ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ইতালি

কাতার বিশ্বকাপে দর্শকের ভূমিকায় থাকতে যাওয়া ইতালি উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে উঠে গেছে। হাঙ্গেরিকে হারিয়ে সেমির টিকিট কেটেছে আজ্জুরিরা। জয়ের বিকল্প ছিলো না এমন সমীকরণ নিয়ে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ২-০ গোলে জিতে লক্ষ্য পূরণ করলো রবের্তো মানচিনির দল।

৬ ম্যাচে তিন জয় ও দুই ড্রয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের সেরা হলো ইতালি। সমান ম্যাচে তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে হাঙ্গেরি। গ্রুপের আরেক ম্যাচে ইংল্যান্ড ও জার্মানির লড়াই ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছে। ৭ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে জার্মানরা। আগেই দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়া ইংলিশদের পয়েন্ট স্রেফ ৩।

গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ রাউন্ডে খেলতে নামা হাঙ্গেরি পঞ্চম মিনিটেই গোল খেতে বসেছিলো। ডান দিক থেকে ইতালির ব্রায়ান ক্রিস্তানতের শটে জোর ছিলো না তেমন। বল স্বাগতিক গোলরক্ষক পেতার গুলাসির হাত ফসকে জালে জড়াতে যাচ্ছিলো। তবে গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার আতিলা সালাই।

২৭তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি তাদের। ইতালিকে একরকম গোল উপহার দেয় তারা। এক ডিফেন্ডার ব্যাকপাস দেন গোলরক্ষকের উদ্দেশ্যে। এগিয়ে এসে গুলাসি বল ক্লিয়ার করতে পারেননি ইতালির উইলফ্রেদের চাপে পড়ে। কাছেই বল পেয়ে ফাঁকা জালে পাঠান জিয়াকোমো রাসপাদোরি।

পাঁচ মিনিট পর প্রায় দ্বিগুণ হতে যাচ্ছিলো ইতালির ব্যবধান। রাসপাদোরির পাসে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জিওভান্নি দি লরেন্সোর নিচু শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। বিরতির আগে ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি হাঙ্গেরির উইলি ওরবান। দমিনিক সোবোসলাইয়ের ফ্রি-কিক ডি-বক্সে পেয়ে আদাম সালাই পাস দেন দূরের পোস্টে, কিন্তু কাছ থেকে ফাঁকা জালে শট নিতে পারেননি ওরবান।

দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে আবার সুযোগ হারায় তারা। ডাবল সেভ করে জাল অক্ষত রাখেন ইতালির গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। পরক্ষণেই উল্টো ব্যবধান বাড়ায় ইতালি। নিকোলো বারেল্লা ডি-বক্সে খুঁজে নেন ক্রিস্তানতেকে। ডান দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে এই মিডফিল্ডারের পাস দূরের পোস্টে পেয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান ফেদেরিকো দিমারকো।

৫৫তম মিনিটে আরেকটি দারুণ সেভ করেন দোন্নারুম্মা। কাছ থেকে কালাম স্তাইলিসের হেড পা দিয়ে ফেরান পিএসজির গোলরক্ষক। শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। তবে লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট হয় ওই দুই গোলই।

এই টুর্নামেন্ট থেকে হাঙ্গেরির অর্জন অবশ্য কম নয়। গত জুনে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরুর পর তারা হেরে যায় ইতালির মাঠে গিয়ে। পরের ম্যাচেই ১-১ গোলে রুখে দেয় জার্মানদের। এরপর ইংল্যান্ডের মাঠে তারা তুলে নেয় ৪-০ গোলের বিস্ময়কর এক জয়।

পরের ম্যাচে গত শুক্রবার জার্মানিকে তাদের মাঠেই ১-০ গোলে হারিয়ে তিন সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নে গড়া ‘গ্রুপ অব ডেথ’ থেকে শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে যাওয়ার সম্ভাবনা জাগায় হাঙ্গেরি। কিন্তু ইতালির বিপক্ষে পেরে উঠলো না তারা।

