ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যেকোনো সময় বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা

যেকোনো সময় বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ ব্যাপারে সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়বে নাকি অপরিবর্তিত থাকবে তা জানা যাবে খুব শিগগির।

গত ১৮ মে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রস্তাবিত দামের ওপর গণশুনানি করে বিইআরসি। সংস্থাটির আইন অনুযায়ী গণশুনানির পর ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে আদেশ দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাতে সময় রয়েছে। তবে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

বিইআরসি সূত্র বলছে, তারা একটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে এনেছেন। তবে সরকারের কিছু নীতি-সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে ভর্তুকি ইস্যু। দাম না বাড়িয়েও কোনো উপায় করা যায় কি না সেটা চিন্তা করা হচ্ছে। তবে দাম বাড়ালেও তা সামান্য পরিমাণে হবে। সরকার আরেকটু ভর্তুকি বাড়াতে রাজি হলে দাম নাও বাড়তে পারে। তবে যদি বাড়ে সেটা ২০ শতাংশের বেশি হবে না। যদিও দ্রব্যমূল্যের চাপে অতিষ্ঠ জনসাধারণের ওপর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবেই দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।

গত ৫ জুন আবাসিক খাতে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গণশুনানির সিদ্ধান্ত আসার আগেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই প্রস্তাব জানায় সংস্থাটি। এনিয়ে গত ১৮ মে গণশুনানিও করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

সরকার ভর্তুকি না দিলে পাইকারি মূল্যে প্রতি ইউনিটে দুই টাকা ৯৯ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য দাঁড়াবে আট টাকা ১৬ পয়সায়। তবে এই খাতে সরকার ভর্তুকি দিলে দাম অপরিবর্তিত (প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ১৭ পয়সা) থাকবে।

বিপিডিবির মতে- গ্যাসের বর্তমান দাম বিবেচনায় বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে নয় টাকা ১৪ পয়সা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ১২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলে নয় টাকা ২৭ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিপিডিবির পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে খরচ বেড়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতে গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২ দশমিক ১৩ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৬ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কয়লার মুসক বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালে ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ৪ দশমিক ২৪ টাকায়। পাইকারি দাম না বাড়লে ২০২২ সালে ৩০ হাজার ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হবে। বিপিডিবি বিদ্যুতের একক পাইকারি বিক্রেতা। পাঁচটি বিতরণ কোম্পানির কাছে পাইকারি দরে বিক্রির পাশাপাশি নিজে ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের শহরাঞ্চলে বিতরণ করে যাচ্ছে।

এদিকে চাল, ডাল ও তেলসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ঠিক সেই সময় বেড়েছে গ্যাসের দাম। এই অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ঠিক হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত নিলে সাধারণ মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো কিছুতেই ঠিক হবে না। সরকারের হাতে অনেক বিকল্প আছে। সরকার সেগুলা কাজে লাগাতে পারে। যদি এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ায় তবে এর ভয়ানক প্রভাব পড়বে। এতে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে। গ্যাস বিদ্যুৎ ছাড়া তো মানুষ চলতে পারবে না। এজন্য গ্যাস বিদ্যুতের ব্যয় যোগান দিতে গিয়ে যার প্রভাব খাদ্যের ওপর পড়বে। খাদ্যে ব্যয় কমিয়ে দিতে হবে। বিদ্যুতের দাম বাড়লে এগুলোর প্রভাব অন্য জিনিসের ওপরও পড়বে। সবমিলে চাপটা সাধারণ মানুষেরই ওপর পড়বে বেশি।’

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না ক্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আমি কোনো যৌক্তিকতা দেখছি না। এটা আমি এর আগেও বলেছি। ব্যয়বহুল বলে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। একই কারণে স্পর্ট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ। এখন তো বিদ্যুতের দাম কমানো উচিত।’

Tag :
জনপ্রিয়

আগামী বছর থেকে বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

যেকোনো সময় বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা

প্রকাশের সময় : ১০:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

যেকোনো সময় বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ ব্যাপারে সরকারের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়বে নাকি অপরিবর্তিত থাকবে তা জানা যাবে খুব শিগগির।

গত ১৮ মে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রস্তাবিত দামের ওপর গণশুনানি করে বিইআরসি। সংস্থাটির আইন অনুযায়ী গণশুনানির পর ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে আদেশ দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত হাতে সময় রয়েছে। তবে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণায় সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

বিইআরসি সূত্র বলছে, তারা একটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে এনেছেন। তবে সরকারের কিছু নীতি-সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে ভর্তুকি ইস্যু। দাম না বাড়িয়েও কোনো উপায় করা যায় কি না সেটা চিন্তা করা হচ্ছে। তবে দাম বাড়ালেও তা সামান্য পরিমাণে হবে। সরকার আরেকটু ভর্তুকি বাড়াতে রাজি হলে দাম নাও বাড়তে পারে। তবে যদি বাড়ে সেটা ২০ শতাংশের বেশি হবে না। যদিও দ্রব্যমূল্যের চাপে অতিষ্ঠ জনসাধারণের ওপর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবেই দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।

গত ৫ জুন আবাসিক খাতে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গণশুনানির সিদ্ধান্ত আসার আগেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই প্রস্তাব জানায় সংস্থাটি। এনিয়ে গত ১৮ মে গণশুনানিও করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

সরকার ভর্তুকি না দিলে পাইকারি মূল্যে প্রতি ইউনিটে দুই টাকা ৯৯ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য দাঁড়াবে আট টাকা ১৬ পয়সায়। তবে এই খাতে সরকার ভর্তুকি দিলে দাম অপরিবর্তিত (প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ১৭ পয়সা) থাকবে।

বিপিডিবির মতে- গ্যাসের বর্তমান দাম বিবেচনায় বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে নয় টাকা ১৪ পয়সা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ১২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলে নয় টাকা ২৭ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিপিডিবির পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে খরচ বেড়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতে গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২ দশমিক ১৩ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৬ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কয়লার মুসক বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালে ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ৪ দশমিক ২৪ টাকায়। পাইকারি দাম না বাড়লে ২০২২ সালে ৩০ হাজার ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হবে। বিপিডিবি বিদ্যুতের একক পাইকারি বিক্রেতা। পাঁচটি বিতরণ কোম্পানির কাছে পাইকারি দরে বিক্রির পাশাপাশি নিজে ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের শহরাঞ্চলে বিতরণ করে যাচ্ছে।

এদিকে চাল, ডাল ও তেলসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ঠিক সেই সময় বেড়েছে গ্যাসের দাম। এই অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ঠিক হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত নিলে সাধারণ মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো কিছুতেই ঠিক হবে না। সরকারের হাতে অনেক বিকল্প আছে। সরকার সেগুলা কাজে লাগাতে পারে। যদি এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ায় তবে এর ভয়ানক প্রভাব পড়বে। এতে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে। গ্যাস বিদ্যুৎ ছাড়া তো মানুষ চলতে পারবে না। এজন্য গ্যাস বিদ্যুতের ব্যয় যোগান দিতে গিয়ে যার প্রভাব খাদ্যের ওপর পড়বে। খাদ্যে ব্যয় কমিয়ে দিতে হবে। বিদ্যুতের দাম বাড়লে এগুলোর প্রভাব অন্য জিনিসের ওপরও পড়বে। সবমিলে চাপটা সাধারণ মানুষেরই ওপর পড়বে বেশি।’

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না ক্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আমি কোনো যৌক্তিকতা দেখছি না। এটা আমি এর আগেও বলেছি। ব্যয়বহুল বলে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। একই কারণে স্পর্ট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ। এখন তো বিদ্যুতের দাম কমানো উচিত।’