ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিশুখাদ্যেও ছাড় দেওয়া হলো না!

আগস্ট মাসের শুরু থেকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পর বাজারে শিশুদের খাদ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে পড়েছে প্রভাব। শিশুদের মায়ের দুধের বিকল্প বা ব্রেস্ট মিল্ক সাবস্টিটিউট (বিএমএস) এবং শিশুর ব্যবহার-যোগ্য ডায়াপারের মুল্যবৃদ্ধি। এসব পণ্য ক্রয় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে অভিভাবকরা।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাতিরঝিল, রামপুরা, মহানগর প্রজেক্ট, শান্তিনগর, মগবাজার, পান্থপথ, এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন, বাংলামোটরসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নেসলে দুবাইয়ের তৈরি ৮০০ গ্রাম নান-১ গুঁড়া দুধ দুই হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২৫০/৩০০ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৯৫০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

৩৬ পিসের এক প্যাকেট ডায়াপার ৫৬০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৫৯০ টাকা। বড় সাইজের ৪৪ পিসের ম্যামি-পকো-প্যান্টস ডায়াপার এক হাজার ১৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে এক হাজার ৩০০ টাকা। তিন থেকে ছয় কেজি ওজনের শিশুর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪০ পিসের এক প্যাকেট প্যান্ট ডায়াপার ৭০০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ৭৫০ টাকা। ৪০০ গ্রামের প্রতি ক্যান ল্যাকটোজেন-২ ও ৩ ৬৫৫/৬৬০ থেকে ৪০/৪৫ টাকা বেড়ে ৭০০ টাকা। সমপরিমাণের ল্যাকটোজেন-১ প্রতি ক্যান ৬৪৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৬৭৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে চিপস মি. টুইস্ট, আলুজ চিপস, লেস চিপস, সান চিপস ১৫ থেকে ৫ টাকা বেড়ে ২০ টাকা, প্রিঙ্গল চিপস ২২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ২৫০ টাকা, মেন্টস ২০ থেকে ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা, সেন্টার ফ্রুট, সেন্টার ফ্রেস, ক্রিমফিলস ২ টাকা থেকে ৫০ পয়সা বেড়ে দুই টাকা ৫০ পয়সা, এরোপ্লেন ললিপপ ৫ টাকা থেকে ১ টাকা বেড়ে ৬ টাকা, ডান কেক ১৫ থেকে ৫ টাকা বেড়ে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেবি জেল টুথপেস্ট ৭৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা বেড়ে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর দিলু রোড, মগবাজার এলাকার মেহেদী জেনারেল স্টোরের মালিক হৃদয় হোসেন বলেন, এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াতে শিশুদের মা-বাবা কম কিনছেন। এজন্য আমাদেরও ব্যবসা মন্দা চলছে।

ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার শাহ ডিপার্টমেন্ট স্টোরের মালিক মাসুদ আালম বলেন, শিশুদের মা- বাবারা আমাদের বকাঝকা করে। প্রতিদিন এসব সহ্য করে ব্যবসা করতে হচ্ছে। যারা বিনা কারণে সবকিছুর দাম বাড়িয়েছে তাদেরকে জড়িমানা করা হোক। এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব কয়টা কোম্পানির বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হোক।

মাসুদ আালম বলেন, আমদানি করা ২৫০ গ্রামের শিশুদের পাস্তার প্যাকেট ৩০০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে এখন ৪০০ টাকা। দেশি পাস্তা ও নুডলসের দামও বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ।

মগবাজার এলাকার ক্রেতা মো. সাইজুদ্দিন বলেন, সব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। এর মধ্যে শিশুদের খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম অতিরিক্ত বাড়িয়েছে। যারা দাম বাড়ায় তারা খুব খারপ করছে।

পান্থপথ এলাকার লিয়া আক্তার বলেন, ডায়পার, নেসলে, ক্যান ল্যাকটোজেন, চিপস, মেন্টস, সেন্টার ফ্রুট, সেন্টার ফ্রেস, ক্রিমফিলস, এরোপ্লেন ললিপপ, ডান কেক, বেবি জেল টুথপেস্টসহ সব ধরনের পণের দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। এখন এসব পণ্যের দাম বাড়ানোর পর মহাবিপদের মধ্যে আছি।

লিয়া আক্তার বলেন, যেসব কোম্পানি বিনা কারণে প্রতিটি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা এবং উচিৎ শিক্ষা দেওয়া হোক।

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

শিশুখাদ্যেও ছাড় দেওয়া হলো না!

