ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাজপথে রাজনীতির উত্তাপ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুখোমুখি। মূলত নির্বাচনী সরকারব্যবস্থা নিয়েই তাদের এই অবস্থান। ক্ষমতাসীনদের সাফ কথা- সংবিধান অনুসারেই আগামী নির্বাচন। বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। সব ফয়সালা হবে রাজপথে। দুদলের বিতর্ক পাল্টাবিতর্কের মধ্যেই রাজনীতি এখন মাঠে। চলছে লড়াই, ঘটছে হতাহতের ঘটনাও। যুদ্ধংদেহী এ অবস্থায় উভয় দলই চাইছে মাঠে শক্তি দেখাতে, দখলে নিতে।

আ.লীগ : বিএনপিসহ বাম ও ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো এখন নানা ইস্যুতে প্রায় প্রতিদিনই সরকার পতনের আন্দোলনে রাজপথ গরম রাখছে। এর জবাবে কিংবা তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিহতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোও পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। যা কেন্দ্র করে দেশের অনেক স্থানে হামলা ও সংঘর্ষে ঘটেছে হতাহতের ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, বিএনপি জানমালের ক্ষতি করে লাশের রাজনীতিতে মেতে উঠে সরকার পতনের ইস্যু তৈরি করছে। বিএনপির এমন হীন চিন্তা তারা বাস্তবায়ন করতে দেবেন না বলেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে আছেন। মোট কথা- বিএনপি স্বাভাবিক কর্মসূচিতে নেই। সুতরাং তাদের বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়ারও সুযোগ নেই। যেখানেই বিএনপি কর্মসূচি দেবে, সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিহত করা হবে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৩৪১টি রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৫৪ জন। আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৯ জন। এ সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির ৫৩টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৪ জন, বিএনপির সঙ্গে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৭টি সংঘর্ষ হয়েছে। একই সময় বিএনপির সঙ্গে পুলিশের ১৭টি সংঘর্ষে ৩৬৫ জন আহত ও ২ জন নিহত হন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার নয়াপল্টনে দলের এক কর্মসূচিতে দাবি করেন, সরকার তাদের ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম ও সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হয়েছে মিথ্যা মামলা। সম্প্রতি শাওন, আব্দুর রহিম এবং নুর আলমের মৃত্যুতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা সরকারের পক্ষে কখনো বন্ধ করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ বিএনপি চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এসব পরিসংখ্যান এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের এক কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি লাশ ফেলে আন্দোলন জমানোর অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে। বিএনপির মিথ্যাচারে জনগণের কোনো বিশ^াস নেই, আগ্রহ নেই। বিএনপির নিরলস মিথ্যাচারে জনগণের সাড়া পাবে না।

বিএনপির আন্দোলনের প্রতি কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের অন্য নেতারাও। দলটির সম্পাদক পর্যায়ের এক নেতা জানান, বিএনপিকে পল্টন ও প্রেসক্লাবের বাইরে সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। কোথাও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে রাজধানী ও ঢাকার বাইরে দল এবং সহযোগী সংগঠনগুলোকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এ অবস্থান ধরে রাখবে।

এর আগে একাধিকবার রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে বাধা না দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পরও কেন বিএনপির সমাবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) ফারুক খান বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রতিটি মানুষের সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার। দুঃখের বিষয় আমরা দেখেছি- গত পনেরো বছর যদি আমরা একটু চিন্তা করি বিএনপির সভা-সমাবেশ মানেই রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র অথবা গোলমাল পাকানোর জন্য একটা পন্থা বেছে নেওয়া। পুলিশের সঙ্গে সহিংসতায় জড়িয়ে, পায়ে পা লাগিয়ে গ-গোল পাকিয়ে তারা নিউজে বা আলোচনায় আসতে চায়। আমাদের তরফ থেকে অর্থাৎ আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, আপনারা যদি সভা-সমাবেশ করতে চান করেন, আমাদের আপত্তি নেই; কিন্তু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে করতে হবে। বিএনপি যদি কোনো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চায়, তখন জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার ও তার প্রশাসন অতীতেও জনগণের পাশে ছিল ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি, তারা জনগণকে বলি- এসব হীন উদ্দেশ্যে পরিচালিত সভা-সমাবেশে না যাওয়ার জন্য।’

