক আর যেভাবেই হোক, পর্যটকদের নিরস্ত করতেই হবে।

পর্যটন দিবসে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে কী প্রত্যাশা করেন-এমন প্রশ্নের জবাবে পর্যটন ব্যবসায়ী ও বৈশাখী ট্যুর বিডির প্রধান নির্বাহী মো. শোয়েব সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশে পর্যটন বিরাট সম্ভাবনাময় এক খাত। প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে ভরপুর এই দেশ। সরকার এগিয়ে এলে, স্পটগুলোতে সঠিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে এ খাত থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশের পর্যটন স্পটগুলোতে সিন্ডিকেট সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। ইনভেস্ট করে আমরা অনিশ্চয়তায় থাকি। টাঙ্গুয়ার হাওড়ে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে নৌকা বানিয়েও আমরা সঠিকভাবে ব্যবসা করতে পারি না। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রমোদভ্রমণের নামে আমাদের নৌকা রিকুইজিশন করে নেওয়া হয়। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই।’

তরুণ পর্যটন ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করতে শোয়েব সুমন সরকারের কাছে সুদমুক্ত ঋণের দাবি করে বলেন, ‘সরকারের হস্তক্ষেপে দেশের স্পটগুলোতে পর্যটকসেবায় নির্ধারিত ভাড়া ও সমন্বয় থাকা উচিত।’

ঘুরতে গিয়ে কী কী সমস্যায় পড়েন এমন প্রশ্নের জবাবে রামপুরার বাসিন্দা ট্রাভেলার মাহবুব হোসাইন খান বলেন, ‘সব জায়গায় সিন্ডিকেট। বাসের টিকিট থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছার পর হোটেল, গাইড ও স্থানীয় যানবাহনসহ সব ক্ষেত্রে ট্যুরিস্ট দেখলেই ভাড়া দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে যায়।’ পর্যটন স্পটগুলোতে পরিবেশদূষণের পেছনে সাধারণ ট্যুরিস্টদের অসচেতনতা ও অবহেলাকে প্রধান কারণ বলে দায়ী করেন তিনি।

একই প্রশ্নের জবাবে আগারগাঁও তালতলার বাসিন্দা ট্রাভেলার হাসনাহেনা রহমান জানান, নারী হিসেবে তিনি পর্যটন স্পটগুলোতে প্রথমেই যে সমস্যাটিতে পড়েন, সেটি হচ্ছে টয়লেট সুবিধা। বেশিরভাগ জায়গায় এই সুবিধাটি অনুপস্থিত। স্থানীয় মানুষের অসহযোগিতা, খাবার পেতে সমস্যা ও সিন্ডিকেট সমস্যার কথাও তিনি জানান। হাসনাহেনা রহমান বলেন, ‘পর্যটন কর্পোরেশন বা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল পর্যটকদের জন্য একটি হেল্প লাইন চালু করতে পারে। পর্যটকরা যাতে কোথাও গিয়ে সমস্যায় পড়লে বা কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করলে এখান থেকে যেন সহযোগিতা পেতে পারে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলি কদরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় তিন হাজার পর্যটন স্পট আছে। সব স্পটকে তো ডেভেলপড করা সম্ভব হয় নাই। পর্যটন কর্পোরেশনের নিজস্ব ৫০টি ইউনিট আছে, এগুলোতে এই সুবিধাগুলো অবশ্যই আছে। আরও আমরা ১০টা প্রকল্প নিয়েছি, এগুলোও স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে তৈরি করা হয়েছে। সরকারি বা বেসরকারি সব স্পটে তো এই প্রকল্প নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

টাঙ্গুয়ার হাওড়সহ ওপেন স্পটগুলোতে পর্যটন কর্পোরেশন নির্মিত শৌচাগার আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়াম্যান বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওড়ে আছে কি না, আমি এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু (শৌচাগার) আমরা তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি।’ পর্যটকদের জন্য কোনো হেল্প লাইন বা সাপোর্ট সেন্টার আছে কি না জানতে চাইলে আলি কদর বলেন, ‘আমাদের ওয়েবসাইটে হেল্প সেন্টার আছে। তবে এটি দিয়ে সারা দেশে সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হয় না। আমাদের যে ইউনিটগুলো আছে, সেখানে সাপোর্ট দেওয়ার সক্ষমতা আছে।’ এ সময় চেয়ারম্যান বলেন, ‘সারা দেশে পর্যটকদের ব্যাপকভাবে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য হেল্প লাইন চালুর ইচ্ছা আছে।’

