ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হরেক পণ্য বিক্রি করে স্বাবলম্বী জিল্লুর রহমান

বগুড়ার আদমদীঘিতে জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক যুবক জিল্লুর রহমান। পরিবার-পরিজন ও সংসার নিয়ে ছিলেন চরম উৎকণ্ঠায়। কীভাবে চলবে সংসার। এ নিয়ে যেন তার দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে সব কাজকেই আপন মনে করেন জিল্লুর রহমান।

পরিবারের অনুরোধে গত ৫ বছর আগে বিয়ে করে জিল্লুর রহমান (৩২)। সংসারের অভাব অনটনের কারণে প্রথমে শুরু করেন সবজির ব্যবসা। কিন্তু সুবিধা করতে পারেননি। কারণ হাট-বাজারে সব সবজি বিক্রি না হলে পচে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও দিন শেষে গুনতে হয়েছে লোকসান। তবুও হার মানতে নারাজ তিনি। জিল্লুর রহমান ব্যবসায় যখন লোকসানে দিশেহারা, ঠিক তখনই নতুন চিন্তা আসে মাথায়। কী ব্যবসায় টিকে থাকা সম্ভব, যা সারা বছরই বিক্রি করা যাবে।

অবশেষে সিদ্ধান্ত নেন প্লাস্টিকের তৈরি হরেক পণ্য যেমন- বালতি, গাবলা, পট, মগ, জগ, টিফিনবক্স, ঝুড়ি, ডালা, মসলার ঝুড়ি কৌটা, চিরনী, কাপ, বাটি, ঢাকনা, কানের দুল, চুড়ি, ছোট বাচ্চাদের বল, ঝুনঝুনিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিস বিক্রির। যা প্রতিটি সংসারে প্রয়োজন হয়। এসব জিনিস গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রির জন্য একটি সাইকেল কিনেছেন জিল্লুর রহমান। প্লাস্টিকের তৈরি এসব হরেক পণ্য বাইসাইকেলে সাজিয়ে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ছুটে চলে বিক্রি করে এই সব পণ্য। এই ব্যবসা করে সে এখন স্বাবলম্বী। এখন তার সংসারে আর কোনো অভাব-অনটন নেই।

জিল্লুর রহমানের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়ায়। কিন্তু ব্যবসার জন্য সে এখন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের ডহরপুর গ্রামে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে হরেক পণ্যের ব্যবসা করছেন।

আদমদীঘি উপজেলা সদরের চড়কতলা গ্রামে এ প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা মেলে হরেক পণ্য বিক্রেতা জিল্লুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, তার নিজ এলাকায় ব্যবসা ভাল না হওয়ায় প্রায় চার বছর ধরে আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রতিদিন দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা বিক্রি হয়। এতে লাভ হয় প্রায় ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন যে উপার্জন হয় তাতে স্বাছন্দে সংসার চলেও চার বছরে এ ব্যবসা করে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করেছি।

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

হরেক পণ্য বিক্রি করে স্বাবলম্বী জিল্লুর রহমান

প্রকাশের সময় : ০৮:০০:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

বগুড়ার আদমদীঘিতে জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক যুবক জিল্লুর রহমান। পরিবার-পরিজন ও সংসার নিয়ে ছিলেন চরম উৎকণ্ঠায়। কীভাবে চলবে সংসার। এ নিয়ে যেন তার দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে সব কাজকেই আপন মনে করেন জিল্লুর রহমান।

পরিবারের অনুরোধে গত ৫ বছর আগে বিয়ে করে জিল্লুর রহমান (৩২)। সংসারের অভাব অনটনের কারণে প্রথমে শুরু করেন সবজির ব্যবসা। কিন্তু সুবিধা করতে পারেননি। কারণ হাট-বাজারে সব সবজি বিক্রি না হলে পচে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও দিন শেষে গুনতে হয়েছে লোকসান। তবুও হার মানতে নারাজ তিনি। জিল্লুর রহমান ব্যবসায় যখন লোকসানে দিশেহারা, ঠিক তখনই নতুন চিন্তা আসে মাথায়। কী ব্যবসায় টিকে থাকা সম্ভব, যা সারা বছরই বিক্রি করা যাবে।

অবশেষে সিদ্ধান্ত নেন প্লাস্টিকের তৈরি হরেক পণ্য যেমন- বালতি, গাবলা, পট, মগ, জগ, টিফিনবক্স, ঝুড়ি, ডালা, মসলার ঝুড়ি কৌটা, চিরনী, কাপ, বাটি, ঢাকনা, কানের দুল, চুড়ি, ছোট বাচ্চাদের বল, ঝুনঝুনিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিস বিক্রির। যা প্রতিটি সংসারে প্রয়োজন হয়। এসব জিনিস গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রির জন্য একটি সাইকেল কিনেছেন জিল্লুর রহমান। প্লাস্টিকের তৈরি এসব হরেক পণ্য বাইসাইকেলে সাজিয়ে এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ছুটে চলে বিক্রি করে এই সব পণ্য। এই ব্যবসা করে সে এখন স্বাবলম্বী। এখন তার সংসারে আর কোনো অভাব-অনটন নেই।

জিল্লুর রহমানের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়ায়। কিন্তু ব্যবসার জন্য সে এখন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের ডহরপুর গ্রামে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে হরেক পণ্যের ব্যবসা করছেন।

আদমদীঘি উপজেলা সদরের চড়কতলা গ্রামে এ প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা মেলে হরেক পণ্য বিক্রেতা জিল্লুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, তার নিজ এলাকায় ব্যবসা ভাল না হওয়ায় প্রায় চার বছর ধরে আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রতিদিন দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা বিক্রি হয়। এতে লাভ হয় প্রায় ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন যে উপার্জন হয় তাতে স্বাছন্দে সংসার চলেও চার বছরে এ ব্যবসা করে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করেছি।