ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কে হচ্ছেন সংসদ উপনেতা

নতুন সাংসদ উপনেতা নির্বাচনে আলোচনায় সর্বাগ্রে রয়েছে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান তিন নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও মতিয়া চৌধুরীর নাম।

প্রয়াত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুর পর পদটি পূরণ করাটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তার মৃত্যুতে সংসদে শূন্য হওয়া পদটিতে কে আসছেন তা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আনুগত্য, বিশ্বস্ততা, দলে অবদান এবং সংসদে উপস্থিতির হার বিবেচনা করে এই পদে মনোনয়ন দেবেন দলের সভাপতি, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে তিনি দেশে ফেরার পর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, সংসদ উপনেতা ইস্যুতে দলীয় ফোরামে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। দলের সভাপতি দেশে ফেরার পর তিনি সিনিয়র নেতাদের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

শাসক দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, সংসদ উপনেতা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম আস্থাভাজন ব্যক্তি। তবে মতিয়া চৌধুরী যেহেতু বাম রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগে এসেছেন, সে কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে উপনেতা না-ও করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বা তোফায়েল আহমেদের নাম বিবেচনায় আসতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, সাজেদা চৌধুরীর জায়গায় মতিয়া চৌধুরী হতে পারেন সংসদ উপনেতা। সংসদে যে আসন বিন্যাস তাতে সাজেদা চৌধুরীর পরের আসনটি মতিয়া চৌধুরীর। এ ছাড়া ব্যক্তিজীবনে সৎ, নির্লোভ ও কর্মঠ মতিয়া চৌধুরী বেশ আগে থেকেই শেখ হাসিনার গুডবুকে রয়েছেন।

‘বিশেষ করে এক-এগারো সময়কালে মতিয়া চৌধুরীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয় এবং সাহসী। শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম রাজপথে নেমেছিলেন। ২০০৯ সালের মন্ত্রিসভা থেকে যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি সিনিয়র নেতাদের বাদ দেন, তখন একমাত্র মতিয়া চৌধুরীকে মন্ত্রিসভার মধ্যে রাখা হয়েছিল। ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভাতেও তিনি কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই দায়িত্বে তিনি সাফল্যের স্বাক্ষরও রাখেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। সেই মন্ত্রিসভায় বাদ পড়েন মতিয়া চৌধুরী। তার পরও তিনি দলে সক্রিয়। দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত যাওয়ার পাশাপাশি দলের প্রায় সব কর্মসূচিতেই তার উপস্থিতি থাকে।

এ বিষয়ে মতিয়া চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পদ-পদবির জন্য রাজনীতি করি না। দল যখন যে দায়িত্ব দেবে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। আর সংসদ উপনেতা নিয়ে দলের কোনো পর্যায়ে এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির এক নেতা জানান, দল ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সফলভাবে পালনের পর সংসদে উপস্থিতির ক্ষেত্রেও মতিয়া চৌধুরী এক-এগারোতে শেখ হাসিনা যখন জেলে ছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে মতিয়া চৌধুরী দল পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

অন্য দুই সিনিয়র নেতার মধ্যে আমির হোসেন আমু ১৪ দলের মুখপাত্র এবং প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। আর তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার পর সম্প্রতি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছেন।

প্রসঙ্গত, মন্ত্রী পদমর্যাদার সংসদ উপনেতার জন্য সংসদে অফিস রয়েছে। মন্ত্রীদের মতো সব সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেন সংসদ উপনেতা।

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

কে হচ্ছেন সংসদ উপনেতা

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৪:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

নতুন সাংসদ উপনেতা নির্বাচনে আলোচনায় সর্বাগ্রে রয়েছে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান তিন নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও মতিয়া চৌধুরীর নাম।

প্রয়াত সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুর পর পদটি পূরণ করাটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তার মৃত্যুতে সংসদে শূন্য হওয়া পদটিতে কে আসছেন তা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আনুগত্য, বিশ্বস্ততা, দলে অবদান এবং সংসদে উপস্থিতির হার বিবেচনা করে এই পদে মনোনয়ন দেবেন দলের সভাপতি, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে তিনি দেশে ফেরার পর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, সংসদ উপনেতা ইস্যুতে দলীয় ফোরামে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। দলের সভাপতি দেশে ফেরার পর তিনি সিনিয়র নেতাদের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

শাসক দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, সংসদ উপনেতা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম আস্থাভাজন ব্যক্তি। তবে মতিয়া চৌধুরী যেহেতু বাম রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগে এসেছেন, সে কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে উপনেতা না-ও করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বা তোফায়েল আহমেদের নাম বিবেচনায় আসতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, সাজেদা চৌধুরীর জায়গায় মতিয়া চৌধুরী হতে পারেন সংসদ উপনেতা। সংসদে যে আসন বিন্যাস তাতে সাজেদা চৌধুরীর পরের আসনটি মতিয়া চৌধুরীর। এ ছাড়া ব্যক্তিজীবনে সৎ, নির্লোভ ও কর্মঠ মতিয়া চৌধুরী বেশ আগে থেকেই শেখ হাসিনার গুডবুকে রয়েছেন।

‘বিশেষ করে এক-এগারো সময়কালে মতিয়া চৌধুরীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয় এবং সাহসী। শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম রাজপথে নেমেছিলেন। ২০০৯ সালের মন্ত্রিসভা থেকে যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি সিনিয়র নেতাদের বাদ দেন, তখন একমাত্র মতিয়া চৌধুরীকে মন্ত্রিসভার মধ্যে রাখা হয়েছিল। ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভাতেও তিনি কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই দায়িত্বে তিনি সাফল্যের স্বাক্ষরও রাখেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। সেই মন্ত্রিসভায় বাদ পড়েন মতিয়া চৌধুরী। তার পরও তিনি দলে সক্রিয়। দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত যাওয়ার পাশাপাশি দলের প্রায় সব কর্মসূচিতেই তার উপস্থিতি থাকে।

এ বিষয়ে মতিয়া চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পদ-পদবির জন্য রাজনীতি করি না। দল যখন যে দায়িত্ব দেবে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। আর সংসদ উপনেতা নিয়ে দলের কোনো পর্যায়ে এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির এক নেতা জানান, দল ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সফলভাবে পালনের পর সংসদে উপস্থিতির ক্ষেত্রেও মতিয়া চৌধুরী এক-এগারোতে শেখ হাসিনা যখন জেলে ছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে মতিয়া চৌধুরী দল পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

অন্য দুই সিনিয়র নেতার মধ্যে আমির হোসেন আমু ১৪ দলের মুখপাত্র এবং প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। আর তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার পর সম্প্রতি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছেন।

প্রসঙ্গত, মন্ত্রী পদমর্যাদার সংসদ উপনেতার জন্য সংসদে অফিস রয়েছে। মন্ত্রীদের মতো সব সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেন সংসদ উপনেতা।