ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রড-সিমেন্টের দাম আকাশ ছোঁয়া

গত কয়েকমাস ধরেই ঊর্ধ্বগতিতে ছিল রড সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম। এরমধ্যে ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর থেকে সেই বাড়তি দাম এখন আকাশ ছুঁয়েছে। আড়াই মাসের ব্যবধানে রডের দাম টন প্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বস্তা প্রতি সিমেন্টের দামও বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

কাঁচামাল আমদানি নির্ভর হওয়ায় নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। রিহ্যাব বলছে, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ার ফলে আবাসন খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির ফলে সংকটে পড়েছে ব্যক্তি পর্যায়ের নির্মাতা এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো। যারা বাড়ি বানানো কিংবা ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের স্বপ্নও মলিন হতে চলেছে। কেউ কেউ ফ্ল্যাট কেনার জন্য বুকিং দিলেও যে মূল্যে তারা বুকিং দিয়েছিলেন, এখন তার দুই থেকে তিন গুণ বেশি দাম চাইছে ডেভেলপার কোম্পানি। অন্যদিকে বেকায়দায় পড়েছেন ঠিকাদাররাও। কাজ চালাবেন নাকি বন্ধ করে দেবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। দাম বৃদ্ধির ফলে অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে গেছে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন কাজ।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশ্বিক নানা কারণে নির্মাণ উপকরণের প্রধান এই সামগ্রীর দাম এখন আকাশচুম্বী। বিশ্ব বাজারে কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায়, স্থানীয় বাজারেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রড এবং সিমেন্ট। ব্যয় বেড়ে যাওয়ায়, আবাসন খাত নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ সব কিছুর পেছনে রয়েছে সিন্ডিকেট। আগে প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ছিল ৪৪০-৪৬০ টাকা। তারপর বিভিন্ন সময়ে দশ টাকা করে বাড়তে বাড়তে এখন সাড়ে পাঁচশ’র উপরে চলে গেছে দাম। কোম্পানিভেদে প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম প্রায় ৭০-৯০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজার মনিটরিংয়ের সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে রডের দাম বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে। মান ভেদে এক টন রডের দাম ৯৩-৯৫ হাজার টাকা। তিন মাস আগেও যার দাম ছিল ৭৩-৮৬ হাজার টাকা। এদিকে সিমেন্টের দামেও ঊর্ধ্বগতি। খুচরা পর্যায়ে ৫০ কেজির বস্তা সিমেন্টের দাম ৫৫০-৬৬০ টাকা।

ঠিকাদাররা বলছেন, দিন দিন নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। নতুন করে কোনো কাজ ধরছি না। দাম বৃদ্ধির কারণে আমরা প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছি। মূল্য বৃদ্ধির লাগাম টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে কাজ করা সম্ভব না।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলম খান বলেন, বিশ্ববাজারে রডের কাঁচামাল স্ক্যাপারের মূল্য ৮০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে স্ক্যাপ পাওয়াই যাচ্ছিল না। এর ওপর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। বন্দর ও জাহাজ ভাড়া, খালাস ও লোডিং বৃদ্ধির কারণে রডের দাম বেড়েছে।

রড-সিমেন্টের দাম বাড়লে শুধু আবাসন খাত নয় বরং দেশের সার্বিক উন্নয়নেও প্রভাব পড়বে বলে জানান রিহ্যাবের সহ-সভাপতি কামাল মাহমুদ। তিনি বলেন, রড়-সিমেন্টের দাম বৃদ্ধির ফলে প্রায় ৫৫ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে। প্রোজেক্ট শুরুর আগে আমরা একটা বাজেট নির্ধারন করলেও নির্মাণ খরচ বেড়ে গেলে তখন আমরা কাজের গতি কমিয়ে দিতে বাধ্য হই।

জানা গেছে, দেশে বার্ষিক রডের চাহিদা প্রায় ৬০ লাখ টন। অন্যদিকে সিমেন্টের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টন। রড ও সিমেন্টের যৌক্তিক দাম খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। আমদানিকারক ও উৎপাদকদের কাছে চিঠি দিয়ে ১১ ধরনের তথ্য জেনেছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজনীয় এই দুই পণ্যের দাম শিগগিরই বেধে দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

Tag :
জনপ্রিয়

নিরব-আরিয়ানা জামানের ‘স্পর্শ’

রড-সিমেন্টের দাম আকাশ ছোঁয়া

প্রকাশের সময় : ১০:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

গত কয়েকমাস ধরেই ঊর্ধ্বগতিতে ছিল রড সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর দাম। এরমধ্যে ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর থেকে সেই বাড়তি দাম এখন আকাশ ছুঁয়েছে। আড়াই মাসের ব্যবধানে রডের দাম টন প্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বস্তা প্রতি সিমেন্টের দামও বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

কাঁচামাল আমদানি নির্ভর হওয়ায় নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। রিহ্যাব বলছে, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ার ফলে আবাসন খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির ফলে সংকটে পড়েছে ব্যক্তি পর্যায়ের নির্মাতা এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো। যারা বাড়ি বানানো কিংবা ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের স্বপ্নও মলিন হতে চলেছে। কেউ কেউ ফ্ল্যাট কেনার জন্য বুকিং দিলেও যে মূল্যে তারা বুকিং দিয়েছিলেন, এখন তার দুই থেকে তিন গুণ বেশি দাম চাইছে ডেভেলপার কোম্পানি। অন্যদিকে বেকায়দায় পড়েছেন ঠিকাদাররাও। কাজ চালাবেন নাকি বন্ধ করে দেবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। দাম বৃদ্ধির ফলে অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে গেছে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন কাজ।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশ্বিক নানা কারণে নির্মাণ উপকরণের প্রধান এই সামগ্রীর দাম এখন আকাশচুম্বী। বিশ্ব বাজারে কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায়, স্থানীয় বাজারেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রড এবং সিমেন্ট। ব্যয় বেড়ে যাওয়ায়, আবাসন খাত নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ সব কিছুর পেছনে রয়েছে সিন্ডিকেট। আগে প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ছিল ৪৪০-৪৬০ টাকা। তারপর বিভিন্ন সময়ে দশ টাকা করে বাড়তে বাড়তে এখন সাড়ে পাঁচশ’র উপরে চলে গেছে দাম। কোম্পানিভেদে প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম প্রায় ৭০-৯০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজার মনিটরিংয়ের সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে রডের দাম বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে। মান ভেদে এক টন রডের দাম ৯৩-৯৫ হাজার টাকা। তিন মাস আগেও যার দাম ছিল ৭৩-৮৬ হাজার টাকা। এদিকে সিমেন্টের দামেও ঊর্ধ্বগতি। খুচরা পর্যায়ে ৫০ কেজির বস্তা সিমেন্টের দাম ৫৫০-৬৬০ টাকা।

ঠিকাদাররা বলছেন, দিন দিন নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। নতুন করে কোনো কাজ ধরছি না। দাম বৃদ্ধির কারণে আমরা প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছি। মূল্য বৃদ্ধির লাগাম টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে কাজ করা সম্ভব না।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলম খান বলেন, বিশ্ববাজারে রডের কাঁচামাল স্ক্যাপারের মূল্য ৮০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে স্ক্যাপ পাওয়াই যাচ্ছিল না। এর ওপর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। বন্দর ও জাহাজ ভাড়া, খালাস ও লোডিং বৃদ্ধির কারণে রডের দাম বেড়েছে।

রড-সিমেন্টের দাম বাড়লে শুধু আবাসন খাত নয় বরং দেশের সার্বিক উন্নয়নেও প্রভাব পড়বে বলে জানান রিহ্যাবের সহ-সভাপতি কামাল মাহমুদ। তিনি বলেন, রড়-সিমেন্টের দাম বৃদ্ধির ফলে প্রায় ৫৫ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে। প্রোজেক্ট শুরুর আগে আমরা একটা বাজেট নির্ধারন করলেও নির্মাণ খরচ বেড়ে গেলে তখন আমরা কাজের গতি কমিয়ে দিতে বাধ্য হই।

জানা গেছে, দেশে বার্ষিক রডের চাহিদা প্রায় ৬০ লাখ টন। অন্যদিকে সিমেন্টের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টন। রড ও সিমেন্টের যৌক্তিক দাম খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। আমদানিকারক ও উৎপাদকদের কাছে চিঠি দিয়ে ১১ ধরনের তথ্য জেনেছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজনীয় এই দুই পণ্যের দাম শিগগিরই বেধে দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।