প্রকাশের সময় : ১০:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আগস্ট মাসের শুরু থেকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পর বাজারে শিশুদের খাদ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে পড়েছে প্রভাব। শিশুদের মায়ের দুধের বিকল্প বা ব্রেস্ট মিল্ক সাবস্টিটিউট (বিএমএস) এবং শিশুর ব্যবহার-যোগ্য ডায়াপারের মুল্যবৃদ্ধি। এসব পণ্য ক্রয় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে অভিভাবকরা।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাতিরঝিল, রামপুরা, মহানগর প্রজেক্ট, শান্তিনগর, মগবাজার, পান্থপথ, এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন, বাংলামোটরসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নেসলে দুবাইয়ের তৈরি ৮০০ গ্রাম নান-১ গুঁড়া দুধ দুই হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২৫০/৩০০ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৯৫০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

৩৬ পিসের এক প্যাকেট ডায়াপার ৫৬০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৫৯০ টাকা। বড় সাইজের ৪৪ পিসের ম্যামি-পকো-প্যান্টস ডায়াপার এক হাজার ১৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে এক হাজার ৩০০ টাকা। তিন থেকে ছয় কেজি ওজনের শিশুর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪০ পিসের এক প্যাকেট প্যান্ট ডায়াপার ৭০০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ৭৫০ টাকা। ৪০০ গ্রামের প্রতি ক্যান ল্যাকটোজেন-২ ও ৩ ৬৫৫/৬৬০ থেকে ৪০/৪৫ টাকা বেড়ে ৭০০ টাকা। সমপরিমাণের ল্যাকটোজেন-১ প্রতি ক্যান ৬৪৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৬৭৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে চিপস মি. টুইস্ট, আলুজ চিপস, লেস চিপস, সান চিপস ১৫ থেকে ৫ টাকা বেড়ে ২০ টাকা, প্রিঙ্গল চিপস ২২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ২৫০ টাকা, মেন্টস ২০ থেকে ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা, সেন্টার ফ্রুট, সেন্টার ফ্রেস, ক্রিমফিলস ২ টাকা থেকে ৫০ পয়সা বেড়ে দুই টাকা ৫০ পয়সা, এরোপ্লেন ললিপপ ৫ টাকা থেকে ১ টাকা বেড়ে ৬ টাকা, ডান কেক ১৫ থেকে ৫ টাকা বেড়ে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেবি জেল টুথপেস্ট ৭৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা বেড়ে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর দিলু রোড, মগবাজার এলাকার মেহেদী জেনারেল স্টোরের মালিক হৃদয় হোসেন বলেন, এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াতে শিশুদের মা-বাবা কম কিনছেন। এজন্য আমাদেরও ব্যবসা মন্দা চলছে।

ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার শাহ ডিপার্টমেন্ট স্টোরের মালিক মাসুদ আালম বলেন, শিশুদের মা- বাবারা আমাদের বকাঝকা করে। প্রতিদিন এসব সহ্য করে ব্যবসা করতে হচ্ছে। যারা বিনা কারণে সবকিছুর দাম বাড়িয়েছে তাদেরকে জড়িমানা করা হোক। এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব কয়টা কোম্পানির বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হোক।

মাসুদ আালম বলেন, আমদানি করা ২৫০ গ্রামের শিশুদের পাস্তার প্যাকেট ৩০০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে এখন ৪০০ টাকা। দেশি পাস্তা ও নুডলসের দামও বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ।

মগবাজার এলাকার ক্রেতা মো. সাইজুদ্দিন বলেন, সব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। এর মধ্যে শিশুদের খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম অতিরিক্ত বাড়িয়েছে। যারা দাম বাড়ায় তারা খুব খারপ করছে।

পান্থপথ এলাকার লিয়া আক্তার বলেন, ডায়পার, নেসলে, ক্যান ল্যাকটোজেন, চিপস, মেন্টস, সেন্টার ফ্রুট, সেন্টার ফ্রেস, ক্রিমফিলস, এরোপ্লেন ললিপপ, ডান কেক, বেবি জেল টুথপেস্টসহ সব ধরনের পণের দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। এখন এসব পণ্যের দাম বাড়ানোর পর মহাবিপদের মধ্যে আছি।

লিয়া আক্তার বলেন, যেসব কোম্পানি বিনা কারণে প্রতিটি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা এবং উচিৎ শিক্ষা দেওয়া হোক।