এবার ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসে পর্যটন ভবন আগারগাঁওয়ে থাকছে নানা আয়োজন। এদিন খাদ্যোৎসব ও লাইভ কুকিংয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নানা রকম খাবার ও পিঠা-পায়েস থাকবে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে স্বল্প মূল্যে খাবার পরিবেশন। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ভবনের সামনের রাস্তার আইল্যান্ডে বসবে এসব খাবার স্টল। থাকবে স্বল্পমূল্যে সিটি ট্যুরের ব্যবস্থা। রয়েছে ঢাকা-পদ্মা সেতু-ভাঙা-ঢাকা অর্ধ দিবস প্যাকেজ ট্যুর। দিবসটি উপলক্ষে পর্যটন ভবন থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালিও বের হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

রামপালে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা আটক-৬

সিন্ডিকেটসহ নানা বিড়ম্বনায় ধুঁকছে ট্যুরিজম খাত

প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রতি বছর পর্যটন দিবস আসে পর্যটন দিবস যায়। কিন্তু দেশের ট্যুরিজম খাতে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট আর পদে পদে পর্যটকদের নানা বিড়ম্বনার কোনো পরিবর্তন হয় না। আবিদ, হাবীব ও সাইফ। ঢাকা থেকে তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে যান চট্টগ্রাম মীরসরাইয়ের একটি ঝরনায়। ট্রেইলগুলো বন বিভাগ থেকে সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক ঝরনা হলেও ঢুকতে জনপ্রতি চাঁদা গুনতে হয়েছে তাদের। বিনিময়ে তারা কোনো সেবা পাননি বলে অভিযোগ। এমনকি ঝিরিপথে ঢুকে ঝরনায় যেতে তাদের যে তিন ঘণ্টা হাঁটতে হয়েছে, এ পুরো পথে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পরিবেশ ধ্বংসকারী অপচনশীল বর্জ্য। ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর এসব পলিথিন বা অপচনশীল বর্জ্য সম্পর্কে সচেতনতামূলক দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপও তারা দেখেননি। সবচেয়ে বিড়ম্বনায় ফেলেছে তাদের আশেপাশের কোথাও শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায়। বিশেষ করে, যখন কোনো নারী বন্ধু ঘুরতে যান, তখন আরও বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয় অনেককেই।

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ১৯৮০ সাল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন হয়ে আসছে। এ বছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের ‘হোস্ট কান্ট্রি’ ইন্দোনেশিয়া। দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছেÑআন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে সেতুবন্ধ গড়ে তোলা। এ ছাড়া পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।

এবার বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘রিথিঙ্কিং ট্যুরিজম’ বা নব ভাবনায় পর্যটন। দিবসকে ঘিরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বাপক)।

আলাপকালে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের উপব্যবস্থাপক (বিপণন) শেখ মেহদি হাসান বলেন, ‘১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে এই প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি। কারণ তিনি বাংলাদেশ স্বাধীনের পরপরই এ রকম একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। এটি তার দূরদর্শিতার পরিচায়ক।’

পর্যটন স্পটগুলো দূষিত হওয়া নিয়ে কর্পোরেশনের কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরিবেশদূষণ নিয়ে আমাদের বেশ কিছু উদ্যোগ আছে। কিন্তু সবার আগে যেটা প্রয়োজন সেটা হলো আমাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হওয়া। আমাদের শিক্ষা কাজে লাগানো। এটা একটা বড় বিষয়। নিজেরা নিজেরা যদি আমরা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার অভ্যাস না বদলাই, তাহলে এটা পরিবর্তন হতে আরও সময় লাগবে।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে ইকো ট্যুরিজম নীতি গ্রহণ করলেই কেবল প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশে নৈতিক এবং টেকসই পর্যটনশিল্প গড়ে উঠতে পারে। ইকো ট্যুরিজমের মূলনীতিতে প্রকৃতি ও মানবগোষ্ঠীকে যথাসম্ভব কম প্রভাবিত বা অনুরণিত করে পর্যটন নিশ্চিত করা হয়। তারা বলেন, জলাভূমির বাস্তুতন্ত্রকে মারাত্মক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে প্লাস্টিকসামগ্রী যত্রতত্র ফেলা থেকে আইন করেই হোক আর যেভাবেই হোক, পর্যটকদের নিরস্ত করতেই হবে।

পর্যটন দিবসে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে কী প্রত্যাশা করেন-এমন প্রশ্নের জবাবে পর্যটন ব্যবসায়ী ও বৈশাখী ট্যুর বিডির প্রধান নির্বাহী মো. শোয়েব সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশে পর্যটন বিরাট সম্ভাবনাময় এক খাত। প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে ভরপুর এই দেশ। সরকার এগিয়ে এলে, স্পটগুলোতে সঠিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে এ খাত থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশের পর্যটন স্পটগুলোতে সিন্ডিকেট সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। ইনভেস্ট করে আমরা অনিশ্চয়তায় থাকি। টাঙ্গুয়ার হাওড়ে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে নৌকা বানিয়েও আমরা সঠিকভাবে ব্যবসা করতে পারি না। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রমোদভ্রমণের নামে আমাদের নৌকা রিকুইজিশন করে নেওয়া হয়। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই।’

