ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অর্ধেক এনআইডিতে সমস্যা

দেশে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। ফলে নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের ১০ আঙুলের ছাপও নেই। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে স্মার্টকার্ডবিহীন এই মানুষগুলোর নতুন করে আঙুলের ছাপ নেবে বলে জানিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটির জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুবিভাগ। শনিবার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের ত্রৈমাসিক সভায় নতুন করে আঙুলের ছাপ নেওয়ার এই কার্যক্রমের কথা বলা হয়।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আঙুলের ছাপ নেওয়ার এই কার্যক্রম সম্পন্নের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ১০ আঙুলের ছাপ নিতে গিয়ে জনভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে বলেও তাঁদের ধারণা।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন সুন্দর করার জন্য ইসির যেসব কাজ করার দরকার, সেগুলো ফেলে এসবের পেছনে লেগেছে। নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, সেটা আগে দেখা দরকার। যেনতেন নির্বাচন করলে হবে না। তাই এসব কাজ (৯ মাসে আঙুলের ছাপ নেওয়া) নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে বলে আমার সন্দেহ আছে।’

ইসি সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ১১ কোটি ৩২ লাখ। এর মধ্যে ৬ কোটি ভোটার স্মার্ট এনআইডিধারী। বাকি প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষ এখনো স্মার্ট এনআইডির আওতার বাইরে। ফলে বড় একটি অংশের ১০ আঙুলের ছাপ নেই ইসির কাছে। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগেই তড়িঘড়ি করে ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সভায় এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমরা যেহেতু আগামী ভোট (জাতীয় নির্বাচন) আরও সুন্দর করতে চাই, এ কারণে আমাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট আপডেট করতে হবে। যাঁরা স্মার্টকার্ড নিয়েছেন, তাঁরা ১০ আঙুলের ছাপ দিয়েছেন। যাঁরা ১০ আঙুলের ছাপ দেননি, আগামী জানুয়ারি থেকে আমরা তাঁদের ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা সেবা দিই। কিন্তু গতি বাড়াতে না পারলে নাগরিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

সততা ও আন্তরিকতা যদি থাকে, তাহলে আমরা পারব। অতীতের চেয়ে গতি বেড়েছে, কিন্তু আরও বাড়াতে হবে।’ সভায় জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে নতুন করে আঙুলের ছাপ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও হালনাগাদ হওয়া ভোটার তালিকা ২ মার্চ চূড়ান্ত করা হবে। ফলে এই কার্যক্রম শেষ করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বিপত্তির মুখেও পড়তে হতে পারে ইসিকে।

আঙুলের ছাপ নেওয়া কোনো বড় কথা নয়, এর মধ্যে অন্য ফন্দি আছে বলে মনে করছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, কারচুপির সুযোগ আছে বিধায় বিশ্বের উন্নত অনেক দেশ যেখানে ইভিএম থেকে সরে এসেছে, সেখানে এই নির্বাচন কমিশনের ইভিএম নিয়ে অতি উৎসাহ এটাই প্রমাণ করে যে, সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নয়, তারা মূলত আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি করার জন্যই কাজ করছে। আর এ ক্ষেত্রে লুটপাটেরও একটা সুযোগ আছে।

জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে তো কোনো কিছু না করলেই বিতর্ক হয়। সেখানে এই ধরনের সিদ্ধান্তে অবশ্যই বিতর্ক হতেই পারে। এগুলোর মধ্যে ইভিএমে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্তে না যাওয়াই ভালো ছিল।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রিফাত শাহরিয়ার বলেছেন, সাড়ে ৫ কোটি মানুষের আঙুলের ছাপ নতুন করে নেওয়া সহজ কাজ নয়। কারিগরি সমস্যার চেয়ে ৯ মাসের মধ্যে এত বিপুল মানুষকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে হয়। তিনি বলেন, প্রতি মাসে ২০ দিন করে কার্যদিবস ধরলে ৯ মাসে ১৮০টি কার্যদিবস পাওয়া যায়। যদি ৫ কোটি মানুষও যদি হয়, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিতে হবে। এনআইডি প্রদানের সময় যেমন আয়োজন করা হয়েছিল তেমন আয়োজন ছাড়া এটা করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