বিএনপি : রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আলোচনা-সংলাপের অভিজ্ঞতা ‘সুখকর’ না হওয়ায় দলটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে রাজপথ দখলে নিতে চায় তারা। এ আন্দোলনে ক্ষমতাসীনদের আঘাত এলে পাল্টা আঘাত করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের। এরই মধ্যে একাধিক জায়গায় পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টাও করেছে তারা। গত ২২ আগস্ট থেকে সারাদেশে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এসব কর্মসূচিতে ধারাবাহিক হামলা ভাবিয়ে তোলে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে। করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। মতামত নেওয়া হয় তৃণমূলের। সরকার বিএনপিকে ফাঁদে ফেলতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বৈঠক মত উঠে আসে। চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে হামলা-মামলা করে বিএনপিকে মাঠছাড়া করতে চায়- সরকারের এমন মনোভাব বুঝতে পেরে তারা পাল্টা হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। কিন্তু রাজধানীর সমাবেশে হামলার পর সংঘাত এড়ানোর কৌশল থেকে সরে আসে বিএনপি। বিশেষ করে বনানীতে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তরুণ নেতা তাবিথ আউয়াল এবং কুমিল্লায় ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলুর ওপর হামলার পর নীতিনির্ধারকরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মতামত নেন।

এদিকে চলমান কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি অন্যান্য সমমনা দল নিয়ে বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে যুগপৎ আন্দোলনের দিকে এগোচ্ছে বিএনপি। এর প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগির দলটির পক্ষ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। চলতি মাসের শেষ অথবা আগামী মাসের যে কোনো সময় এই রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবে বিএনপি।

যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যুগপৎ আন্দোলনের জন্য সবাইকেই আহ্বান জানিয়েছি। রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও সংগঠন, যারাই এ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে, তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা আন্দোলন করব।

এদিকে চলতি মাসেই বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপ শুরু করবে বিএনপি। এর আগে দলগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে তারা। এ ছাড়া প্রথম দফার সংলাপে অন্য দলগুলো যে দাবি জানিয়েছে, সেসব বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন দলটির মহাসচিবসহ নীতিনির্ধারকরা।

Tag :
জনপ্রিয়

সিলেটে ক্বিন ব্রিজের পাশে হবে আরেকটি ব্রিজ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজপথে রাজনীতির উত্তাপ

প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুখোমুখি। মূলত নির্বাচনী সরকারব্যবস্থা নিয়েই তাদের এই অবস্থান। ক্ষমতাসীনদের সাফ কথা- সংবিধান অনুসারেই আগামী নির্বাচন। বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। সব ফয়সালা হবে রাজপথে। দুদলের বিতর্ক পাল্টাবিতর্কের মধ্যেই রাজনীতি এখন মাঠে। চলছে লড়াই, ঘটছে হতাহতের ঘটনাও। যুদ্ধংদেহী এ অবস্থায় উভয় দলই চাইছে মাঠে শক্তি দেখাতে, দখলে নিতে।

আ.লীগ : বিএনপিসহ বাম ও ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো এখন নানা ইস্যুতে প্রায় প্রতিদিনই সরকার পতনের আন্দোলনে রাজপথ গরম রাখছে। এর জবাবে কিংবা তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিহতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোও পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। যা কেন্দ্র করে দেশের অনেক স্থানে হামলা ও সংঘর্ষে ঘটেছে হতাহতের ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, বিএনপি জানমালের ক্ষতি করে লাশের রাজনীতিতে মেতে উঠে সরকার পতনের ইস্যু তৈরি করছে। বিএনপির এমন হীন চিন্তা তারা বাস্তবায়ন করতে দেবেন না বলেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে আছেন। মোট কথা- বিএনপি স্বাভাবিক কর্মসূচিতে নেই। সুতরাং তাদের বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়ারও সুযোগ নেই। যেখানেই বিএনপি কর্মসূচি দেবে, সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিহত করা হবে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৩৪১টি রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৫৪ জন। আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৯ জন। এ সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির ৫৩টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৪ জন, বিএনপির সঙ্গে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৭টি সংঘর্ষ হয়েছে। একই সময় বিএনপির সঙ্গে পুলিশের ১৭টি সংঘর্ষে ৩৬৫ জন আহত ও ২ জন নিহত হন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার নয়াপল্টনে দলের এক কর্মসূচিতে দাবি করেন, সরকার তাদের ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম ও সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হয়েছে মিথ্যা মামলা। সম্প্রতি শাওন, আব্দুর রহিম এবং নুর আলমের মৃত্যুতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা সরকারের পক্ষে কখনো বন্ধ করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ বিএনপি চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এসব পরিসংখ্যান এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলের এক কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি লাশ ফেলে আন্দোলন জমানোর অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে। বিএনপির মিথ্যাচারে জনগণের কোনো বিশ^াস নেই, আগ্রহ নেই। বিএনপির নিরলস মিথ্যাচারে জনগণের সাড়া পাবে না।