তরুণ পর্যটন ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করতে শোয়েব সুমন সরকারের কাছে সুদমুক্ত ঋণের দাবি করে বলেন, ‘সরকারের হস্তক্ষেপে দেশের স্পটগুলোতে পর্যটকসেবায় নির্ধারিত ভাড়া ও সমন্বয় থাকা উচিত।’

ঘুরতে গিয়ে কী কী সমস্যায় পড়েন এমন প্রশ্নের জবাবে রামপুরার বাসিন্দা ট্রাভেলার মাহবুব হোসাইন খান বলেন, ‘সব জায়গায় সিন্ডিকেট। বাসের টিকিট থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছার পর হোটেল, গাইড ও স্থানীয় যানবাহনসহ সব ক্ষেত্রে ট্যুরিস্ট দেখলেই ভাড়া দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে যায়।’ পর্যটন স্পটগুলোতে পরিবেশদূষণের পেছনে সাধারণ ট্যুরিস্টদের অসচেতনতা ও অবহেলাকে প্রধান কারণ বলে দায়ী করেন তিনি।

একই প্রশ্নের জবাবে আগারগাঁও তালতলার বাসিন্দা ট্রাভেলার হাসনাহেনা রহমান জানান, নারী হিসেবে তিনি পর্যটন স্পটগুলোতে প্রথমেই যে সমস্যাটিতে পড়েন, সেটি হচ্ছে টয়লেট সুবিধা। বেশিরভাগ জায়গায় এই সুবিধাটি অনুপস্থিত। স্থানীয় মানুষের অসহযোগিতা, খাবার পেতে সমস্যা ও সিন্ডিকেট সমস্যার কথাও তিনি জানান। হাসনাহেনা রহমান বলেন, ‘পর্যটন কর্পোরেশন বা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল পর্যটকদের জন্য একটি হেল্প লাইন চালু করতে পারে। পর্যটকরা যাতে কোথাও গিয়ে সমস্যায় পড়লে বা কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করলে এখান থেকে যেন সহযোগিতা পেতে পারে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলি কদরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় তিন হাজার পর্যটন স্পট আছে। সব স্পটকে তো ডেভেলপড করা সম্ভব হয় নাই। পর্যটন কর্পোরেশনের নিজস্ব ৫০টি ইউনিট আছে, এগুলোতে এই সুবিধাগুলো অবশ্যই আছে। আরও আমরা ১০টা প্রকল্প নিয়েছি, এগুলোও স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে তৈরি করা হয়েছে। সরকারি বা বেসরকারি সব স্পটে তো এই প্রকল্প নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

টাঙ্গুয়ার হাওড়সহ ওপেন স্পটগুলোতে পর্যটন কর্পোরেশন নির্মিত শৌচাগার আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়াম্যান বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওড়ে আছে কি না, আমি এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু (শৌচাগার) আমরা তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি।’ পর্যটকদের জন্য কোনো হেল্প লাইন বা সাপোর্ট সেন্টার আছে কি না জানতে চাইলে আলি কদর বলেন, ‘আমাদের ওয়েবসাইটে হেল্প সেন্টার আছে। তবে এটি দিয়ে সারা দেশে সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হয় না। আমাদের যে ইউনিটগুলো আছে, সেখানে সাপোর্ট দেওয়ার সক্ষমতা আছে।’ এ সময় চেয়ারম্যান বলেন, ‘সারা দেশে পর্যটকদের ব্যাপকভাবে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য হেল্প লাইন চালুর ইচ্ছা আছে।’

এবার ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসে পর্যটন ভবন আগারগাঁওয়ে থাকছে নানা আয়োজন। এদিন খাদ্যোৎসব ও লাইভ কুকিংয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নানা রকম খাবার ও পিঠা-পায়েস থাকবে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে স্বল্প মূল্যে খাবার পরিবেশন। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ভবনের সামনের রাস্তার আইল্যান্ডে বসবে এসব খাবার স্টল। থাকবে স্বল্পমূল্যে সিটি ট্যুরের ব্যবস্থা। রয়েছে ঢাকা-পদ্মা সেতু-ভাঙা-ঢাকা অর্ধ দিবস প্যাকেজ ট্যুর। দিবসটি উপলক্ষে পর্যটন ভবন থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালিও বের হবে।