ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদল আসার খবরে ঢাবির মোড়ে মোড়ে ছাত্রলীগ

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটির নেতারা ক্যাম্পাসে আসার খবরে সোমবার সকাল থেকে ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখগুলোয় অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগ। যদিও ছাত্রদল আজ ক্যাম্পাসে আসছে না। আজকের পরিবর্তে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে কাল মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ঢোকার কথা জানিয়েছে।

গত মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এর পর থেকে ছাত্রদল ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ১১ সেপ্টেম্বর খোরশেদ আলমকে সভাপতি ও আরিফুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) নেতাদের সঙ্গে নতুন কমিটির সৌজন্য সাক্ষাতের অংশ হিসেবে আজ সকালে ক্যাম্পাসে আসার কথা ছিল ছাত্রদলের। খবর পেয়ে আজ সকাল থেকেই টিএসসি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত মোড়, পলাশী মোড়সহ ক্যাম্পাসের প্রায় সব প্রবেশমুখ ও মোড়ে অবস্থান নেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার নেতা-কর্মীরা। তাঁরা মিছিল করেন এবং মহড়া দেন। এ সময় তাঁরা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তবে ছাত্রদল আসবে না—এ খবর জানতে পেরে পরে তাঁরা চলে যান।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে তাঁদের লাশের ওপর ভর করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায় বিএনপি-জামায়াত। সেই রাজনৈতিক সচেতনতার জায়গা থেকে আমরা ছাত্রসমাজ সচেতন রয়েছি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে যেন শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত না হয়, সে ব্যাপারেও আমাদের রাজনৈতিক সচেতনতার তাগিদ রয়েছে। এর বাইরেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সব সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও মিছিল-সভা করেন। এটি তারই একটি সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ।’

এদিকে ছাত্রলীগের শোডাউনকে ছাত্রদল ভয় পায় না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আজ ক্যাম্পাসে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে আমাদের (ছাত্রদলের নতুন কমিটি) সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা ছিল। সাক্ষাতের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়লে শেষ মুহূর্তে আমাদের ক্যাম্পাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে অনুমতি নিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসে যেতে বলেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কাল ভিসি স্যারের সঙ্গে আমাদের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে তাঁর অনুমতি নিয়েই আমরা আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করব, ইনশা আল্লাহ। ছাত্রলীগের নেতারা যেমন ক্যাম্পাসের ছাত্র, আমরাও ক্যাম্পাসের ছাত্র। আমরা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন নই।’

Tag :
জনপ্রিয়

সাটুরিয়ায় নিয়োগ বাতিলের দাবীতে মানববন্ধন

ছাত্রদল আসার খবরে ঢাবির মোড়ে মোড়ে ছাত্রলীগ

প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটির নেতারা ক্যাম্পাসে আসার খবরে সোমবার সকাল থেকে ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখগুলোয় অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগ। যদিও ছাত্রদল আজ ক্যাম্পাসে আসছে না। আজকের পরিবর্তে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে কাল মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ঢোকার কথা জানিয়েছে।

গত মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এর পর থেকে ছাত্রদল ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ১১ সেপ্টেম্বর খোরশেদ আলমকে সভাপতি ও আরিফুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) নেতাদের সঙ্গে নতুন কমিটির সৌজন্য সাক্ষাতের অংশ হিসেবে আজ সকালে ক্যাম্পাসে আসার কথা ছিল ছাত্রদলের। খবর পেয়ে আজ সকাল থেকেই টিএসসি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত মোড়, পলাশী মোড়সহ ক্যাম্পাসের প্রায় সব প্রবেশমুখ ও মোড়ে অবস্থান নেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার নেতা-কর্মীরা। তাঁরা মিছিল করেন এবং মহড়া দেন। এ সময় তাঁরা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তবে ছাত্রদল আসবে না—এ খবর জানতে পেরে পরে তাঁরা চলে যান।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে তাঁদের লাশের ওপর ভর করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায় বিএনপি-জামায়াত। সেই রাজনৈতিক সচেতনতার জায়গা থেকে আমরা ছাত্রসমাজ সচেতন রয়েছি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে যেন শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত না হয়, সে ব্যাপারেও আমাদের রাজনৈতিক সচেতনতার তাগিদ রয়েছে। এর বাইরেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সব সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও মিছিল-সভা করেন। এটি তারই একটি সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ।’

এদিকে ছাত্রলীগের শোডাউনকে ছাত্রদল ভয় পায় না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আজ ক্যাম্পাসে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে আমাদের (ছাত্রদলের নতুন কমিটি) সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা ছিল। সাক্ষাতের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়লে শেষ মুহূর্তে আমাদের ক্যাম্পাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে অনুমতি নিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসে যেতে বলেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কাল ভিসি স্যারের সঙ্গে আমাদের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে তাঁর অনুমতি নিয়েই আমরা আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করব, ইনশা আল্লাহ। ছাত্রলীগের নেতারা যেমন ক্যাম্পাসের ছাত্র, আমরাও ক্যাম্পাসের ছাত্র। আমরা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন নই।’