ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আগ্রাসী ঋণে ঝুঁকছে ব্যাংক

আমানতকারীদের জামানতের সুরক্ষা দিতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক, চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংক নিয়ম লঙ্ঘন করে আগ্রাসী কায়দায় ঋণ বিতরণ করছে। এভাবে ঋণ-আমানত অনুপাতের (এডিআর) সীমা লঙ্ঘন করে ঋণ বিতরণ করায় ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। আর খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় আমানতকারীরা ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ১০২ দশমিক ২৮ শতাংশ। যদিও প্রচলিত ব্যাংক হিসেবে মোট আমানতের ৮৭ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারে না রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। সেই হিসাবে ব্যাংকটি প্রায় ১৫ শতাংশ ঋণ বেশি বিতরণ করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সীমা লঙ্ঘন। রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক ৮৯ দশমিক ১৪ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। একটি প্রচলিত ব্যাংক হিসেবে মোট আমানতের ৮৭ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারে না ব্যাংকটি। নিয়ম অনুযায়ী, বেসিক ব্যাংক ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। এভাবে ঋণ বিতরণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত ঋণের সীমা লঙ্ঘন।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংকগুলো আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে ঋণ বিতরণ করছে। এতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে কোনো কোনো ব্যাংক সময়মতো গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারে না, যা আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি সৃষ্টি করে।

পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) ঋণ বিতরণ করেছে ৮৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। যদিও এটি প্রচলিত ব্যাংক হিসেবে মোট আমানতের ৮৭ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারে না। সেই হিসাবে ব্যাংকটি ২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সীমার লঙ্ঘন।

আবার এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড ৯৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। কিন্তু এটি ইসলামি ব্যাংক হিসেবে আমানতের ৯২ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। এভাবে ঋণ বিতরণ বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সীমা লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের কিছু ব্যাংককে ঋণ বিতরণে কিছুটা আগ্রাসী মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এসব ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক চলমান রেখেছে। বড় কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঋণ বিতরণের হার ৯২ দশমিক ২২ শতাংশ। কিন্তু ইসলামি ব্যাংক হিসেবে এটি ৯২ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পারে। সেই হিসাবে এটিও দশমিক ২২ শতাংশ ঋণ বেশি বিতরণ করেছে।

রাকাবের এমডি মো. জাহিদুল হক বলেন, ‘যে হারে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঋণ বিতরণে অনিয়ম ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :
জনপ্রিয়

রসিক নির্বাচন ; আ’লীগের মেয়র প্রার্থী ডালিয়ার গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

আগ্রাসী ঋণে ঝুঁকছে ব্যাংক

প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

আমানতকারীদের জামানতের সুরক্ষা দিতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক, চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংক নিয়ম লঙ্ঘন করে আগ্রাসী কায়দায় ঋণ বিতরণ করছে। এভাবে ঋণ-আমানত অনুপাতের (এডিআর) সীমা লঙ্ঘন করে ঋণ বিতরণ করায় ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। আর খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় আমানতকারীরা ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ১০২ দশমিক ২৮ শতাংশ। যদিও প্রচলিত ব্যাংক হিসেবে মোট আমানতের ৮৭ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারে না রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। সেই হিসাবে ব্যাংকটি প্রায় ১৫ শতাংশ ঋণ বেশি বিতরণ করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সীমা লঙ্ঘন। রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক ৮৯ দশমিক ১৪ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। একটি প্রচলিত ব্যাংক হিসেবে মোট আমানতের ৮৭ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারে না ব্যাংকটি। নিয়ম অনুযায়ী, বেসিক ব্যাংক ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। এভাবে ঋণ বিতরণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত ঋণের সীমা লঙ্ঘন।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংকগুলো আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে ঋণ বিতরণ করছে। এতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে কোনো কোনো ব্যাংক সময়মতো গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারে না, যা আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি সৃষ্টি করে।

পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) ঋণ বিতরণ করেছে ৮৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। যদিও এটি প্রচলিত ব্যাংক হিসেবে মোট আমানতের ৮৭ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারে না। সেই হিসাবে ব্যাংকটি ২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সীমার লঙ্ঘন।

আবার এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড ৯৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। কিন্তু এটি ইসলামি ব্যাংক হিসেবে আমানতের ৯২ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। এভাবে ঋণ বিতরণ বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সীমা লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের কিছু ব্যাংককে ঋণ বিতরণে কিছুটা আগ্রাসী মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এসব ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক চলমান রেখেছে। বড় কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঋণ বিতরণের হার ৯২ দশমিক ২২ শতাংশ। কিন্তু ইসলামি ব্যাংক হিসেবে এটি ৯২ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পারে। সেই হিসাবে এটিও দশমিক ২২ শতাংশ ঋণ বেশি বিতরণ করেছে।

রাকাবের এমডি মো. জাহিদুল হক বলেন, ‘যে হারে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঋণ বিতরণে অনিয়ম ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’