ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বেকায়দায় রাহুল গান্ধী

ভারতে কংগ্রেস সভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য গত শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে মনোনয়নপত্র জমাদান প্রক্রিয়া। এটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপর ১৯ অক্টোবর ভোটাভুটির পর ফল প্রকাশিত হবে বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

জার্মান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমে ডয়চে ভেলে বলছে, অশোক গেহলটকে কংগ্রেস সভাপতি করতে গিয়ে রাজস্থানে সরকারের সংকট ডেকে এনেছে গান্ধী পরিবার। শীর্ষ নেতৃত্বকে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন অশোক গেহলট যে তিনি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চান না। দলের সভাপতি হতে তিনি রাজি, তবে তাকে দুইটি পদে থাকতে দিতে হবে। রাহুল গান্ধী সেই দাবি খারিজ করে দেন। এরপর রাজস্থানের ৯০ জন কংগ্রেস বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করে জানিয়ে দিয়েছেন, অশোক গেহলটকেই তারা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চান। গেহলট মুখ্যমন্ত্রী না থাকলে তারা সরকারকে সমর্থন করবেন না।

আর অশোক গেহলটও জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতি তার হাতের বাইরে চলে গেছে। তার আর এখন কিছু করার নেই। বিধায়কেরা খুবই রেগে গেছেন। তারা কিছুতেই শচিন পাইটকে মুখ্যমন্ত্রী হতে দিতে রাজি নন।

এই অবস্থায় কংগ্রেসের দুই পর্যবেক্ষক রাজ্যসভার বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাজস্থানের দায়িত্বে থাকা অজয় মাকেন জয়পুর গেছেন। তারা বিধায়কদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলতে চান। কিন্তু গেহলটপন্থী বিধায়কদের তরফে প্রতাপ সিং খাচারিয়াস জানিয়েছেন, নবরাত্রি শুরু হয়েছে। সব বিধায়ক নিজেদের বাড়িতে বা নির্বাচনকেন্দ্রে চলে গেছেন। এখন তাদের পক্ষে দেখা করা সম্ভব নয়। এইভাবেই সময় নিচ্ছেন বিধায়করা।

২০০ সদস্যের রাজস্থান বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়কসংখ্যা ১০৮। এছাড়া ১৩জন নির্দল বিধায়ক সরকারকে সমর্থন করছেন। এখন এই ১০৮-এর মধ্যে ৯০ জন গেহলটের পক্ষে। ফলে শচিন পাইলট বিধায়কদের সমর্থন পাওয়ার প্রশ্নে অনেকটাই পিছিয়ে।

ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, কংগ্রেস এখন একার ক্ষমতায় রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে ক্ষমতায় আছে। তার মধ্যে আবার রাহুল গান্ধী ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের বিপদ ডেকে এনেছেন।

এছাড়া দেশটির আরেক সাংবাদিক জয়ন্ত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, একের পর এক রাজ্য কীভাবে হারাতে হয় তা শিখতে গেলে কংগ্রেসের কাছে যেতে হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

সামনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই”যেকোনো মূল্যে সমাবেশ সফল করতে হবে: ফখরুল।

বেকায়দায় রাহুল গান্ধী

প্রকাশের সময় : ০১:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

ভারতে কংগ্রেস সভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য গত শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে মনোনয়নপত্র জমাদান প্রক্রিয়া। এটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপর ১৯ অক্টোবর ভোটাভুটির পর ফল প্রকাশিত হবে বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

জার্মান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমে ডয়চে ভেলে বলছে, অশোক গেহলটকে কংগ্রেস সভাপতি করতে গিয়ে রাজস্থানে সরকারের সংকট ডেকে এনেছে গান্ধী পরিবার। শীর্ষ নেতৃত্বকে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন অশোক গেহলট যে তিনি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চান না। দলের সভাপতি হতে তিনি রাজি, তবে তাকে দুইটি পদে থাকতে দিতে হবে। রাহুল গান্ধী সেই দাবি খারিজ করে দেন। এরপর রাজস্থানের ৯০ জন কংগ্রেস বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করে জানিয়ে দিয়েছেন, অশোক গেহলটকেই তারা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চান। গেহলট মুখ্যমন্ত্রী না থাকলে তারা সরকারকে সমর্থন করবেন না।

আর অশোক গেহলটও জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতি তার হাতের বাইরে চলে গেছে। তার আর এখন কিছু করার নেই। বিধায়কেরা খুবই রেগে গেছেন। তারা কিছুতেই শচিন পাইটকে মুখ্যমন্ত্রী হতে দিতে রাজি নন।

এই অবস্থায় কংগ্রেসের দুই পর্যবেক্ষক রাজ্যসভার বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাজস্থানের দায়িত্বে থাকা অজয় মাকেন জয়পুর গেছেন। তারা বিধায়কদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলতে চান। কিন্তু গেহলটপন্থী বিধায়কদের তরফে প্রতাপ সিং খাচারিয়াস জানিয়েছেন, নবরাত্রি শুরু হয়েছে। সব বিধায়ক নিজেদের বাড়িতে বা নির্বাচনকেন্দ্রে চলে গেছেন। এখন তাদের পক্ষে দেখা করা সম্ভব নয়। এইভাবেই সময় নিচ্ছেন বিধায়করা।

২০০ সদস্যের রাজস্থান বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়কসংখ্যা ১০৮। এছাড়া ১৩জন নির্দল বিধায়ক সরকারকে সমর্থন করছেন। এখন এই ১০৮-এর মধ্যে ৯০ জন গেহলটের পক্ষে। ফলে শচিন পাইলট বিধায়কদের সমর্থন পাওয়ার প্রশ্নে অনেকটাই পিছিয়ে।

ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, কংগ্রেস এখন একার ক্ষমতায় রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে ক্ষমতায় আছে। তার মধ্যে আবার রাহুল গান্ধী ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের বিপদ ডেকে এনেছেন।

এছাড়া দেশটির আরেক সাংবাদিক জয়ন্ত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, একের পর এক রাজ্য কীভাবে হারাতে হয় তা শিখতে গেলে কংগ্রেসের কাছে যেতে হবে।