ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ধেয়ে আসা গ্রহাণুকে ধাকা দিল ‘ডার্ট’ মিশন, পৃথিবী কী রক্ষা পাবে?

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে এক বিশালাকার গ্রহাণু। পৃথিবীকে এই ধরনের গ্রহাণু থেকে বাঁচাতে নাসা হাতে নেয় ডার্ট মিশন। এর আওতায় ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর একটি মহাকাশযান পাঠানো হয় মহাকাশে।

এ কোন সিনেমার গল্প নয়, বরং সিনেমার গল্পকেও হার মানানো সত্য। পৃথিবীর বিশালাকার গ্রহাণুর অভিমুখ ঘুরিয়ে দিতে পাঠানো হয়েছে মহাকাশযান। সেই গতিময় যানের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে অন্য কক্ষপথে ঢুকে পড়বে বিপজ্জনক গ্রহাণুটি। রক্ষা পাবে মানবকূল।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ‘ডার্ট’ মিশন। পুরো নাম, ‘ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট’। এমন এক অভিনব অভিযান সম্পন্ন করেছে। যার সাক্ষী হল পুরো বিশ্ব।

যদিও এই গ্রহাণুটি দ্বারা পৃথিবীর কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। তবে বড় ধরনের কোনো গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এলে বর্তমান প্রাণিজগতকে ধ্বংসের কবল থেকে বাঁচাতে এটি নাসার একটি বড় সফলতা।

ইস্টার্ন টাইমস সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় নাসার মহাকাশযান গ্রহাণুকে সফলভাবে ধাক্কা দেয়। সে সময় গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে ১ কোটি ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড সিটির লরেলে জনস হপকিন্স অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স ল্যাবরেটরি (এপিএল) থেকে এই মিশন নিয়ন্ত্রণ করা হয।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে ছুটে আসছে ডিডাইমস নামে একটি গ্রহাণু। তার ব্যাস আড়াই হাজার ফুট। এর গায়ে রয়েছে ‘বুল আই’ নামে একটি পাথরও। তার নাম ডাইমরফস। সবমিলিয়ে গ্রহাণুর আয়তন একটি ফুটবল মাঠের সমান।

অবশেষে পরিকল্পনা মাফিক স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় নাসার মহাকাশযানটি ধাক্কা দেয় সেই ডাইমরফসকে। ঘণ্টায় সাড়ে ২২ হাজার কিমি গতিতে থাকা যানটির ধাক্কায় গ্রহাণুর অভিমুখ বদলে যাবে বলেই আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। এই অভিযানে পুরোপুরি সফল হলে ইতিহাস গড়বে নাসা। গ্রহাণুটি অবস্থান করবে অন্য কক্ষপথে। তবে গ্রহাণুটির কক্ষপথ পরিবর্তন হয়েছে কিনা তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো দুই মাস।

সূত্র: নাসা, স্পেস,দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস

Tag :
জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক চাপে রাশিয়ার পরমাণু হুমকি হ্রাস পেয়েছে: জার্মানি

ধেয়ে আসা গ্রহাণুকে ধাকা দিল ‘ডার্ট’ মিশন, পৃথিবী কী রক্ষা পাবে?

প্রকাশের সময় : ০৭:২৩:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে এক বিশালাকার গ্রহাণু। পৃথিবীকে এই ধরনের গ্রহাণু থেকে বাঁচাতে নাসা হাতে নেয় ডার্ট মিশন। এর আওতায় ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর একটি মহাকাশযান পাঠানো হয় মহাকাশে।

এ কোন সিনেমার গল্প নয়, বরং সিনেমার গল্পকেও হার মানানো সত্য। পৃথিবীর বিশালাকার গ্রহাণুর অভিমুখ ঘুরিয়ে দিতে পাঠানো হয়েছে মহাকাশযান। সেই গতিময় যানের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে অন্য কক্ষপথে ঢুকে পড়বে বিপজ্জনক গ্রহাণুটি। রক্ষা পাবে মানবকূল।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ‘ডার্ট’ মিশন। পুরো নাম, ‘ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট’। এমন এক অভিনব অভিযান সম্পন্ন করেছে। যার সাক্ষী হল পুরো বিশ্ব।

যদিও এই গ্রহাণুটি দ্বারা পৃথিবীর কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। তবে বড় ধরনের কোনো গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এলে বর্তমান প্রাণিজগতকে ধ্বংসের কবল থেকে বাঁচাতে এটি নাসার একটি বড় সফলতা।

ইস্টার্ন টাইমস সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় নাসার মহাকাশযান গ্রহাণুকে সফলভাবে ধাক্কা দেয়। সে সময় গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে ১ কোটি ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড সিটির লরেলে জনস হপকিন্স অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স ল্যাবরেটরি (এপিএল) থেকে এই মিশন নিয়ন্ত্রণ করা হয।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে ছুটে আসছে ডিডাইমস নামে একটি গ্রহাণু। তার ব্যাস আড়াই হাজার ফুট। এর গায়ে রয়েছে ‘বুল আই’ নামে একটি পাথরও। তার নাম ডাইমরফস। সবমিলিয়ে গ্রহাণুর আয়তন একটি ফুটবল মাঠের সমান।

অবশেষে পরিকল্পনা মাফিক স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় নাসার মহাকাশযানটি ধাক্কা দেয় সেই ডাইমরফসকে। ঘণ্টায় সাড়ে ২২ হাজার কিমি গতিতে থাকা যানটির ধাক্কায় গ্রহাণুর অভিমুখ বদলে যাবে বলেই আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। এই অভিযানে পুরোপুরি সফল হলে ইতিহাস গড়বে নাসা। গ্রহাণুটি অবস্থান করবে অন্য কক্ষপথে। তবে গ্রহাণুটির কক্ষপথ পরিবর্তন হয়েছে কিনা তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো দুই মাস।

সূত্র: নাসা, স্পেস,দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস