ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কল ড্রপে আসছে ক্ষতিপূরণ

কথার মধ্যে হঠাৎ ফোনের ভেতরে শব্দ, এরপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন (কল ড্রপ)…। অননেট অথবা অফনেট শহর কিংবা গ্রাম- সব জায়গায় কল ড্রপ ভোগান্তিতে রয়েছে গ্রাহকরা। তবে আগামী মাস (অক্টোবর) থেকে কল ড্রপ বন্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

কল ড্রপ হলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে টকটাইমও ফেরত দেওয়া। একই সঙ্গে গ্রাহক চাইলে নিজেও জানতে পারবে অপারেটররা তার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে কি না। তবে ক্ষতিপূরণের এ সুবিধা মিলবে শুধু অননেটে কথা বললে এবং দিনে সর্বোচ্চ সাতবার।

বিটিআরসির তথ্য মতে, দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক ১৭ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১২ কোটি গ্রাহক মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। বিপুলসংখ্যক গ্রাহক সত্ত্বেও মোবাইল অপারেটরগুলো যথাযথভাবে সেবার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সে অর্থে কম। তা সত্ত্বেও গ্রাহককে নিয়মিতই নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

অপারেটরদের সেবার মান নিয়ে গত দুই বছরে বিটিআরসিতে ২৫ হাজারের বেশি ৯৫টি অভিযোগ করেছে গ্রাহকরা। এর মধ্যে অসহনীয় মাত্রায় কল কেটে যাওয়া (ড্রপ), ইন্টারনেটে ধীরগতি, বিভিন্ন প্যাকেজের ফাঁদ, গ্রাহকের অজান্তে ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস চালু করে টাকা কেটে নেওয়া- এ রকম অভিযোগই বেশি।

বিটিআরসি কর্তৃক টেলিকম পরিষেবার গুণমান মূল্যায়নের জন্য গঠিত কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২০-২১ অর্থবছরে গ্রাহকরা ৫২ দশমিক ৫৯ কোটিবার কল ড্রপের শিকার হয়েছেন। এতে মোবাইল ফোনের গ্রাহকদের প্রায় ১৮ দশমিক ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কল ড্রপ তখনই ঘটে যখন কোনো মোবাইল ফোন অপারেটরের সিগন্যাল দুর্বল থাকে।

বিটিআরসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, গ্রাহকদের তাদের প্রাপ্য মিনিটের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অপারেটরদের। এর জন্য মিনিটের কোনো উচ্চসীমা নির্ধারণ করা যাবে না। কল ড্রপের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকদের টকটাইম ফেরত দিতে হবে এবং তাদের এসএমএসের মাধ্যমে অবহিত করতে হবে। সভায় গ্রাহকরা এই টকটাইম ব্যবহার করার জন্য ৩০ দিন সময় পাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ বলেন, ‘কল ড্রপের জন্য একটি নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। যা ইতোমধ্যে কমিশন সভায় অ্যাপ্রুভও হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে গ্রাহকরা অননেট কল ড্রপের ক্ষতিপূরণ পাবে। কল ড্রপ হলে একজন গ্রাহক ১০ সেকেন্ড হারায় সেই হিসেবে পরবর্তী কলে ১০ পয়সা টকটাইম ফেরত দেওয়া হবে। ১ অক্টোবর থেকে যদি কোনো গ্রাহক জানতে চান গত এক দিনে বা এক সপ্তাহে তার কতটি কল ড্রপ হয়েছে তাহলে তিনি জানতে পারবেন। ওই ভাবে কারিগরি অ্যারেঞ্জমেন্ট করার জন্য আমরা ১৫ দিন সময় দিয়েছি। টেকনিক্যাল প্রিপারেশনের একটা বিষয় আছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আগেও ছিল- তবে মানুষ বুঝতে পারত না। অপারেটররা বলত ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। মানুষ বিশ্বাস করতে পারত না সে পাচ্ছে কি না। এখন বিশ্বাস করতে পারবে। তবে এটা শুধু অননেট কলের জন্য। যেমন জিপি টু জিপি ফোন, রবি টু রবি এ রকম কল ড্রপ হলে এই ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে। এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে কল ড্রপ হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।’

বিটিআরসির পরিসংখ্যান বলছে, একজন গ্রাহকের নরমালি এক দিনে সর্বোচ্চ দুই-তিনটার বেশি কলড্রপ হয় না। পয়েন্ট ২/১ পারসেন্ট হতে পারে এর বেশি হয় না। ৯৯.৯৫ পার্সেন্ট কলই রিটার্ন পাবে। সর্বোচ্চ সাতবার কল ড্রপের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে। অপারেটররা এসএমএস দেবে এবং একজন গ্রাহক জানতে চাইলে তিনিও পারবেন। এরপরও ক্ষতিপূরণ না দিলে বিটিআরসির কাছে অভিযোগ করবে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে অপারেটরগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হবে।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কল ড্রপ হলে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টেরও একটা নির্দেশনা আছে। বিটিআরসি এর আগেও অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। দেখা যাক এবার কী হয়। এটি ইমপ্লিমেন্ট করতে পারলে তাদের সাধুবাদ জানাব।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘কল ড্রপ হলে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপারেটররা গ্রাহকদের চার্জ কাটে সুতরাং সেটি ফেরত দিতে হবে। এটা যুক্তিসঙ্গত।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বিটিআরসিকে কল ড্রপ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। একই সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম যাতে গ্রাহকরা কল ড্রপের ক্ষতিপূরণ পায় এবং গ্রাহককে অবহিত করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ সেবা একটি ওয়্যারলেস প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা হওয়ায় এখানে কল ড্রপ খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়, রবির নেটওয়ার্কের ব্যতিক্রম নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ বিষয়ে নতুন যে নির্দেশনা জারি করেছে তাতে গ্রাহকের সমস্যার সাময়িক সমাধান হবে। দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদের বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরে যেতে হবে এবং সমস্যার ধরন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বাংলালিংকের করপোরেট কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির প্রধান অঙ্কিত সুরেকা বলেন, ‘বিটিআরসি কল ড্রপের জন্য ফ্রি টকটাইম চালুর আগেই আমরা গ্রাহকদের টকটাইম দিয়েছি। আমাদের এ ব্যবস্থা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কমিটিকে নিয়মিত রিপোর্ট করে থাকি।

উল্লেখ্য কল ড্রপ মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবার মান যাচাই করতে গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় কারিগরি জরিপ চালায় কমিশন। এতে দেখা যায়, গ্রামীণফোনের কল ড্রপের হার ৮ দশমিক ৭, বাংলালিংকের ২ দশমিক ৬৩ ও রবির ২ দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে সাকসেস রেটের দিক থেকে গ্রামীণফোনের ৯১ দশমিক ৩, বাংলালিংকের ৯২ দশমিক ১১, রবির ৯১ দশমিক ৪৯, এয়ারটেলের ৯৭ দশমিক ২২ ও টেলিটকের ৮১ দশমিক ১৩ শতাংশ কল সঠিকভাবে হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

বীরমুক্তিযোদ্ধা ভূপেশ কুমার দাস রায় আর নেই : বিভিন্ন মহলে শোক

কল ড্রপে আসছে ক্ষতিপূরণ

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৭:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

কথার মধ্যে হঠাৎ ফোনের ভেতরে শব্দ, এরপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন (কল ড্রপ)…। অননেট অথবা অফনেট শহর কিংবা গ্রাম- সব জায়গায় কল ড্রপ ভোগান্তিতে রয়েছে গ্রাহকরা। তবে আগামী মাস (অক্টোবর) থেকে কল ড্রপ বন্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

কল ড্রপ হলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে টকটাইমও ফেরত দেওয়া। একই সঙ্গে গ্রাহক চাইলে নিজেও জানতে পারবে অপারেটররা তার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে কি না। তবে ক্ষতিপূরণের এ সুবিধা মিলবে শুধু অননেটে কথা বললে এবং দিনে সর্বোচ্চ সাতবার।

বিটিআরসির তথ্য মতে, দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক ১৭ কোটি ৬৩ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ১২ কোটি গ্রাহক মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। বিপুলসংখ্যক গ্রাহক সত্ত্বেও মোবাইল অপারেটরগুলো যথাযথভাবে সেবার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সে অর্থে কম। তা সত্ত্বেও গ্রাহককে নিয়মিতই নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

অপারেটরদের সেবার মান নিয়ে গত দুই বছরে বিটিআরসিতে ২৫ হাজারের বেশি ৯৫টি অভিযোগ করেছে গ্রাহকরা। এর মধ্যে অসহনীয় মাত্রায় কল কেটে যাওয়া (ড্রপ), ইন্টারনেটে ধীরগতি, বিভিন্ন প্যাকেজের ফাঁদ, গ্রাহকের অজান্তে ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস চালু করে টাকা কেটে নেওয়া- এ রকম অভিযোগই বেশি।

বিটিআরসি কর্তৃক টেলিকম পরিষেবার গুণমান মূল্যায়নের জন্য গঠিত কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২০-২১ অর্থবছরে গ্রাহকরা ৫২ দশমিক ৫৯ কোটিবার কল ড্রপের শিকার হয়েছেন। এতে মোবাইল ফোনের গ্রাহকদের প্রায় ১৮ দশমিক ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কল ড্রপ তখনই ঘটে যখন কোনো মোবাইল ফোন অপারেটরের সিগন্যাল দুর্বল থাকে।

বিটিআরসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, গ্রাহকদের তাদের প্রাপ্য মিনিটের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অপারেটরদের। এর জন্য মিনিটের কোনো উচ্চসীমা নির্ধারণ করা যাবে না। কল ড্রপের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকদের টকটাইম ফেরত দিতে হবে এবং তাদের এসএমএসের মাধ্যমে অবহিত করতে হবে। সভায় গ্রাহকরা এই টকটাইম ব্যবহার করার জন্য ৩০ দিন সময় পাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ বলেন, ‘কল ড্রপের জন্য একটি নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। যা ইতোমধ্যে কমিশন সভায় অ্যাপ্রুভও হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে গ্রাহকরা অননেট কল ড্রপের ক্ষতিপূরণ পাবে। কল ড্রপ হলে একজন গ্রাহক ১০ সেকেন্ড হারায় সেই হিসেবে পরবর্তী কলে ১০ পয়সা টকটাইম ফেরত দেওয়া হবে। ১ অক্টোবর থেকে যদি কোনো গ্রাহক জানতে চান গত এক দিনে বা এক সপ্তাহে তার কতটি কল ড্রপ হয়েছে তাহলে তিনি জানতে পারবেন। ওই ভাবে কারিগরি অ্যারেঞ্জমেন্ট করার জন্য আমরা ১৫ দিন সময় দিয়েছি। টেকনিক্যাল প্রিপারেশনের একটা বিষয় আছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আগেও ছিল- তবে মানুষ বুঝতে পারত না। অপারেটররা বলত ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। মানুষ বিশ্বাস করতে পারত না সে পাচ্ছে কি না। এখন বিশ্বাস করতে পারবে। তবে এটা শুধু অননেট কলের জন্য। যেমন জিপি টু জিপি ফোন, রবি টু রবি এ রকম কল ড্রপ হলে এই ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে। এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে কল ড্রপ হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।’

বিটিআরসির পরিসংখ্যান বলছে, একজন গ্রাহকের নরমালি এক দিনে সর্বোচ্চ দুই-তিনটার বেশি কলড্রপ হয় না। পয়েন্ট ২/১ পারসেন্ট হতে পারে এর বেশি হয় না। ৯৯.৯৫ পার্সেন্ট কলই রিটার্ন পাবে। সর্বোচ্চ সাতবার কল ড্রপের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে। অপারেটররা এসএমএস দেবে এবং একজন গ্রাহক জানতে চাইলে তিনিও পারবেন। এরপরও ক্ষতিপূরণ না দিলে বিটিআরসির কাছে অভিযোগ করবে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে অপারেটরগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হবে।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কল ড্রপ হলে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টেরও একটা নির্দেশনা আছে। বিটিআরসি এর আগেও অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। দেখা যাক এবার কী হয়। এটি ইমপ্লিমেন্ট করতে পারলে তাদের সাধুবাদ জানাব।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘কল ড্রপ হলে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপারেটররা গ্রাহকদের চার্জ কাটে সুতরাং সেটি ফেরত দিতে হবে। এটা যুক্তিসঙ্গত।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বিটিআরসিকে কল ড্রপ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। একই সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম যাতে গ্রাহকরা কল ড্রপের ক্ষতিপূরণ পায় এবং গ্রাহককে অবহিত করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ সেবা একটি ওয়্যারলেস প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা হওয়ায় এখানে কল ড্রপ খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়, রবির নেটওয়ার্কের ব্যতিক্রম নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ বিষয়ে নতুন যে নির্দেশনা জারি করেছে তাতে গ্রাহকের সমস্যার সাময়িক সমাধান হবে। দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদের বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরে যেতে হবে এবং সমস্যার ধরন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বাংলালিংকের করপোরেট কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির প্রধান অঙ্কিত সুরেকা বলেন, ‘বিটিআরসি কল ড্রপের জন্য ফ্রি টকটাইম চালুর আগেই আমরা গ্রাহকদের টকটাইম দিয়েছি। আমাদের এ ব্যবস্থা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কমিটিকে নিয়মিত রিপোর্ট করে থাকি।

উল্লেখ্য কল ড্রপ মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবার মান যাচাই করতে গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় কারিগরি জরিপ চালায় কমিশন। এতে দেখা যায়, গ্রামীণফোনের কল ড্রপের হার ৮ দশমিক ৭, বাংলালিংকের ২ দশমিক ৬৩ ও রবির ২ দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে সাকসেস রেটের দিক থেকে গ্রামীণফোনের ৯১ দশমিক ৩, বাংলালিংকের ৯২ দশমিক ১১, রবির ৯১ দশমিক ৪৯, এয়ারটেলের ৯৭ দশমিক ২২ ও টেলিটকের ৮১ দশমিক ১৩ শতাংশ কল সঠিকভাবে হয়েছে।