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ইতালি

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

কাতার বিশ্বকাপে দর্শকের ভূমিকায় থাকতে যাওয়া ইতালি উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে উঠে গেছে। হাঙ্গেরিকে হারিয়ে সেমির টিকিট কেটেছে আজ্জুরিরা। জয়ের বিকল্প ছিলো না এমন সমীকরণ নিয়ে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ২-০ গোলে জিতে লক্ষ্য পূরণ করলো রবের্তো মানচিনির দল।

৬ ম্যাচে তিন জয় ও দুই ড্রয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের সেরা হলো ইতালি। সমান ম্যাচে তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে হাঙ্গেরি। গ্রুপের আরেক ম্যাচে ইংল্যান্ড ও জার্মানির লড়াই ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছে। ৭ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে জার্মানরা। আগেই দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়া ইংলিশদের পয়েন্ট স্রেফ ৩।

গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ রাউন্ডে খেলতে নামা হাঙ্গেরি পঞ্চম মিনিটেই গোল খেতে বসেছিলো। ডান দিক থেকে ইতালির ব্রায়ান ক্রিস্তানতের শটে জোর ছিলো না তেমন। বল স্বাগতিক গোলরক্ষক পেতার গুলাসির হাত ফসকে জালে জড়াতে যাচ্ছিলো। তবে গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার আতিলা সালাই।

২৭তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি তাদের। ইতালিকে একরকম গোল উপহার দেয় তারা। এক ডিফেন্ডার ব্যাকপাস দেন গোলরক্ষকের উদ্দেশ্যে। এগিয়ে এসে গুলাসি বল ক্লিয়ার করতে পারেননি ইতালির উইলফ্রেদের চাপে পড়ে। কাছেই বল পেয়ে ফাঁকা জালে পাঠান জিয়াকোমো রাসপাদোরি।

পাঁচ মিনিট পর প্রায় দ্বিগুণ হতে যাচ্ছিলো ইতালির ব্যবধান। রাসপাদোরির পাসে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জিওভান্নি দি লরেন্সোর নিচু শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। বিরতির আগে ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি হাঙ্গেরির উইলি ওরবান। দমিনিক সোবোসলাইয়ের ফ্রি-কিক ডি-বক্সে পেয়ে আদাম সালাই পাস দেন দূরের পোস্টে, কিন্তু কাছ থেকে ফাঁকা জালে শট নিতে পারেননি ওরবান।

দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে আবার সুযোগ হারায় তারা। ডাবল সেভ করে জাল অক্ষত রাখেন ইতালির গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। পরক্ষণেই উল্টো ব্যবধান বাড়ায় ইতালি। নিকোলো বারেল্লা ডি-বক্সে খুঁজে নেন ক্রিস্তানতেকে। ডান দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে এই মিডফিল্ডারের পাস দূরের পোস্টে পেয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান ফেদেরিকো দিমারকো।

৫৫তম মিনিটে আরেকটি দারুণ সেভ করেন দোন্নারুম্মা। কাছ থেকে কালাম স্তাইলিসের হেড পা দিয়ে ফেরান পিএসজির গোলরক্ষক। শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। তবে লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট হয় ওই দুই গোলই।

এই টুর্নামেন্ট থেকে হাঙ্গেরির অর্জন অবশ্য কম নয়। গত জুনে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরুর পর তারা হেরে যায় ইতালির মাঠে গিয়ে। পরের ম্যাচেই ১-১ গোলে রুখে দেয় জার্মানদের। এরপর ইংল্যান্ডের মাঠে তারা তুলে নেয় ৪-০ গোলের বিস্ময়কর এক জয়।

পরের ম্যাচে গত শুক্রবার জার্মানিকে তাদের মাঠেই ১-০ গোলে হারিয়ে তিন সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নে গড়া ‘গ্রুপ অব ডেথ’ থেকে শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে যাওয়ার সম্ভাবনা জাগায় হাঙ্গেরি। কিন্তু ইতালির বিপক্ষে পেরে উঠলো না তারা।