Tag :
জনপ্রিয়

রামপালে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা আটক-৬

অর্ধেক এনআইডিতে সমস্যা

প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

দেশে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। ফলে নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের ১০ আঙুলের ছাপও নেই। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে স্মার্টকার্ডবিহীন এই মানুষগুলোর নতুন করে আঙুলের ছাপ নেবে বলে জানিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটির জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুবিভাগ। শনিবার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের ত্রৈমাসিক সভায় নতুন করে আঙুলের ছাপ নেওয়ার এই কার্যক্রমের কথা বলা হয়।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আঙুলের ছাপ নেওয়ার এই কার্যক্রম সম্পন্নের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ১০ আঙুলের ছাপ নিতে গিয়ে জনভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে বলেও তাঁদের ধারণা।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন সুন্দর করার জন্য ইসির যেসব কাজ করার দরকার, সেগুলো ফেলে এসবের পেছনে লেগেছে। নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, সেটা আগে দেখা দরকার। যেনতেন নির্বাচন করলে হবে না। তাই এসব কাজ (৯ মাসে আঙুলের ছাপ নেওয়া) নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে বলে আমার সন্দেহ আছে।’

ইসি সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ১১ কোটি ৩২ লাখ। এর মধ্যে ৬ কোটি ভোটার স্মার্ট এনআইডিধারী। বাকি প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষ এখনো স্মার্ট এনআইডির আওতার বাইরে। ফলে বড় একটি অংশের ১০ আঙুলের ছাপ নেই ইসির কাছে। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগেই তড়িঘড়ি করে ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সভায় এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমরা যেহেতু আগামী ভোট (জাতীয় নির্বাচন) আরও সুন্দর করতে চাই, এ কারণে আমাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট আপডেট করতে হবে। যাঁরা স্মার্টকার্ড নিয়েছেন, তাঁরা ১০ আঙুলের ছাপ দিয়েছেন। যাঁরা ১০ আঙুলের ছাপ দেননি, আগামী জানুয়ারি থেকে আমরা তাঁদের ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা সেবা দিই। কিন্তু গতি বাড়াতে না পারলে নাগরিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

সততা ও আন্তরিকতা যদি থাকে, তাহলে আমরা পারব। অতীতের চেয়ে গতি বেড়েছে, কিন্তু আরও বাড়াতে হবে।’ সভায় জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে নতুন করে আঙুলের ছাপ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও হালনাগাদ হওয়া ভোটার তালিকা ২ মার্চ চূড়ান্ত করা হবে। ফলে এই কার্যক্রম শেষ করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বিপত্তির মুখেও পড়তে হতে পারে ইসিকে।

আঙুলের ছাপ নেওয়া কোনো বড় কথা নয়, এর মধ্যে অন্য ফন্দি আছে বলে মনে করছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, কারচুপির সুযোগ আছে বিধায় বিশ্বের উন্নত অনেক দেশ যেখানে ইভিএম থেকে সরে এসেছে, সেখানে এই নির্বাচন কমিশনের ইভিএম নিয়ে অতি উৎসাহ এটাই প্রমাণ করে যে, সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নয়, তারা মূলত আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি করার জন্যই কাজ করছে। আর এ ক্ষেত্রে লুটপাটেরও একটা সুযোগ আছে।

জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে তো কোনো কিছু না করলেই বিতর্ক হয়। সেখানে এই ধরনের সিদ্ধান্তে অবশ্যই বিতর্ক হতেই পারে। এগুলোর মধ্যে ইভিএমে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্তে না যাওয়াই ভালো ছিল।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রিফাত শাহরিয়ার বলেছেন, সাড়ে ৫ কোটি মানুষের আঙুলের ছাপ নতুন করে নেওয়া সহজ কাজ নয়। কারিগরি সমস্যার চেয়ে ৯ মাসের মধ্যে এত বিপুল মানুষকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে হয়। তিনি বলেন, প্রতি মাসে ২০ দিন করে কার্যদিবস ধরলে ৯ মাসে ১৮০টি কার্যদিবস পাওয়া যায়। যদি ৫ কোটি মানুষও যদি হয়, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিতে হবে। এনআইডি প্রদানের সময় যেমন আয়োজন করা হয়েছিল তেমন আয়োজন ছাড়া এটা করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।