ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ৩০ ফিলিস্তিনি নেতার ধর্মঘট

ইসরাইলের কারাগারে বন্দী ৩০ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘট শুরু করেছে। প্রশাসনিক আদেশে অর্থাৎ কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাদের আটক করে রাখার প্রতিবাদে এই ধর্মঘট করেন তারা।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অর্ধশতক ধরে তাদের বিরুদ্ধে এসব অজ্ঞাত আইনিধারা ব্যবহার করে আসছে। এতে বলা হচ্ছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লোকজনকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক করে তাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দী করে রাখা হচ্ছে।

ইসরাইলি নীতিতে ফিলিস্তিনিদের ক্রমাগতভাবে তিন থেকে ছয় মাসের ব্যবধানে আটকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের বন্দী রাখা হয়েছে। এমনকি বন্দীদের সাথে আইনজীবীর দেখা করারও সুযোগ দেয়া হয় না।

ইসরাইলের দাবি, নিরাপত্তা ইস্যু এবং ‘ভয়ঙ্কর অপরাধীদের’ ক্ষেত্রে কোনো গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ ছাড়াই সরকার এই নীতি আরোপ করে।

অ্যামনিস্ট্রি ইন্টান্যাশনাল ইসরাইলের এ প্রশাসনিক আদেশের বন্দী নীতিকে ‘নির্দয় ও অবিবেচক নীতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। যার মাধ্যমে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের সাথে একপেশে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।’

৩০ জনকে গ্রেফতারের বিষয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে ফিলিস্তিনি বন্দীদের সংগঠন সামিডন। এতে বলা হয়েছে, তাদের সম্মিলিত বন্দীর মেয়াদ দুই শ’ বছর।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “এক শ’ বছর ধরে ইসরাইলের জবর-দখল নীতির কারণে আমরা পরিবারকে আলিঙ্গন করতে পারিনি এবং তারা কিভাবে বেড়ে উঠছে তা দেখতে পারিনি। এমনকি আমরা তাদের জন্মদিন উদযাপন বা তাদের স্কুলের প্রথম দিনে তাদের সাথী হতে পারিনি।”

ফিলিস্তিনি বন্দী অধিকার গ্রুপ আদ-দামেরের দাবি, প্রশাসনিকভাবে বর্তমানে ৭৪৩ জন ফিলিস্তিনি জেলে বন্দী রয়েছেন। এর মধ্যে আনুমানিক চার হাজার ৬৫০ জন ফিলিস্তিনি ইসরাইলি কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

সর্বশেষ এই ধরনের ধর্মঘটে বসেছিলেন খলিল আওদেহ নামের এক ব্যক্তি। তিনি ১৭২ দিন অনশন করেন। এবং অনশন ভাঙেন ইসরাইলের সাথে চুক্তি করার পর। যেখানে প্রশাসনিক আদেশে তার বন্দীত্বের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাবে আগামী ৩ অক্টোবর তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।

সূত্র : আল জাজিরা

Tag :
জনপ্রিয়

রামপালে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা আটক-৬

ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ৩০ ফিলিস্তিনি নেতার ধর্মঘট

প্রকাশের সময় : ১০:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

ইসরাইলের কারাগারে বন্দী ৩০ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘট শুরু করেছে। প্রশাসনিক আদেশে অর্থাৎ কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাদের আটক করে রাখার প্রতিবাদে এই ধর্মঘট করেন তারা।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অর্ধশতক ধরে তাদের বিরুদ্ধে এসব অজ্ঞাত আইনিধারা ব্যবহার করে আসছে। এতে বলা হচ্ছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লোকজনকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক করে তাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দী করে রাখা হচ্ছে।

ইসরাইলি নীতিতে ফিলিস্তিনিদের ক্রমাগতভাবে তিন থেকে ছয় মাসের ব্যবধানে আটকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের বন্দী রাখা হয়েছে। এমনকি বন্দীদের সাথে আইনজীবীর দেখা করারও সুযোগ দেয়া হয় না।

ইসরাইলের দাবি, নিরাপত্তা ইস্যু এবং ‘ভয়ঙ্কর অপরাধীদের’ ক্ষেত্রে কোনো গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ ছাড়াই সরকার এই নীতি আরোপ করে।

অ্যামনিস্ট্রি ইন্টান্যাশনাল ইসরাইলের এ প্রশাসনিক আদেশের বন্দী নীতিকে ‘নির্দয় ও অবিবেচক নীতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। যার মাধ্যমে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের সাথে একপেশে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।’

৩০ জনকে গ্রেফতারের বিষয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে ফিলিস্তিনি বন্দীদের সংগঠন সামিডন। এতে বলা হয়েছে, তাদের সম্মিলিত বন্দীর মেয়াদ দুই শ’ বছর।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “এক শ’ বছর ধরে ইসরাইলের জবর-দখল নীতির কারণে আমরা পরিবারকে আলিঙ্গন করতে পারিনি এবং তারা কিভাবে বেড়ে উঠছে তা দেখতে পারিনি। এমনকি আমরা তাদের জন্মদিন উদযাপন বা তাদের স্কুলের প্রথম দিনে তাদের সাথী হতে পারিনি।”

ফিলিস্তিনি বন্দী অধিকার গ্রুপ আদ-দামেরের দাবি, প্রশাসনিকভাবে বর্তমানে ৭৪৩ জন ফিলিস্তিনি জেলে বন্দী রয়েছেন। এর মধ্যে আনুমানিক চার হাজার ৬৫০ জন ফিলিস্তিনি ইসরাইলি কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

সর্বশেষ এই ধরনের ধর্মঘটে বসেছিলেন খলিল আওদেহ নামের এক ব্যক্তি। তিনি ১৭২ দিন অনশন করেন। এবং অনশন ভাঙেন ইসরাইলের সাথে চুক্তি করার পর। যেখানে প্রশাসনিক আদেশে তার বন্দীত্বের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাবে আগামী ৩ অক্টোবর তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।

সূত্র : আল জাজিরা