বিএনপির আন্দোলনের প্রতি কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের অন্য নেতারাও। দলটির সম্পাদক পর্যায়ের এক নেতা জানান, বিএনপিকে পল্টন ও প্রেসক্লাবের বাইরে সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। কোথাও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে রাজধানী ও ঢাকার বাইরে দল এবং সহযোগী সংগঠনগুলোকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এ অবস্থান ধরে রাখবে।

এর আগে একাধিকবার রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে বাধা না দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পরও কেন বিএনপির সমাবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) ফারুক খান বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রতিটি মানুষের সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার। দুঃখের বিষয় আমরা দেখেছি- গত পনেরো বছর যদি আমরা একটু চিন্তা করি বিএনপির সভা-সমাবেশ মানেই রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র অথবা গোলমাল পাকানোর জন্য একটা পন্থা বেছে নেওয়া। পুলিশের সঙ্গে সহিংসতায় জড়িয়ে, পায়ে পা লাগিয়ে গ-গোল পাকিয়ে তারা নিউজে বা আলোচনায় আসতে চায়। আমাদের তরফ থেকে অর্থাৎ আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, আপনারা যদি সভা-সমাবেশ করতে চান করেন, আমাদের আপত্তি নেই; কিন্তু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে করতে হবে। বিএনপি যদি কোনো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চায়, তখন জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার ও তার প্রশাসন অতীতেও জনগণের পাশে ছিল ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি, তারা জনগণকে বলি- এসব হীন উদ্দেশ্যে পরিচালিত সভা-সমাবেশে না যাওয়ার জন্য।’

বিএনপি : রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আলোচনা-সংলাপের অভিজ্ঞতা ‘সুখকর’ না হওয়ায় দলটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে রাজপথ দখলে নিতে চায় তারা। এ আন্দোলনে ক্ষমতাসীনদের আঘাত এলে পাল্টা আঘাত করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের। এরই মধ্যে একাধিক জায়গায় পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টাও করেছে তারা। গত ২২ আগস্ট থেকে সারাদেশে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এসব কর্মসূচিতে ধারাবাহিক হামলা ভাবিয়ে তোলে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে। করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। মতামত নেওয়া হয় তৃণমূলের। সরকার বিএনপিকে ফাঁদে ফেলতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বৈঠক মত উঠে আসে। চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে হামলা-মামলা করে বিএনপিকে মাঠছাড়া করতে চায়- সরকারের এমন মনোভাব বুঝতে পেরে তারা পাল্টা হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। কিন্তু রাজধানীর সমাবেশে হামলার পর সংঘাত এড়ানোর কৌশল থেকে সরে আসে বিএনপি। বিশেষ করে বনানীতে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তরুণ নেতা তাবিথ আউয়াল এবং কুমিল্লায় ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলুর ওপর হামলার পর নীতিনির্ধারকরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মতামত নেন।

এদিকে চলমান কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি অন্যান্য সমমনা দল নিয়ে বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে যুগপৎ আন্দোলনের দিকে এগোচ্ছে বিএনপি। এর প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগির দলটির পক্ষ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। চলতি মাসের শেষ অথবা আগামী মাসের যে কোনো সময় এই রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবে বিএনপি।

যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যুগপৎ আন্দোলনের জন্য সবাইকেই আহ্বান জানিয়েছি। রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও সংগঠন, যারাই এ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে, তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা আন্দোলন করব।

এদিকে চলতি মাসেই বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপ শুরু করবে বিএনপি। এর আগে দলগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে তারা। এ ছাড়া প্রথম দফার সংলাপে অন্য দলগুলো যে দাবি জানিয়েছে, সেসব বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন দলটির মহাসচিবসহ নীতিনির্ধারকরা।