ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। আর এ দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা। পূজা শুরুর নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মা দূর্গাকে পরিপূর্ণরুপে তুলতে হবে মন্ডপে। এজন্য কারিগরেরা রাতদিন ব্যস্ত প্রতিমা তৈরির কাজে। ইতিমধ্যেই প্রতিমা তৈরির মাটির কাঠামোর কাজ শেষ করে শুরু হয়েছে রং তুলির আঁচড়।

 

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের লক্ষী নারায়ন গ্রামের শিলপাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে দেবী দূর্গা ও তার বাহন সিংহের প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে মহিষাসুরের প্রতিমা। এছাড়াও দেবী লক্ষী, সরস্বতি, দেব কার্তিক, গণেশ ও তাদের বাহন ইদুর, হাঁস আর ময়ূর। সবার উপরে রেখেছে মহাদেবের প্রতিমা।

 

মৃৎকারিগর তরুণ চন্দ্র দাস জানান, গতকয়েক মাস ধরে তারা দেবী দূর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। শুধু জীবিকার জন্য নয় দেবী দুর্গার প্রতিমার মূর্তি তৈরিতে রয়েছে তাদের শিল্প, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুভুতি, ভক্তি আর ভালোবাসা।

 

তরুণ আরো জানান, দূর্গোউৎসব উপলক্ষে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২টি প্রতিমা তৈরি করেন তিনি কিন্তু এবার উপজেলার মোট ৮টি পূজামন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন বলে জানান।

 

আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। তাই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শুরু হয়ে গেছে দেবী দূর্গা আগমনের প্রহর গোনা। চলছে মন্ডপ তৈরির সাজসজ্জার কাজ।

 

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার গুপ্তর কাছ থেকে জানা যায়, এবারহিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। গত বছর ৪৯টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও ৪৯টি পুজা মন্ডবে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের উৎসবের আমেজ একটু বেশি থাকবে এমনটাই মনে করেন তিনি।

 

উপজেলার পৌর এলাকায় ৯টি, সদর ইউনিয়নে ৫টি, বালুয়া ইউনিয়নে ২টি, দিগদাইড় ইউনিয়নে ১২টি, জোড়গাছা ইউনিয়নে ৮টি, মধুপুর ইউনিয়নে ৭টি, তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নে ৩টি ও পাকুল্লা ইউনিয়নে ৩টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী অসীম কুমার জৈন নতুন।

 

পূজা উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবার ব‍্যাপক তৎপর রয়েছে বলে জানান সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈকত হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি পূজা মন্ডপ সিসি ক‍্যামেরার আওতায় আনার চিন্তা করছি। পূজা মন্ডপের সিকিউরিটি নিশ্চিত করার জন্য আমরা পূজা উদযাপন কমিটির লোকদের বলতেছি। বিশেষ করে মন্ডপে কেচিগেট দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছি। এবার পূজা মন্ডপে পুলিশদের সাথে আনসারের লোকজনেরাও থাকবে এইটা আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকটা ইউনিয়নের পূজা মণ্ডপকে নিরাপত্তা্র মধ্যে আনার চেষ্টা করছি’।

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়ে ব্যস্ত কারিগররা

প্রকাশের সময় : ০২:২৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। আর এ দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা। পূজা শুরুর নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মা দূর্গাকে পরিপূর্ণরুপে তুলতে হবে মন্ডপে। এজন্য কারিগরেরা রাতদিন ব্যস্ত প্রতিমা তৈরির কাজে। ইতিমধ্যেই প্রতিমা তৈরির মাটির কাঠামোর কাজ শেষ করে শুরু হয়েছে রং তুলির আঁচড়।

 

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের লক্ষী নারায়ন গ্রামের শিলপাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে দেবী দূর্গা ও তার বাহন সিংহের প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে মহিষাসুরের প্রতিমা। এছাড়াও দেবী লক্ষী, সরস্বতি, দেব কার্তিক, গণেশ ও তাদের বাহন ইদুর, হাঁস আর ময়ূর। সবার উপরে রেখেছে মহাদেবের প্রতিমা।

 

মৃৎকারিগর তরুণ চন্দ্র দাস জানান, গতকয়েক মাস ধরে তারা দেবী দূর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। শুধু জীবিকার জন্য নয় দেবী দুর্গার প্রতিমার মূর্তি তৈরিতে রয়েছে তাদের শিল্প, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুভুতি, ভক্তি আর ভালোবাসা।

 

তরুণ আরো জানান, দূর্গোউৎসব উপলক্ষে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২টি প্রতিমা তৈরি করেন তিনি কিন্তু এবার উপজেলার মোট ৮টি পূজামন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন বলে জানান।

 

আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। তাই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শুরু হয়ে গেছে দেবী দূর্গা আগমনের প্রহর গোনা। চলছে মন্ডপ তৈরির সাজসজ্জার কাজ।

 

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার গুপ্তর কাছ থেকে জানা যায়, এবারহিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। গত বছর ৪৯টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও ৪৯টি পুজা মন্ডবে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের উৎসবের আমেজ একটু বেশি থাকবে এমনটাই মনে করেন তিনি।

 

উপজেলার পৌর এলাকায় ৯টি, সদর ইউনিয়নে ৫টি, বালুয়া ইউনিয়নে ২টি, দিগদাইড় ইউনিয়নে ১২টি, জোড়গাছা ইউনিয়নে ৮টি, মধুপুর ইউনিয়নে ৭টি, তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নে ৩টি ও পাকুল্লা ইউনিয়নে ৩টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী অসীম কুমার জৈন নতুন।

 

পূজা উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবার ব‍্যাপক তৎপর রয়েছে বলে জানান সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈকত হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি পূজা মন্ডপ সিসি ক‍্যামেরার আওতায় আনার চিন্তা করছি। পূজা মন্ডপের সিকিউরিটি নিশ্চিত করার জন্য আমরা পূজা উদযাপন কমিটির লোকদের বলতেছি। বিশেষ করে মন্ডপে কেচিগেট দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছি। এবার পূজা মন্ডপে পুলিশদের সাথে আনসারের লোকজনেরাও থাকবে এইটা আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকটা ইউনিয়নের পূজা মণ্ডপকে নিরাপত্তা্র মধ্যে আনার চেষ্টা করছি’।